ইসলামাবাদ মাদকের দুর্গে পরিনত, ঈদ সামনে রেখে আতœগোপনে থাকা মাদক ব্যবসায়ীরা চলে আসছে

yaba-tek.jpg

স্টাফ রিপোটার :
মাতৃভূমির টান এবং ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মাদক বিরোধী অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনার পর থেকে টেকনাফের শীর্ষ তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা আতœগোপন থেকে ধীরে ধীরে রাজপ্রাসাদে চলে আসতে শুরু করেছে।

অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্যানুযায়ী আইন শৃংখলা বাহিনী (র‌্যাব) ভূল তথ্যের ভিক্তিতে কাউন্সিলার একরামুল হক কথিত বন্দুকযুদ্ধে খুন হয়। এনিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে আইন শৃংখলা বাহিনী (র‌্যাব) বিতর্কিত হয়ে পড়ে। যেহেতু কাউন্সিলার একরামুল হক দলীয় এবং মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা নেই তাই টেকনাফে চলমান মাদক বিরোধী অভিযান থমকে পড়লে অবশেষে তালিকাভূক্ত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা প্রাণে বেঁচে যায়। যার ফলোশ্রুতিতে কাউন্সিলার একরামুল হক হয়ে যায় ইচ্ছায় হউক বা অনিচ্ছায় হউক খুনের বলির পাঁঠা। এটি ওদের জন্য নেয়ামক পরিনত হয়। এর পর থেকে আইন শৃংখলা বাহিনী (র‌্যাব) এর দৃশ্যমান মাদক বিরোধী অভিযান দেখা যায়নি।

তবে পুলিশ টেকনাফ পৌর এলাকার জালিয়াপাড়া এবং টেকনাফ সদর মৌলবীপাড়া ও নাজির পাড়া ইয়াবা মাদক পল্লী এলাকায় রাজপ্রাসাদ অভিযান চালালেও এতে তেমন ফলোদয় হয়নি মাদক বিরোধী অভিযানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

টেকনাফের মাদকের ঘাটি হিসাবে এখন খ্যাত, টেকনাফ পৌর এলাকার ইসলামাবাদ, পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যং পাড়া। ইসলামাবাদ এলাকা এখন রাজপ্রাসাদে ভরপুর। এখানে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান না থাকাতে মাদক ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন যাবৎ অধরা রয়েছে। পাল্টে যাচ্ছে ইসলামাবাদ মাদকের স্বর্গরাজ্য।

একজন রিক্সা চালক জনৈক্য হোসেন প্রকাশ হোছেন্যা ইয়াবা বদৌলতে যদি অল্প সময়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যেতে পারেন, তাহলে অন্যরা কি পরিমাণ কালোটাকার মালিক হবে, তাহা সবার কাছে অনুমেয়।

ইসলামাবাদ এলাকা হঠাৎ রাজপ্রাসাদে ভরপুর হয়ে যাবার নৈপথ্যে মাদকের কালোটাকার ভূমিকা কাজ করছে। যাহা নিয়ে এলাকার সচেতন মহলের মধ্যে কথা বা অভিযোগ উঠেছে। প্রতি রাজপ্রাসাদে এবং ভাড়া বাসায় ইয়াবার দুর্গে পরিণত এবং এখান থেকেই ইয়াবার চালান খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া হয়।

এখানে একাদিক ইয়াবার ডিলার থাকলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর নজরে না পড়ায় এখানে দিনাদিন মাদকের আগ্রাসান বাড়ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এ ব্যাপারে নীরব এবং তার ভূমিকা নিয়ে এলাকাবাসীর কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।

অনুরূপভাবে পুরাতন পল্লান পাড়া ও নাইট্যং পাড়া একই অবস্থা। এ ২টি ওয়ার্ড প্রশাসন পাহাড় সংলগ্ন এলাকা। এখানে মাদক রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ঘাঠিতে পরিণত হওয়ায় এখানে স্বাভাবিক জীবন যাপন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। এখানে মাদক ও রোহিঙ্গা বিরোধী অভিযান দৃশ্যমান না থাকায় মাদক থেকে নব নব অপরাধ প্রবনতা বাড়ছে। যুব সমাজ এ পথে ক্রমশঃ ধাবিত হচ্ছে। অভিভাবক এ নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠার মধ্যে ভোগছেন।

মাদক বিরোধী অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে একরামুল হক হত্যা প্রশ্নবিদ্ধ এবং পরিস্থিতি ও পরিবেশ মাদক ব্যবসায়ীদের অনুকোলে আসলে আতœগোপনে থাকা তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ীরা স্ব স্ব এলাকায় ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ধীরে ধীরে আসতে শুরু করেছে।

এদিকে আইন শৃংখলা বাহিনীর চলমান অভিযানের গ্রেফতার এড়াতে মাদক ব্যবসায়ীরা রাস্তায় রাস্তায় ভাড়াটে দিবানিশি শ্রমিক নিয়োজিত করে ওদের সাথে মোবাইল যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া এ প্রসঙ্গে বলেন, পুলিশ বিষয়টি অবগত আছেন এবং ধারাবাহিক ভাবে মাদক বিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top