খালেদাকে ভুলতে বসেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা?

1-16.jpg

: কথায় আছে, চোখের আড়াল হলেই নাকি মানুষ মনের আড়াল হয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দোষী সাব্যস্ত হয়ে প্রায় ছয় মাস ধরে কারাবন্দি আছেন। এর মধ্যেই ধূসর হতে শুরু করেছে খালেদা জিয়ার সাথে দলীয় নেতা-কর্মী, আইনজীবী এবং ঘনিষ্ঠজনদের সম্পর্ক। এখন তেমন কেউ তার সাথে সাক্ষাৎ করছেন না। ভাই-বোনরাও ক্রমশ বেগম জিয়ার দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামার কথা নেতা-কর্মীদের মুখ থেকে প্রথমদিকে শোনা গেলেও সে আন্দোলনের ছিটে-ফোঁটাও চোখে পড়েনি। নেতারা যেটুকু না বললেই নয়, সেটুকুই বলছেন। বেগম জিয়ার মুক্তির আশা ছেড়ে দিয়েছেন নেতা-কর্মীরা। সবাই এখন যার যার মতো ব্যস্ত। যদিও বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলছেন, রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনা হবে। কিন্তু আন্দোলনের কোনো আলামত এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। প্রথম দিকে বেগম জিয়ার আইনজীবীরা জামিনের জন্য কিছুদিন খুব দৌড়ঝাঁপ করেছেন। বেগম জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতও করতেন। আইনজীবীরাও এখন বুঝে গেছে আপাতত বেগম জিয়ার মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই। বেগম জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া বলেছেন, ‘বেগম জিয়াকে মামলার জালে জড়িয়ে ফলা হয়েছে। আইনি পথে সহসা মুক্তির কোনো সম্ভাবনা দেখছি না।’

প্রথম রোজায় খালেদা জিয়ার সাথে তার ভাইবোনরা দেখা করতে আসলেও এরপর তার সাথে দেখা করার জন্য কেউই যাননি জেলখানায়। কারা সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, ডিভিশন প্রাপ্ত একজন দণ্ডিত কয়েদী মাসে দুবার সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করছেন না তার আত্মীয় পরিজনরাও। প্রথমদিকে যেভাবে শুকনো খাবার স্বজনদের কাছ থেকে আসতো তার জন্য, তার পরিমাণও এখন কমে গেছে। বেগম জিয়ার অসুস্থতা নিয়েও প্রথমে কিছুদিন হৈ চৈ চললেও এখন সে কথাটি তুলছেন না কেউ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে চললে একদিন হয়তো সবাই ভুলেই যাবে খালেদা জিয়াকে। ছয় মাসের অনুপস্থিতিতে খালেদা জিয়াকে যেভাবে ভুলতে বসেছে তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং কাছের মানুষেরা, তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কতটুকু বিশ্বাস এবং ভালবাসা অবশিষ্ট আছে তাদের নেত্রীর জন্য, তাই এখন বড় প্রশ্ন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top