ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে ত্রিমুখী কোন্দলে ফখরুল, আব্বাস ও রিজভী

3-leader.jpg

নিউজ ডেস্ক: ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে নতুন করে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন বিএনপি নেতারা। টাকা খেয়ে নিজেদের পক্ষের ছাত্র নেতাদের পদ দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন মির্জা ফখরুল, মির্জা আব্বাস এবং রিজভী আহমেদ। ত্রিমুখী কোন্দলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কমিটির পদপ্রার্থীরা। রাজনৈতিক গুরুরা প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত হয়ে নষ্ট চরিত্র তুলে ধরায় হতাশ হয়ে পড়েছেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। বিরোধী দলে থেকেও যদি ছোট একটি কমিটি নিয়ে যে পরিমাণ দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হয়েছে, তাতে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ছাত্রদলের কর্মীরা। যদি কোনদিন ক্ষমতায় যায় বিএনপি তবে এই নেতারা কিভাবে দলটিকে বিক্রি করবে, সেটি নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করছেন তারা।

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর অবস্থায় ছিল ছাত্রদলের কমিটি। ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি আর মামুনুর রশিদ মামুনকে সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সেই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। বিরোধী দলে থাকলেও ছাত্রদলের কমিটি কয়েক অংশে বিভক্ত ছিল। ছাত্র রাজনীতি করলেও কর্মীরা চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে সরাসরি মির্জা ফখরুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, রিজভী আহমেদের সাথে যোগাযোগ করে, পয়সা দিয়ে কমিটিতে ভাল পদ পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন কিছু ছাত্রনামধারী যুবকরা। ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির চেইন অব কমান্ড অনেকটা ভেঙে গেছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমে নেমে এসেছে স্ববিরতা। কমিটি গঠনের পর পদবঞ্চিতদের সম্ভাব্য বিদ্রোহের আশঙ্কা থাকলেও ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে চক্রান্ত চলছে। বর্তমান কমিটির প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে ছাত্রদলের বড় একটি অংশ।

এদিকে ছাত্রদলের কমিটি গঠন নিয়ে একাধিক গোপন বৈঠকে তর্কে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির সিনিয়র তিন নেতা। সম্প্রতি একটি বৈঠকে মির্জা আব্বাস ও রিজভী আহমেদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। রিজভী আহমেদ পরীক্ষিত, ত্যাগী ছাত্র নেতাদের পদ দেওয়ার কথা বললেও আসলে তিনিও একটি অছাত্র মহলের টাকা খেয়ে তাদের পদ দেওয়ার পক্ষে। এদিকে মির্জা আব্বাস কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢাকার ছেলেদের প্রাধান্য দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

অন্যদিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম উত্তরবঙ্গের সরল ছাত্র নেতাদের হাতে ছাত্রদলের দায়িত্ব দিতে আগ্রহী। এই ত্রিমুখী টানাপোড়নে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন ছাত্রদলের কর্মীরা। ক্ষমতায় না থাকতেই যদি এমন অবস্থা হয় তবে ক্ষমতায় গেলে এই নেতারা যে বিদেশি শত্রুর হাতে দেশকে বিক্রি করে দিবে না, সেটি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন আগামীর রাজনীতিকরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top