বাহারছড়ায় কাঠচোর হামলা ও ফাঁকা গুলিবর্ষনে রেঞ্জারসহ আহত-৭ : আটক-১

Teknaf-Pic-A-28-05-18.jpg

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম / আজিজ উল্লাহ : টেকনাফ বাহারছড়ায় সংঘবদ্ধ মদ্যপ কাঠচোর চক্রের হাতে উজাড় হতে চলছে সৃজিত ঝাউ বাগান। কাঠ চুরির ঘটনায় বাঁধা দিতে গিয়েই রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ ৭জন আহত হয়েছে। এ সময় আতœরক্ষার্থে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযানে গিয়ে হাতে-নাতে একজনকে আটক করে সাজা প্রদান করেছে।
জানা যায়, ২০০২ সালে সৃজিত টেকনাফের উপকূলীয় বাহারছড়ার শীলখালী ঝাউ বাগানে ২৮ মে ভোররাত ২টারদিকে জনৈক কাঠ চোর আবুল হাশেম ও তার সহযোগীরা ঝাউ বাগান উজাড়ের সংবাদ পেয়ে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা লোকজন নিয়ে অভিযানে গেলে কাঠ চোরদের হামলায় রেঞ্জার, বিট কর্মকর্তা মাহফুজুল আলমসহ আহসানুল কবির, মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, নুরুজ্জামান, মাহফুজ আলম, রফিকুল ইসলাম আহত হয়। আহতদের মধ্যে আহসানুল কবির ও ইউসুফ আলী গুরুতর আহত হয়। এসময় বন কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড ফাঁকাগুলি বর্ষণ করলে কাঠ চোরেরা পালিয়ে যায়। দুপুর ২টারদিকে একদল যুবক উক্ত বাগানে মাদক সেবনের আড়ালে আবারো গাছ কর্তনের খবর পেয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণয় চাকমা অভিযানে গিয়ে উক্ত বাগানের গাছ কর্তনকালে উত্তর শিলখালীর আবুল কাশেমের পুত্র আবুল হাশেমকে হাতে-নাতে আটক করে। তাকে ভ্রাম্যমান আদালতে ৩মাসের সাজা প্রদান করা হয়। এরপর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপকূলীয় বাগান পরিদর্শন করে এই বাগান উজাড়রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট প্রণয় চাকমা জানান, উপকূলীয় বাগান রক্ষায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে একজনকে আটক করে সাজা প্রদানের সত্যতা নিশ্চিত করেন। উল্লেখ্য, উপকূলীয় বনবিভাগের লোকজন অভিযান চালিয়ে গত ১৬ মে স্থানীয় মমতাজুল ইসলাম ও ২৭ মে মামুনুর রশিদ নামে ২জনকে আটকের পর বন মামলায় আদালতে প্রেরণ করেন।
এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, উত্তর শীলখালী মাঝের পাড়ার অলি চাঁদের পুত্র, খুচরা মাদক ব্যবসায়ী আব্দু ও জনৈক গুরুইয়া নামে দুই ব্যক্তি মাদক সেবীদের প্ররোচিত করে উক্ত বাগানের গাছ কর্তনের পর স্বল্প দামে কিনে আবার চড়া দামে নৌকা-বোট মেরামত কাজে সরবরাহ করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top