আবারও ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য হ্যাকারদের দখলে

haker.jpg

আইটি ডেস্ক |
হ্যাকাররা অন্তত ৮১ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মেসেজ ও সেসব অ্যাকাউন্টের তথ্য বিক্রি করেছে। হ্যাকাররা স্বীকার করেছে, তাদের কাছে অন্তত ১২ কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য রয়েছে যা তারা বিক্রি করার জন্য চেষ্টা করছে।

তবে সংখ্যাটি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে বলে বলছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ফেসবুক বলছে, তারা নিরাপত্তা বিষয়টিতে কারও সঙ্গে কখনও আপস করেননি। এমনকি হ্যাকারদের কাছে যে ডেটা থাকার কথা বলছে, তা কোনো ব্রাউজার এক্সটেনশন থেকে নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে ফেসবুক।

তবে ফেসবুক আক্রান্ত অ্যাকাউন্টগুলোর ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নেবে বলেও জানায়। যে তথ্যগুলো হ্যাকাররা তাদের কাছে আছে দাবি করছেন এবং বিক্রি করেছেন সেগুলো মূলত ইউক্রেন ও রাশিয়ার ব্যবহারকারীদের।

তবে এর বাইরেও কিছু যুক্তরাজ্যের, যুক্তরাষ্ট্রের, ব্রাজিল এবং আশপাশের কয়েকটি দেশের ব্যবহারকারীর তথ্য। হ্যাকাররা প্রতিটি অ্যাকাউন্টে তথ্য আট সেন্টে বিক্রি করার বিজ্ঞাপন দিয়েছে। প্রথমে এমন বিজ্ঞাপন অনলাইনে থাকলেও এখন সেটি অফলাইনে নেয়া হয়েছে। ফেসবুকের একজন নির্বাহী গাই রোসেন বলেন, পরিচিত ব্রাউজার নির্মাতাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি।

তাদের এক্সটেনশন ব্যবহার করে যেন কেউ ফেসবুক থেকে গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিতে না পারে সেজন্য তাদের সঙ্গে আমরা কাজ করতে চাই এবং তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি বলেন, আমরা স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, হ্যাকাররা যে ওয়েবসাইটে তাদের তথ্য বিক্রির তালিকা ঝুলিয়েছে সেটা শনাক্ত করে যেন তারা ব্যবস্থা নেন। তথ্য হাতানোর এ খবরটি প্রথম জনসম্মুখে আসে গত সেপ্টেম্বরে।

তখন ফেসবুকের এক ব্যবহারকারী যার ছদ্মনাম ‘এফবিসেলার’ ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির জন্য একটি পোস্ট দেন। এটি দেয়া হয় একটি জনপ্রিয় ‘ইংলিশ লার্নিং ইন্টারনেট ফোরামে।’ সেখানে ওই আইডি থেকে লেখা হয়, আমরা ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করতে চাই।

আমাদের কাছে ১২ কোটি অ্যাকাউন্টের তথ্য রয়েছে। রাশিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল শ্যাডো জানিয়েছে, তারা হ্যাকারদের দেয়া ৮১ হাজার অ্যাকাউন্টের ওই তথ্যগুলো পরীক্ষা করে দেখেছে। এর সত্যতাও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ ছাড়া অন্তত এক লাখ ৭৬ হাজার অ্যাকাউন্টের সাধারণ তথ্যগুলোও পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। এর মধ্যে রয়েছে, অ্যাকাউন্টের নাম, ইমেইল, ফোন নম্বর। বিবিসি বিষয়টি নিশ্চিত করে আপলোড করা ওসব তথ্যের সূত্র ধরে পাঁচজন ব্যবহারকারীকে খুঁজে বের করে এবং কথা বলে। তারা তথ্যগুলো তাদের বলে জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top