আলীকদমে উপজেলা আওয়ামীলীগ কমিটির পূর্নাঙ্গ রুপ প্রকাশ, নেতাকর্মিদের মাঝে প্রতিক্রিয়া

al-logo-20171226212130.jpg

মো.কামরুজ্জামান, লামা :
আলীকদম উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ পেয়েছে। অনেকটা ঘরোয়া-মনগড়াভাবে ক্ষমতাসিন দলের সদ্য অনুমোদিত কমিটির পূর্নাঙ্গ রুপ প্রকাশ পেয়েছে। নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পঁছন্দসই নেতা-কর্মি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনপূর্বক, জেলা কমিটি কর্তৃক অনুমোদন প্রাপ্ত হন। সদ্য গঠিত কমিটি নিয়ে নানান প্রশ্ন উঠেছে দলটির সমর্থিত নেতা-কর্মিদের মাঝে। আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট আদায়ে একযোগ হয়ে কাজ করার অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছে কিনা; এমন প্রশ্নের অবতারণাও করছেন অনেকে। উপজেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন প্রবীন নেতা জানান, বর্তমান সরকারের উন্নয়নে উদ্বুদ্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ নৌকা প্রতীকে ভোট অব্যশই দিবেন। কিন্তু বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপরীতে যারা অবস্থান নিয়েছিলেন; ভোট আদায়ের ক্ষেত্রে আগামীতে তাদের গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে কথা উঠাটা স্বাভাবিক।
অনুসন্ধানে জানাযায়, দীর্ঘদিন ধরে জেলা আওয়ামীলীগের এক সিনিয়র নেতাকে নিয়ে দলের মধ্যে সৃষ্ট বিভেদ আর মতানৈক্যর প্রভাব জেলার সর্বত্রয় পড়েছে। এর ফলে আওয়ামী রাজনীতি গোপনে ও প্রকাশ্যে দু’দ্বারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর এক দ্বারায় যুক্ত হয় বিগত দশম জাতীয় সংসদে দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি। এই প্রার্থীর পক্ষে গোপনে ও প্রকাশ্যে যারা কাজ করেছিলেন, তাদেরই বড় একটি অংশ আলীকদম উপজেলা আওয়ামীলীগের সদ্য গঠিত কমিটিতে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। অপরদিকে দলের একনিষ্ট-তারুন্যদীপ্ত কিছু নেতা-কর্মির অবস্থান নতুন কমিটিতে হয়নি। এর ফলে অন্ত:দহনে জ্বলছে আলীকদম উপজেলা আওয়ামী পরিবার। নবীন-প্রবীন অনেকে মানে-অভিমানে, পাওয়া না পাওয়ার যন্ত্রণায় ভোগছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন, সরকার আগামী ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সবকটি রাজনৈতিক দলের অংশ গ্রহনে করতে আন্তরিকভাবে সচেষ্ট রয়েছেন। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এই নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবেই। এই বাস্তবতায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ন্যয় দলের কয়েকজনের উপর ভরসা করে, সাংগঠনিকভাবে দায়সারা ভূমিকা; বিপদ ডেকে আনতে পারে এই উপজেলার ভোট ফলাফলের ক্ষেত্রে। বিষয়টি সিনিয়র নেতৃবৃন্দ নজরে আনা প্রয়োজন। অন্যথায় তীরে এসেই তরী বাঁচানো কষ্ট হবে বলে মনে করেন অনেকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সিনিয়ির নেতা বলেন, নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের রাজনৈতিক-সাংগঠনিক দায়িত্বশীলতার উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। তবে সদ্য গঠিত কমিটিতে এমন কিছু লোককে বাদ দেয়া হয়েছে, যাঁরা রাজনৈতিকভাবে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহনযোগ্য এবং নৌকা প্রতীকে ভোট আদায়ে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখতে সক্ষম। অপরদিকে সদ্য ঘোষিত কমিটিতে এমন কিছু লোক রাখা হয়েছে, যাঁরা বিগত দিনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। নবীন প্রবীন এ ক’জন নেতা জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই অনুষ্ঠিত হবে উপজেলা নির্বাচন। সূতরাং সাংগঠনিক কর্মকান্ডে কোনমতেই নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধচারিদের হাতে সুযোগ তুলে দেয়াটা অন্তত: বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সিনিয়র নেতারা ভেবে দেখা উচিৎ বলে মনে করেন আওয়ামীলীগ নেতা কর্মিরা।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top