টেকনাফে পেটের ভিতর ইয়াবা পাচার করতে গিয়ে অসুস্থ কিশোর, ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টায় জড়িতরা

yaba_67890-.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ টুডে ডটকম :
ইয়াবার পুটলা গিলে পাচার করতে গিয়ে এক কিশোর অসুস্থ হওয়ার খবরে এলাকায় তোলপাড় চলছে। ঘটনাটি ঘটছে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতলী গ্রামে। এ ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করছে ইয়াবা সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা যায়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকার কবির আহমদ ওরফে আজলের পুত্র অলি আহমদ বাপ্পী (১৭) পাচারের উদ্দেশ্যে ইয়াবার পুটলা গিয়ে খায়। ইয়াবার মালিক একই এলাকার মোহাম্মদ হোছাইন ওরফে সরকার এর পুত্র ইউনুছ প্রকাশ ফোয়াড্ডী’র (২৯) উক্ত ইয়াবার চালান পেটের ভিতর করে পাচারের উদ্দেশ্যে গত কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামের নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে ইয়াবা বের করতে না পেরে পাচারকারী কিশোর অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থাবস্তায় সে টেকনাফে নিজ বাড়ীতে ফিরে আসে।

এনিয়ে পাচারকারী ও ইয়াবার মালিক দুই পরিবারের মাঝে বাকবিতন্ডা চলে। বাপ্পীর আত্মীয় স্বজন সূত্রে জানা যায় গুরুতর অসুস্থাবস্থায় শুক্রবার বাপ্পী বাড়ীতে আসে। গুরুতর অসুস্থ দেখে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে সে ইয়াবার পুটলা গিলে খায় এবং বের করতে পারেনি। কিশোরের অসুস্থ্যতা বেড়ে গেলে তাকে গত শনিবার কক্সবাজার নিয়ে গোপনে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে শিশুটি আশংকাজনক অবস্থায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গত রবিবার দুপুরে ইয়াবার মালিক ইউনুছ ফোয়াড্ডীকে তার স্ত্রী সহ আটক করে বাপ্পীর আত্বীয় স্বজনরা মারপিট করে। পরে স্থানীয় নুরুল বশর নামের এক ব্যক্তির মধ্যস্ততায় শালিসে বসে চিকিৎসার ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এই নুরুল বশর নিজেও একজন ইয়াবার বড় কারবারী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মো. আমিন, নুরুল আমিন, আব্দুল আমিন, সৈয়দ নুর, অলি আহমদ সহ বেশ কয়েকজন রয়েছে এই সিন্ডিকেটে। এদের মধ্যে আব্দুল আমিন ও সৈয়দ নুর ২৫ হাজার ইয়াবা নিয়ে র‌্যাব এর হাতে আটক হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে।

এব্যাপারে স্থানীয় ইউপি মেম্বার শাহ আলম জানান, ঘটনার কথা তিনি লোকমুখে শুনেছেন। এব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনে প্রশাসনের সহযোগীতা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত আইন শৃংখলা বাহিনীর তদারকি বেড়ে যাওয়ায় ইয়াবা কারবারীরা দরিদ্র ও অসহায় কিশোর-নারীদের এভাবে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে ইয়াবা পাচারে প্ররোচিত করে আসছে। এব্যাপারে আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন তারা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কিশোরটি শংকামুক্ত নয় বলে জানা গেছে। গিলে খাওয়া ইয়াবার পরিমান ৩ হাজার বলে জানিয়েছে সূত্র।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top