টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ দপ্তরে জ্বিনের আচর : তাবিজ দেবে কে ? টমটম ও অটোরিক্সা ঘিলে খাচ্ছে বিদ্যুৎ

pollybiddut-22.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী :
টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসটি ভূতের আচরে আক্রান্ত, তাবিজ দেবে কে? যদিও এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান হলেও গ্রাহকগণ এ দপ্তর থেকে কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ দপ্তর নিয়ে প্রতিবেদক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে যে সব তথ্য উপাত্য এবং অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসটি অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির এক আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এ দপ্তরের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে, ভৌতিক বিদ্যুৎ বিল, লোডশেডিং, গ্রাহক প্রতারণা, চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবারহ না করা, বিদ্যুৎ ভোলটেজ কম, বিদ্যুৎ বিল তৈরীতে লুকোচুরি, আস্থাহীনতা, খুটী বাণিজ্য, বনভূমিতে বিদ্যুৎ সরবারহ, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের বিল বৈধ গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দেয়া, টমটম গাড়ী, অটোরিক্সায় বিদ্যুৎ প্রদানসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতিতে এ দপ্তরটির সর্ব অঙ্গে চেয়ে আছে। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিস সূত্রে জানা যায় টেকনাফে ৩৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। বিদ্যুতের চাহিদা ১৪ মেগাওয়াট। তার স্থলে বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ৬টি ফিডারের মাধ্যমে পালাবদলে বিদ্যুৎ দেয়া হচ্ছে। নিয়মিত চলছে, লোড শেডিং ও বিদ্যুতের ভেলকিভাজী। প্রত্যান্ত অঞ্চলে খোজ নিয়ে জানা যায়, দৈনিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ পাচ্ছে, মাত্র ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা। অথচঃ বিদ্যুৎ বিল দেয়া হচ্ছে, ২৪ ঘন্টায়। টেকনাফ পৌর শহরের ব্যবসায়ীরা জানায় প্রতিনিয়তই পৌর শহরে চলছে, লোডশেডিং এবং অনেক সময় বিদ্যুতের দেখা মিলেনা। সরকারের প্রতিশ্রুত অনুযায়ী ২০১৮ সালের পূর্বে প্রতি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছা যাবে এবং জুনের পর থেকে লোড শেডিং থাকবে না। কিন্তু এর পরও লোড শেডিং অব্যাহত রয়েছে। ৩৫ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক আজ টেকনাফ পল্লী বিদ্যুতে জোনাল অফিসের কাছে জিম্মি। এ দপ্তরটি বিদ্যুৎ সংযোগ ও সরবারহ দেয়ার নামে গ্রাহকের পকেট কাটছে এবং পদে পদে প্রতারনার শিকার হচ্ছে। ক্রমন্নয়ে এ দপ্তরটি গ্রাহকের আস্থা ও বিশ্বাস হারাতে বসেছে। এ দপ্তরে গ্রতি মাসে গ্রাহকেরা কোটি কোটি টাকা বিদ্যুৎ খাতে অর্থ জমা দিলেও কাংখিত সেবা পাচ্ছে না। প্রতিদিন শত শত বিদ্যুৎ গ্রাহক এ প্রতিষ্ঠানে সেবা নিতে আসলে, তাদের জন্য বসা এবং অবস্থানের জন্য কোন স্থান নেই। সারাক্ষণ রাস্তা ও বারান্দায় দাড়িয়ে থাকতে হয়। এ কেমন ব্যবস্থা। পরিবর্তন ও পরিবর্ধন হচ্ছেনা এদপ্তরের কার্যক্রম। পল্লী বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রবেশ পথের রাস্তাটি জীন্ন ও শীন্ন অবস্থায় গ্রাহকেরা ভোগান্তির শিকার হয়। এ দপ্তরের অভ্যন্তরে উন্নয়নের ছোয়া লাগছেনা। ১৯৯১ ও ৯৪ সালের ঘূর্নীঝড়ের ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের উন্নয়ন বিহীন পড়ে আছে। এটি এখন কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়েছে। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, টেকনাফে প্রায় দেড় হাজার টমটম গাড়ী ও অটো রিক্সা রয়েছে। যাহা অবৈধ হলেও এখানে স্বাধীনভাবে চলছে। গ্রাহকের প্রাপ্তির চাহিদা বিদ্যুৎ অবৈধ যানবাহন টমটম ও অটো রিক্সার পেটেই চলে যাচ্ছে। সন্ধার পর বিদ্যুতের ভোল্টেজ থাকেনা। লাইটে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলো থাকেনা এবং পাকা ও ঘুরেনা। এমনকি টেলিভিশনের ছবিও দেখা মিলেনা। টেকনাফ পৌর শহরের, পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যং পাড়া সংলগ্ন বৈদ্যঘোনা, আমির আহমদ ঘোনা ও ফকিরার মোরার সংরক্ষিত বনভূমিতে বিদ্যুতের খুটী ও সংযোগের আয়োজন চলছে। অনেকের ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে। আলো এবং জনবসতির কারণে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর আনাগোনাও সংখ্যা হ্রাস হাচ্ছে। অতীতে বন সংরক্ষক নামে হাতী বা মামার দেখা মিললেও বর্তমানে তার হদিস ও পাওয়া যাচ্ছেনা। বনে হাতী বিলোপ্তীর কারণে, বন ন্যাড়া মাথায় পরিনত হচ্ছে এবং সংরক্ষিত বনটি হয়ে যাচ্ছে জনগণের আবাসস্থল। বনের পাদদেশের জায়গায় পাকা ভবন প্লট নিমার্ণসহ অবৈধ দখলে চলে যাচ্ছে। অথচঃ বনবিভাগ এনিয়ে বেখবর। উপজেলা প্রশাসন এবং বিশেষ ব্যক্তি এলাকায় ভিআইপি নামক সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সরবারহ করে বাকীদের অন্ধকারে রেখেছে। এভাবে বিদ্যুৎ গ্রাহকগণ বৈশম্যের শিকার হচ্ছে। অতি সম্প্রতি হ্নীলায় বিদ্যুতের দাবীতে মানববন্ধন হয়েছিল। এতেও গ্রাহকেরা সুফল পাচ্ছেনা। টেকনাফ উপজেলা আঃলীগের সভাপতি এবং সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোঃ আলী এবং জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শফিক মিয়া বলেন, টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণে সরকারের ভাবমুর্তী ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ দপ্তরের অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার সীমা ছড়িয়ে গেছে। দুর্নীতি দমন বিভাগকে বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের কর্মরত ডিজিএম এ প্রসংগে বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং শীগ্রয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top