গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক

COMMUNITY-1-715x400.jpg

ডেস্ক নিউজ :
বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের মধ্যে অন্যতম হলো কমিউনিটি ক্লিনিক। কমিউনিটি ক্লিনিকের ধারণাটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চিন্তা থেকে এসেছে। কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্বাস্থ্য সহকারীরা তাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা প্রদান করছেন। বর্তমানে দেশে ১৩ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত ঈর্ষণীয়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রামে দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ-সুবিধা কম। কমিউনিটি ক্লিনিক এসব মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক সহযোগিতা করছে। এ ক্লিনিক স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একটি বিপ্লবের নাম, এ বিপ্লব শুরু করেছিল বর্তমান সরকার। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির তালিকায় স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ছিল ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পূর্বতন আওয়ামী লীগ সরকারের (১৯৯৬-২০০১) প্রণীত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি পুনর্মূল্যায়ন করে যুগের চাহিদা অনুযায়ী নবায়ন করা হবে’। এই নীতির আলোকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠিত ১৩ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিক চালু হয়। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার।

দেশের গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের ভূমিকা ব্যাপক। যথাঃ

(১) দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বাড়ীর দোরগোড়ায় অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে পাচ্ছে।

(২) উক্ত ক্লিনিকের সেবার মাধ্যমে গ্রামের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন হচ্ছে ।

(৩) স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ প্রদানের মাধ্যমেও এই ক্লিনিক স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

(৪) প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পরিবার পরিকল্পনা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, যক্ষ্মা রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা, অপুষ্টিজনিত রোগের চিকিৎসা, যৌনবাহিত রোগের চিকিৎসা, এইচআইভি/এইডস শনাক্তকরণ, সকল প্রকার সাধারণ রোগের চিকিৎসা প্রভৃতি ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কমিউনিটি ক্লিনিক খুবই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

(৬) দ্রুততম সময়ের মধ্যে তৃণমূল জনগণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে কমিউনিটি ক্লিনিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এছাড়াও, এসব ক্লিনিকে বিভিন্নপ্রকার ঔষধ বিনামূল্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করা হয়। নারীদের সন্তান প্রসবের বিভিন্ন উপকরণ রয়েছে এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে। প্রচণ্ড দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় কারো ডায়রিয়া, শিশুসন্তান অসুস্থ হলে বাড়ির পাশের এই কমিউনিটি ক্লিনিক একান্ত ভরসা হিসেবে কাজ করছে। সরকারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোই গরিব মানুষের ভরসা। উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র এগুলোই গরিব মানুষের স্বাস্থ্য সেবার প্রধান আশ্রয়স্থল।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top