টেকনাফে কথিত বন্দোক যুদ্ধে কাউন্সিলর একরাম নিহতের পর মাদক বিরোধী অভিযান থমকে গেছে

IMG_20180604_151937.jpg

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
দেশব্যাপী মাদক বিরোধী অভিযান শুরুর পর দেশের সর্বদক্ষিণ সীমান্ত জনপদ মাদকের গেটওয়ে টেকনাফে মাদক বিরোধী অভিযানে আইন শৃংখলা বাহিনীর কথিত বন্দুক যুদ্ধে ২জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে অভিযানের শুরুতেই সাবরাং ইউনিয়নের ইউপি সদস্য ও মুন্ডার ডেইল গ্রামের মৃত নজির আহমদের ছেলে আখতার কামাল, টেকনাফ পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার কে কে পাড়ার মৃত আব্দুস সত্তারের ছেলে মোঃ একরামুল হক এবং আহত হ্নীলা ইউনিয়নের লেদার মৃত নুর মোহাম্মদ এর ছেলে মোস্তাক আহমদ।
টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলার মোঃ একরামুল হক আইন শৃংখলা বাহিনী (র‌্যাব) এর কথিত বন্দুক যুদ্ধে নিহতের পর দেশ-ব্যাপী বাদ-প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কেননা কাউন্সিলার একরামুল হক তিন তিন বার কাউন্সিলার সাবেক উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, টেকনাফ বাস ষ্টেশান বণিক সমিতির সভাপতি, বার্মিজ সরকারী বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং বিজিবি কেজি স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্য সাদামনের মানুষ, সমাজদরদী মানুষ ছিলেন।
এ মানুষটি কেন? এবং কি উদ্দেশ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নির্মমভাবে খুন হলো তাহা দেশের সকল পেশাজীবি লোকের বিবেকের মধ্যে ন্যাড়া দিয়েছে। তার ২ মেয়ে পিতার স্নেহের শোকে অবিরাম আহাজারিতে রত আছে। তার এ হত্যাকে অনেকেই মেনে নিতে পাচ্ছেনা।
এ হত্যা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় শুরু হলে, টেকনাফ মাদক বিরোধী অভিযান ও কথিত বন্দোক যুদ্ধে থমকে পড়ে।

ফলে প্রকৃত তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও গডফাদারেরা পার পেয়ে যায়। টেকনাফ পৌরসভা, হোয়াইক্যং, হ্নীলা, টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়নে ২০০৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তালিকাভূক্ত বাঘা বাঘা মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারী জড়িত থাকলেও ওরা বরাবরই নিরাপদে থাকে, যদিও চলতি মাদক বিরোধী অভিযানে ওরা আতœগোপনে থাকলেও ওদের আতœীয়স্বজন ও নব্য মাদক ব্যবসায়ীরা মাদক ব্যবসা ও পাচারে থামেনী। মাদক বিরোধী অভিযান চলাকালে টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢালাওভাবে বস্তা বস্তা ইয়াবা অনুপ্রবেশ প্রায় বন্ধ হয়েছে। ছোটখাটো ইয়াবার চালান জব্দ হচ্ছে মাত্র। শীর্ষ মাদক তালিকাভূক্ত ব্যবসায়ীরা মাদক বিরোধী সাড়াশি অভিযানে প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে মাদক পার্টনারের কাছে আশ্রয় নিয়েছে। ক্ষুদে ব্যবসায়ী ও নব্য মাদক ব্যবসায়ীরা স্থানীয় পাহাড়ে, সাগরে, পানের বরজ ও লবণ মাঠে আশ্রয় নিয়েছে।
মাদক বিরোধী অভিযানে র‌্যপিড ত্র্যাকশান ব্যাটলিয়ন (র‌্যাব) এর পাশাপাশি টেকনাফ মডেল থধানার পুলিশও অভিযানে নেমেছে এবং শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর দুর্গে হানা দিচ্ছে। সম্প্রতি টেকনাফ পৌর এলাকার জালিয়াপাড়া সদর ইউনিয়নের নাজির পাড়া ও মৌলভীপাড়ায় মাদক বিরোধী অভিযান চালালেও পুলিশের পাতানো জালে কেউ কেউ আটক হলেও গডফাদারদের তেমন কেউ আটক হয়নি।
নিহত কাউন্সিলার একরামুল হকের ঘঠনা নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় চলছে এবং এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে, যে আসলে কাউন্সিলার একরাম কি? মাদকের কারণে খুন হয়েছে ? না অন্য কোন কারণে। এ নিয়ে চলছে চুলছেরা বিশ্লেষন।
একরামের স্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে দাবী করেছেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সরকারের মাদক বিরোধী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ এবং চলমান অভিযান ও ক্রসফায়ার ঠেকাতে একরামকে দিয়ে অন্যজনের ইয়াবা ব্যবসায়ীর বলির পাঠা বানানো হয়েছে।
এরপর থেকে দৃশ্যমান মাদক বিরোধী অভিযান তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। চলমান মাদক বিরোধী অভিযান এবং বন্দুক যুদ্ধে নিহত ঘটনার পরও টেকনাফ স্থল বন্দর সংলগ্ন কেরুনতলী, খালে মাদকের রমরমা বাণিজ্য চলছে। ফিশিং বোটের আড়ালে মিয়ানমার থেকে মাদক বা ইয়াবার চালান ঢুকে।
সম্প্রতি টেকনাফ কোষ্টগার্ড বাহিনী কেরুনতলী খাল থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ৪০ হাজার ইয়াবা জব্দ করে। একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, কেরুনতলী এলাকার সংঘবদ্ধ একটি চক্র দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত থেকে ওরা জীবনের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছে।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়–য়া এ প্রসংগে বলেন, পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরোটলারেন্স নীতিতে থাকবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা ।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top