টেকনাফ প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরটি অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত…৮ বছরে গুরে ফিরে ওরা ৬জন

Teknaf-pic-06.06.18.jpg

স্টাফ রিপোটার, টেকনাফ :
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরটি গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ আর্থিক সহায়তাকারী একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রন করছেন, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়। এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সরকার প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য এবং গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে অর্থ বরাদ্ধ দিয়ে থাকে। এসব অর্থ মাঠ পর্যায়ে যেতে না যেতেই আগেভাগে ভাগভাটোয়ারা হয়ে যায়। নিয়মানুযায়ী স্ব স্ব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাচাই করার নিয়ম থাকলেও এ নিয়ম অনেকাংশে মানা হয়না। এ নিয়ে চলে ভোটের রাজনীতির খেল। ফলে প্রত্যান্ত অঞ্চলে উন্নয়ন দুরগড়ায় পৌছেনা। প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন তেমন একটা পরিদর্শন করেন না। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রতি আস্থা রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্প বিলে সিল স্বাক্ষর হয়ে গেলেই প্রকল্পের কাজ শেষ। আজ এমন অবস্থা বিরাজ করছে, টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরটি। অনুসন্ধান করে জানা যায়, এ দপ্তরে গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির এক আখড়ায় পরিনত হয়ে এখন রীতিমতো সামাল দেয়া দুস্করে পরিনত হয়েছে। এছাড়া এ জনগুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে শৃংখলা পরিপন্থিমূলক কাজ ও স্বচ্ছ জবাবদীহিতার পরিবেশ একেবারে ভূলোন্টিত। কাগজে কলমে প্রকল্প সর্বেসর্বা বাস্তবে অন্যরকম। ২০০৯-২০১৬ গেল আট অর্থবছরে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে মহৌৎসব হয়েছিল। যাহা আজন্তরিন অডিট আপত্তিতে কোটি কোটি টাকা আর্থিক কেলেংকারী হয়েছিল। যাহা অডিট আপত্তিতে এ প্রতিষ্ঠান ধরা খায়। এ অনিয়ম ও দুর্নীতি থেকে রেহায় পেতে কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীরা তড়িঘড়ি করে অন্যত্র বদলীতে মশগুল হয়ে পড়ে। টেকনাফ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরে কর্মকর্তাদের যোগদানের আগমন ও প্রস্তান দেখে মনে হয় গুরে ফিরে গত ৮ আর্থিক বছরে এই কর্মকর্তাগণ ছিলেন উন্নয়নের চালিকাশক্তি ও সর্বেসর্বা। এ দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কর্মসৃজন (ইজিপিপি) প্রকল্প গ্রামীণ অবকাঠামো বিভিন্ন উন্নয়ন, ব্রীজ নির্মাণ খাতে। এসব উন্নয়ন ও দুস্থপরিবারের মাঝে নগদ অর্থ, টিন ও খাদ্য শস্য বিতরণে রাজনৈতিক ও নির্বাচনকে সামনে রেখে বিবেচনা করা হয়েছে। এ গত ৮ অর্থ বছরে এদপ্তরে যে কর্মকর্তাগণ দপ্তরে যোগদান, আগম ও প্রস্থান পূর্ব তড়িঘড়ি করে বদলী হয়েছেন, তার মধ্যে ২০০৯ সালে মোঃ আহসান উল্লাহ, আগমন ২৭-০৯-২০০৯ প্রস্থান ১২-০৮-২০১২, মোঃ শফিউল আলম ২০১২ সালে, আগমন ১২-০৮-২০১২ প্রস্থান ৬-১১-২০১২, জহিরুল ইসলাম আগমন ৬-১১-২০১২ প্রস্থান ২২-০৯-২০১৫, মোঃ জোবায়ের হাসান ১২-০৯-২০১৫ প্রস্থান ৩১-০৩-২০১৬, মোঃ শফিউল অলিন ৩১-০৩-২০১৬ প্রস্থান ১৩-১১-২০১৬ ও মোঃ আহসান উল্লাহ আগমন ১৩-১১-২০১৬ প্রস্থান উল্লেখ নেই। খোজ নিয়ে জানা যায়, এ দপ্তরে কর্মকর্তা ও অফিসসহকারী একযোগে বদলী হয়ে যায়। ফলে দপ্তরে আসা সেবা প্রহীতারা পদে পদে হয়রানী ও ভোগান্তি শিকার হচ্ছে। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিগত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে কর্মরত ও অফিস সহকারীরা আর্থিক কেলেংকারীর সাথে জড়িত ছিল এবং তাই ধরাপড়ার পূর্বেই অন্যত্র বদলী হয়ে যায়। সূত্র আরো জানায়, ২০১৫ ও ২০১৮ এ চার অর্থ বছরে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে এ দপ্তরটি আখড়ায় পরিনত হয়। যার কারণে ঐ সময়ে কর্মরত কর্মকর্তা ও অফিস সহাকারী তড়িঘড়ি করে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যায়। যাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন দপ্তর ও দুর্নীতি দমন বিভাগ একযোগে আর্থিক কেলেংকারীর অভিযোগে অভিযুক্ত করে পত্রজারী করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এর থেকে বাঁচতে ওরা ফাইল সংশোধন ও গসামাজা নিয়ে ব্যস্ত। যাতে অনিয়ম ও দুুর্নীতি থেকে বাঁচতে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে এবং প্রায় লক্ষ্য করা গেছে যে, এ দপ্তরে প্রায় সময় কর্মকর্তার দপ্তরটি শূণ্য দেখা যায়। জিজ্ঞেস করা হলে স্যার ছুটিতে আছে বা অফিসের কাজে ঢাকায় গেছে। জনবল শূণ্যের কারণে এ দপ্তরে আসা সেবা গ্রহীতারা তেমন সেবা পাচ্ছেনা। উখিয়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা এবং টেকনাফ উপজেলা বাস্তবায়ন দপ্তরে অতিরিক্ত দায়ীত্বে নিয়োজিত আছেন প্রবিত্র চন্দ্র। গত ৪ জুন সকাল ১১ টায় এ প্রতিবেদক টেকনাফ দপ্তরে তার সাথে মুখোমুখি হলে তিনি কালকেপন করে বিষয়টি এরিয়ে যান। তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন পরে আসলে বিস্তারিত কথা হবে। সে দিন মাত্র তিনিসহ ৪জন দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। দপ্তরে সেবা গ্রহিতারা অফিস সহকারীর রুমে ঘাঁদাঘাদি করতে দেখা যায়। একজন সেবা গ্রহিতা বলেন, এভাবে তো কাজ করা যায়না।
টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মোঃ আলী বলেন, এ দপ্তরটি শুধু অনিয়ম দুর্নীতির আখড়া নয় এটি একটি লোটপাট প্রকল্প ও ভাগভাটোয়ারা নামে প্রতিষ্টান। চলবে……….

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top