শুভেচ্ছা দূত হাফেজে কোরআন

image-54903-1527837577.jpg

সাইফুল ইসলাম |
পুরো রমজানে কোরআনে হাফেজদের সম্মান প্রদর্শনের চেষ্টা করেন সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। পবিত্র কোরআন বুকে ধারণ করা ও সাধারণ মানুষকে তারাবির মাধ্যমে তা শোনানো মানুষগুলোর এটা প্রাপ্যও।

মানুষ যাকে ভালোবাসে তার জন্য কিছু করার চেষ্টা করে। রমজান মাসে হাফেজরা সম্মান পান এবং এটি তাদের আল্লাহপ্রদত্ত সম্মানেরই অংশ। আল্লাহ বলেন, ‘আমি উপদেশগ্রন্থ নাজিল করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক’ সূরা হিজর ৯:১৫।

আল্লাহতায়ালা কোরআনকে সংরক্ষণ করে চলেছেন অগণিত কোরআনে হাফেজের সিনায় সিনায়।

পরকালে আল্লাহ আমলদার হাফেজদের বলবেন একটি আয়াত তেলাওয়াত কর আর একেক তলা ওপরে ওঠো। ওটাই হল একজন হাফেজে কোরআনের আসল সম্মান।

আল্লাহর কোরআন বুকে ধারণকারী হাফেজদের সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ পরকালীন পাথেয় অর্জন করেন, নিজেদেরও সম্মানিত করেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, এ সম্মান কি শুধু রমজান মাসেই প্রদর্শন করা হবে? বাকি ১১ মাস করা হবে না? হাফেজরা কি শুধু রমজান মাসে কোরআন ধারণ করেন, অন্য মাসে করেন না? হ্যাঁ, কোরআন নাজিলের মাস হওয়া এবং এ মাসে তারাবির মাধ্যমে হাফেজদের সংরক্ষিত কোরআনে যে জং ধরেনি এবং তা যেভাবে থাকা দরকার সেভাবে আছে প্রমাণের জন্য মানুষকে শোনান।

ফলে এ মাসে হাফেজদের প্রতি ভক্তি-সম্মান প্রদর্শন বেশি হতে পারে। তবে বাকি ১১ মাস তারা কেমন আছেন, কীভাবে চলছেন, সে খোঁজখবর নেয়ার দায়িত্ব সচেতন ও ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের। আছে রাষ্ট্রেরও কিছু দায়িত্ব।

পৃথিবীর সব মুসলিম দেশেই বিশেষত আরব বিশ্বে হাফেজে কোরআনদের বিশেষ মর্যাদা দেয়া হয়। মর্যাদাকর চাকরি এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব তাদের দেয়া হয়।

রাষ্ট্রপ্রধান ও ভিভিআইপিদের সফরসঙ্গী করানো হয় অনেক ক্ষেত্রে। কিন্তু আফসোস! চতুর্থ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশে বিশ্বসেরা খেতাবজয়ী হাফেজদের জন্য মূলধারার মিডিয়ায় একটি লাইন পর্যন্ত বরাদ্দ হয় না।

যেখানে নাটক-সিনেমা কোনো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের জন্য মনোনীত হলেই মিডিয়ায় ব্রেকিং নিউজ হয়, সেখানে শতাধিক দেশকে হারিয়ে বিশ্বসেরা হাফেজে কোরানের খেতাবধারীদের খবর পর্যন্ত ছাপা না হওয়া আমাদের আত্মিক ও মানসিক দৈন্যতার প্রকাশ বৈকি।

আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে হাফেজদের জন্য সরকারি-বেসরকারি, সম্মিলিত ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু করা জরুরি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বিদেশ সফরে অন্তত বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কারজয়ী, খেতাবধারী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেয়া হোক। হজ ও ওমরা সংক্রান্ত সফরে তো বাধ্যতামূলকভাবে তাদের রাখা যেতে পারে।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ভালো করা হাফেজদের সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগে পবিত্র ওমরা পালন, ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ও নবী (আ.) এবং সাহাবাদের (রা.) স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন করানোর উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন হজ ও ওমরায় গাইড হিসেবে সুইপার ঝাড়–দার ও কেরানিদের পর্যন্ত নিয়ে যায়। অথচ একজন হাফেজে কোরআন যেতে পারেন না।

কোরআনের সম্মানের জন্য হাফেজদের কর্মসংস্থান তৈরি ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুভেচ্ছাদূত নিয়োগের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মহলের ধর্মীয় বরাদ্দ কম নয়।

কোরআনপ্রেমিক দেশ হিসেবে সরকার হাফেজদের জন্য বছরব্যাপী বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে পারে। আল্লাহ আমাদের দেশকে কবুল করুন অগণিত হাফেজের অসিলায়।

লেখক : সাংবাদিক

সূত্র : যুগান্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top