হোয়াইক্যংয়ে চোরাইপণ্যে ৩ কোটি টাকার ইয়াবা : এখনো তৎপর মাদক চোরাকারবারীরা

Teknaf-Pic-A-11-06-18.jpg

সাদ্দাম হোসাইন : টেকনাফে মাদক বিরোধী অভিযানে চরম উত্তপ্ত সময়েও চোরাচালানীরা থেমে নেই। প্রাণঘাতি অভিযান জোরদার হলেও কৌশল পরিবর্তন করে বিভিন্ন পয়েন্টে চোরাকারবারীদের অপতৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তরক্ষী বিজিবি জওয়ানেরা এবার চোরাই পণ্যের ভেতর হতে ৩ কোটি টাকার ইয়াবাসহ বিপূল পরিমাণ চোরাইপণ্য জব্দ করেছে।
জানা যায়,গত ১০জুন সন্ধ্যা ৭টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের হোয়াইক্যং বিওপি চেকপোস্টের সুবেদার মোঃ আব্দুল জলিল মিয়ানমার হতে চোরাইপণ্য আসার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লম্বাবিল এলাকায় বিষে টহল দল নিয়ে অবস্থান নেয়। ৩ জন লোক নৌকা নিয়ে বাংলাদেশ কিনারায় পৌঁছলে বিজিবি জওয়ানেরা চ্যালেঞ্জ করা মাত্র মিয়ানমারের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন বিজিবি জওয়ানেরা স্পীডবোট নিয়ে ধাওয়া করলে চোরাইপণ্য বোঝাই নৌকাটি ফুটো করে দিয়ে সাতাঁর কেটে ওপারে চলে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি টহলদল নদীতে ভাসমান ২৪টি চোরাই পণ্যের বস্তা উদ্ধার করে। এসব বস্তাগুলো খুলে গণনার সময় কাপড়ের বস্তার ভেতর হতে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ১ লক্ষ পিস ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৩৩ লক্ষ ৮১ হাজার ৫শ টাকা মূল্যমানের ১হাজার ১শ ৬৩পিস বার্মিজ মহিলার স্কার্ট, ৮শ ৫৪ পিস বার্মিজ লুঙ্গি, ১ হাজার ৫শ ১৪ পিস বার্মিজ থামী, ২শ ৬০ পিস ছেলেদের গেঞ্জি, ৯৮পিস মেয়েদের ওড়না, ৫৮ পিস ছোট বাচ্ছাদের জামা, ৩শ গজ বার্মিজ থান কাপড়সহ অন্যান্য বার্মিজ মালামাল উদ্ধার করে। বার্মিজ চোরাইপণ্য সমুহ টেকনাফ শুল্ক গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবা পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মিডিয়া কর্মীদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করার জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে জমা রাখা হয়েছে। টেকনাফ ২বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আছাদুজ্জামান চৌধুরী অভিযানের সত্যতা স্বীকার করেন। এদিকে উলুবনিয়া, খারাইগ্যাঘোনা, হোয়াইক্যং বাজার, তেচ্ছিব্রীজ, লম্বাবিল, ঊনছিপ্রাং, কাঞ্জর পাড়া, নয়াপাড়া, মিনাবাজার, নয়াবাজার, খারাংখালী, মৌলভী বাজার, হোয়াব্রাং, হ্নীলা চৌধুরী পাড়া, লেদা লামার পাড়া, জাদিমোরা, দমদমিয়া ও নাইট্যংপাড়া-বরইতলীর সীমান্ত পয়েন্টে কতিপয় চিহ্নিত চোরাচালানী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। মাদক কারবারীরা এবার কৌশল পরিবর্তন করে চোরাই পণ্যের ভেতরে করে মাদকের চালান আনার কৌশল অবলম্বন করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top