রমজানকে সামনে রেখে টেকনাফ সীমান্তে নিত্যপণ্য মওজুদে ব্যবসায়ীরা মরিয়া

Teknaf-pic-13.05.18.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
প্রবিত্র রমজান (সিয়াম) কে সামনে রেখে টেকনাফ সীমান্তের অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপন্য মওজুদের আয়োজন ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন ট্রাকে ট্রাকে মাথাভারী অতিরিক্ত নিত্যপণ্য ঝুঁকি নিয়ে আসছে। আকাশ ছোঁয়া তেরপাল মোড়ানো ট্রাক বোঝাই নিত্যপণ্যে টেকনাফ পৌর শহরসহ সীমান্তের হোয়াইক্যং হ্নীলা ও সাবরাং এর বড় বড় বাজারে দৃশ্যমান গোদামে মওজুদের হিড়িক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভার ন্যায় গড়ে উঠা গোদামে আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিত্যপণ্য গোদামে মওজুদ অপতৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্তে এসব গোদাম সরকারীভাবে অনুমোদন এবং বৈধ কিনা তাই নিয়ে সীমান্তের সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে টেকনাফে পরিবহনে অতিরিক্ত পণ্য আসতে থাকলেও টেকনাফ থেকে যেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। টেকনাফ পৌরশহর ও কয়েকটি বৃহৎ বাজার সরেজমিন পরিদর্শন এবং ভোক্তাদের অভিযোগ জানা যায়, রমজানকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা আগেভাগে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি করে অসচেতন ভোক্তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। নিত্যপণ্য বাজার, তরিতরকারী বাজার, মাংসের বাজার ও মাছ বাজার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট সৃষ্ঠি করে রেখেছে। সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি ভোক্তারা। বর্তমানে মাংস ও মাছ বাজার নাভিশ্যাস। প্রতিকেজি মাংস বিক্রি ৫ থেকে ৬শত টাকা। মাছ ৩শত টাকার নীচে বিক্রিয় হয়না। কোরাল মাছ কেজি ১২ শত টাকা, গুজ্জা মাছ ৪শত টাকা, ভূল মাছ কেজি ৬শত টাকা। মোদির দোকানে নিত্যপণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন করার নিয়ম থাকলেও এ নিয়ম ব্যবসায়ীরা মানছেনা। মিটারের পরিবর্তে পাল্লায় পণ্য পরিমাপ করতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য যে, গেল শবেবরাতের সময় পরিষদ এলাকা এবং ষ্টেশানে প্রতি কেজি গরু ও মহিষের মাংস ৬শত টাকা বিক্রি করে এবং ভোক্তাদের জিম্মি করে এভাবে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেয়। যাহা নিয়ে সীমান্ত এলাকা জোড়ে প্রশ্ন উঠেছে, এখানে কি প্রশাসন নেই। ওজনে কারচুপি ও প্রতারণা সমানতালে চলছে। মিটার ছাড়াই পাল্লার মাধ্যমে মাংস বিক্রি করে ভোক্তাদের ধাঁ ধাঁর মধ্যে রেখেছে। পাশাপাশি তরকারীর বাজার ও একই অবস্থা। সরকারী ভাবে বাজারে নিত্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য বাজার মনিটরিং এর নিয়ম থাকলেও ইহা শুধু কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ। বাস্তবে দৃশ্যমান নেই। নেই ভ্রাম্যমান আদালত কার্যক্রম ব্যবস্থা। এ সুযোগকে পুঁজি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের কাছ থেকে নীরবে হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত মূল্যের টাকা। যাহা জেলার অন্যান্য বাজারের সাথে তুলনাহীন। টেকনাফ পৌর শহরস্থ ষ্টেশনে নিত্যপণ্য দোকানের সামনে ভাসমান দোকান ও ভোজ্য তৈলের ড্রাম মওজুদের কারণে ভোক্তা এরং পথচারীরা যাতায়াত এবং পণ্যক্রয়ের বাধা গ্রস্থ হচ্ছে। ভোক্তারা দোকানে সেবার পরিবর্তে পাচ্ছে, লাঞ্চনা ও গঞ্চনা। একইভাবে তরিতরকারী ও মাছের বাজারের অবস্থা আরো সুচনীয়। যাহা ভোক্তা না হলে কেউ অনুভব করতে পারবেনা। এ সুযোগে পকেটমার তাকে স্বক্রিয়। ভোক্তাদের প্রায় অভিযোগ পকেটমার অকপটে নিয়ে যাচ্ছে নামীধামী মোবাইল সেট ও টাকা বেশীরভাগ পকেটমার চোর তরিতরকারী ও মাছ বাজারে উৎপেতে থাকে। অভিনব পন্থায় হাতিয়ে নিচ্ছে মোবাইল সেট ও টাকা। এক্ষেত্রে নারী ভোক্তরা থাকে নিরাপদে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top