দুইদিন আগে গবাদি পশুর বোটে ১২ লাখ ইয়াবার চালানটি আসে আরমানের কাছে

Arman-fffttt.jpg

শাহপরীরদ্বীপের ইয়াবা স¤্রাট আরমানের অপকর্মের গোমর ফাঁস

স্টাফ রিপোর্টার :
শাহপরীরদ্বীপে সম্প্রতি পুলিশ ও কোষ্টগার্ড বাহিনীর পৃথক অভিযানে ২লাখ পিস ইয়াবাসহ কথিত মাওঃ আরমান, আটকের পর তার বিরুদ্ধে চোরাচালানের বিভিন্ন অপকর্মের গোমর ফাঁস হতে চলেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কথিত মাওঃ আরমান দেশের যে ক’জন মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে তার মধ্যে সে একজন। ধর্মীয় মাওঃ মূখোশ পড়ে সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও পাচার করে আসছিল। তার সাথে পাশ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারের মংডু শহরের মাদক ডনের সাথে সখ্যতা থাকায় শাহপরীরদ্বীপের জালিয়া পাড়া, জেটি ঘাট, দক্ষিণ পাড়া সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে বানের ¯্রােতের ন্যায় বস্তা বস্তা ইয়াবা ছাড়া ও স্বর্ণ নিয়ে আসে বলে একাধিক সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
তথ্য মতে ইয়াবা ডন মাওঃ আরমানের রয়েছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ১০-১২ জনের এ সিন্ডিকেটের হোতা এই মাওঃ আরমান। প্রশ্ন উঠেছে, শাহপরীরদ্বীপে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট বিজিবি ও কোষ্টগার্ড বাহিনীর কড়া নজরধারী এবং টহল জোর থাকার পরও বড় মাপের ইয়াবার চালান কিভাবে মওজুদ করা হলো এ নিয়ে পুরো সীমান্ত এলাকা জোড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আসন্ন কোরবানকে সামনে রেখে দেশে মাদক বিরোধী অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে নীরবে মাদক ব্যবসা করে আসছিল। পরে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ গোপন তথ্যের ভিক্তিতে ৫ আগষ্ট (রবিবার) রাতে বসতভিটার সুপারী বাগানের মাঠিতে পুতে রাখা ড্রাম থেকে ১ লাখ ৭০ পাজার পিস ইয়াবাসহ কথিত মাওঃ আরমানকে হাতে নাতে আটক করে। সে শাহপরীরদ্বীপের পূর্ব উত্তর পাড়ার মৃত নুরুল হক প্রকাশ নুরু মেম্বারের ছেলে। পরবর্তীতে স্থানীয় কোষ্টগার্ড বাহিনী একই স্থান থেকে আরো ৩০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে। স্থল পথে শাহপরীরদ্বীপের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটলে ইয়াবা ডন মাওঃ আরমান গং এ সুযোগকে পুঁজি করে মাদকের কালোটাকায় ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে।
সূত্রে আরো জানা যায়, শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়ার শীর্ষ মানব পাচারকারী চক্রের সাথে হাত মিলিয়ে এ সিন্ডিকেটটি গড়ে উঠে। ইয়াবা স্বর্ণ ও গোল্ড পাথর প্রবেশের নিরাপদ স্থান হচ্ছে, এই জালিয়াপাড়া। মিয়ানমার সীমান্তের মংডু উপ-শহরের বরাবর শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়া, মৎস্য আহরন নামে মাত্র, বাস্তবে চলে চোরাচালান। চোরাকারবারীরা জেলেবেসে নেপথ্যে ইয়াবা, স্বর্ণ, গোল্ড পাথর ও মানব পাচারসহ চোরাচালানের সাথে জড়িত। ওরা সীমান্ত প্রহরী এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে ম্যানেজ করেই কালো ব্যবসা করে আসছে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, দেশ ব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান চলমান এবং মাদক নিমূলে টেকনাফ পাঁচ ইউনিয়নে ৫টি র‌্যাব ক্যাম্প স্থাপিত হলে অন্যান্য মাদক ব্যবসায়ীরা বেকায়দায় পড়ে গেলেও মৌলভী বেশধারী আরমান নির্বিঘেœ চালাতে থাকে মাদক ব্যবসা। জানা যায়, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ২ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের দুইদিন আগে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশুর ট্রলারে ১২ লাখ ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে নিয়ে আসে আরমান সিন্ডিকেট। মাঝ সাগরে গবাদি পশুর ট্রলার থেকে ছদ্মবেশী ৩/৪টি ফিশিং ট্রলারে ভাগ করে এই চালানটি কূলে নিয়ে আসে সিন্ডিকেট সদস্যরা। পরবর্তীতে সেই বিশাল চালান থেকে ২লাখ ইয়াবা পুলিশ ও কোস্টগার্ড উদ্ধার করলেও বাকি ইয়াবা কোথাও গোপনে মজুদ রয়েছে এমন দাবী নির্ভরযোগ্য সূত্রের। আরমানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ইয়াবা কারবারের বহু গোপন তথ্য সহ বাকি ইয়াবা ও স্বর্ণের চালানের খবর বেরিয়ে আসবে বলে দাবী সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এদিকে আরমান একজন বড় মাপের মাদক ব্যবসায়ী হলেও কেন ? সরকারী গোয়েন্দার নজরে ছিলনা। বিষয়টি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

এছাড়া মাদক পাচারে বেশ ক’জন সুন্দরী মহিলা আরমানের রয়েছে এরা নামিদামি বোরকা পড়ে দেশের রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক পাচার করে আসছে। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা আদম ও মাদক ব্যবসা করে ওরা কালোটাকার পাহাড় বনে গেছে। ওদের আয় ও ব্যয়ের হিসাব নিলে এর প্রকৃত রহস্য বের হয়ে আসবে। দৃশ্যমান কোন ব্যবসা বাণিজ্য নেই, কিভাবে ওরা এতো অর্থের মালিক বনে গেলেন। এ নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন। কথিত মাওঃ আরমান আটক হলে, আইন শৃংখলা বাহিনীকে চমকপ্রদ অনেক তথ্য দিয়েছে।

জানা যায়, আরমানের টেকনাফ কৃষি ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংকে একাধিক হিসাব নং রয়েছে। তথ্যানুযায়ী মাদকসহ আরমানের বিভিন্ন ভয়ঙ্কর তথ্য গোমর ফাঁস হয়েছে।

অপরদিকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে আরো জানা গেছে, শীর্ষ ইয়াবা গডফাদাররা বর্তমানে আত্মগোপনে থাকলেও ছদ্মবেশী ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে গবাদি পশু আমদানী অব্যাহত রেখেছে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে গবাদি পশুর ট্রলারে ইয়াবার চালান নিয়ে আসা। মাঝ সাগরে সেইসব চালান ফিশিং ট্রলারের মাধ্যমে খালাস হয়ে ঢুকে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে। সচেতন মহলের মতে মিয়ানমার থেকে আসা গবাদি পশু ও স্থল বন্দরের পন্য বাহী ট্রলার গুলো বাংলাদেশ জলসীমায় ঢুকার মুহুর্তে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মাধ্যমে যাতে তল্লাশী করা হয়। অন্যথায় ইয়াবার চালান ঠেকানো অসাধ্য হয়ে উঠবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top