ইসলামের মহৎ আমল বৃক্ষরোপণ

Tree-plantation.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : বৃক্ষরাজি এই পৃথিবী ও এর অধিবাসী সৃষ্টজীবের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে অনেক বড় ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। বিভিন্ন প্রকারের গাছ-পালা দিয়ে আল্লাহ পৃথিবীকে সুশোভিত করেছেন। ফলে-ফুলে আমাদের জীবন ও সমাজকে সুরভিত সুন্দর সমৃদ্ধ করেছেন। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন, আমাদের দান করেছেন সবুজ-শ্যামল অপার সুন্দর পৃথিবী। আমাদের জন্য এই সবকিছুতেই মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা রেখে দিয়েছেন তাঁর পরিচয় লাভের বহু নিদর্শন।
তিনি ইরশাদ করেন-
إِنَّ اللهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوَى يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَمُخْرِجُ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِّ ذَلِكُمُ اللهُ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ… وَهُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُّتَرَاكِبًا وَّمِنَ النَّخْلِ مِنْ طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ وَّجَنَّاتٍ مِّنْ أَعْنَابٍ وَّالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَّغَيْرَ مُتَشَابِهٍ انْظُرُوا إِلٰى ثَمَرِه إِذَا أَثْمَرَ وَيَنْعِه إِنَّ فِي ذٰلِكُمْ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُّؤْمِنُوْنَ.
‘নিশ্চয় আল্লাহ শস্যবীজ ও আঁটি বিদীর্ণকারী। তিনি প্রাণহীন বস্তু হতে প্রাণবান বস্তু নির্গত করেন এবং তিনিই প্রাণবান বস্তু হতে নিষ্প্রাণ বস্তুর নির্গতকারী। হে মানুষ! তিনিই আল্লাহ। সুতরাং তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করে কোন্ অজ্ঞাত দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?…আর তিনিই ঐ সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, তারপর আমি তা দ্বারা সর্বপ্রকার উদ্ভিদের চারা উদগত করেছি, তারপর তা থেকে সবুজ গাছপালা জন্মিয়েছি, যা থেকে আমি থরে থরে বিন্যস্ত শস্যদানা উৎপন্ন করি এবং খেজুর গাছের মঞ্জুরি থেকে (ফল-ভারে) ঝুলন্ত কাঁদি নির্গত করি এবং আমি আঙ্গুর বাগান উদগত করেছি এবং যায়তুন ও আনারও। তার একটি অন্যটির সদৃশ ও বিসদৃশও। যখন সে বৃক্ষ ফল দেয়, তখন তার ফলের প্রতি ও তার পাকার অবস্থার প্রতি গভীরভাবে লক্ষ কর। এসবের মধ্যে সেই সকল লোকের জন্য নিদর্শন রয়েছে, যারা ঈমান আনে।’ (সূরা আনআম : ৯৫, ৯৯)
তিনি আমাদের জন্য সামান্য আঁটি থেকে অঙ্কুরিত করেন শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট বিশাল বৃক্ষ। শস্যদানা থেকে উদগত করেন বিভিন্ন রকম ফসল। এ যে তাঁরই কৃপা, কেবলমাত্র তাঁরই দান- একথা তিনি আমাদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যেন আমরা তাঁর শুকরিয়া আদায় করি। তিনি ইরশাদ করছেন-
قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ وَسَلَامٌ عَلَى عِبَادِهِ الَّذِينَ اصْطَفَى آللَّهُ خَيْرٌ أَمَّا يُشْرِكُونَ
أَمَّنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَأَنزَلَ لَكُم مِّنَ السَّمَاء مَاء فَأَنبَتْنَا بِهِ حَدَائِقَ ذَاتَ بَهْجَةٍ مَّا كَانَ لَكُمْ أَن تُنبِتُوا شَجَرَهَا أَإِلَهٌ مَّعَ اللَّهِ بَلْ هُمْ قَوْمٌ يَعْدِلُونَ
‘বল, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই এবং সালাম তাঁর সেই বান্দাদের প্রতি যাদেরকে তিনি মনোনীত করেছেন। বল তো, আল্লাহ শ্রেষ্ঠ, নাকি যাদেরকে তারা আল্লাহর প্রভুত্বে অংশীদার বানিয়েছে তারা? তবে কে তিনি যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন? তারপর আমি সে পানি দ্বারা উদগত করেছি মনোরম উদ্যানরাজি। তার বৃক্ষরাজি উদগত করা তোমাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না…।’ (সূরা নামল : ৫৯-৬০)
এ আয়াতের শেষে বান্দাকে আল্লাহ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন- বান্দা! এ বৃক্ষরাজি উদগত করার ক্ষমতা তোমার নেই। আমি তা উদগত করি। এ আমার দান। সুতরাং আমারই শুকরিয়া আদায় কর।
গাছ আমাদের কী কী উপকার করে তার বিবরণ অনেক দীর্ঘ। বাহ্যিক দৃষ্টিতে আমরা দেখি, গাছ আমাদের ফল-ফসল দেয়, ফুল দেয়, ছায়া দেয়, কাঠ দেয়। আর বিজ্ঞানের কল্যাণে আমরা গাছের আরও নানাবিধ উপকার সম্বন্ধে জানতে পারি। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে, আমরা গাছ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করি আর আমাদের শরীর থেকে যে কার্বন ডাই অক্সাইড বের হয়, গাছ তা শুষে নেয়। একটি গাছ বাতাস থেকে ৬০ পাউন্ডেরও বেশি ক্ষতিকারক গ্যাস শোষণ করে এবং ১০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের সমপরিমাণ তাপ নিয়ন্ত্রণ করে। আর যেখানে গাছ বেশি সেখানে বৃষ্টিও বেশি হয়। গাছের কাঠ দিয়ে বসবাসের ঘর ও আসবাব-পত্র তৈরি করি। ঔষধি গাছ থেকে ঔষধ তৈরি হয়। ফুল গাছের রং-বে রঙের ফুল আমাদের আঙিনা ও হৃদয় রাজ্য রাঙিয়ে দেয়। ফুলের সৌরভ-সৌন্দর্য হৃদয়কেও সুরভিত সুন্দর করে। বিভিন্ন মৌসুমে নানা রকম ফলের স্বাদে-ঘ্রাণে আমরা বিমোহিত হই। মোটকথা পৃথিবীর বাস্তুসংস্থান ও মানুষের জীবন ধারণের সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে গাছ বা বৃক্ষ। তাই ইসলাম বৃক্ষরোপণের প্রতি উৎসাহিত করেছে, একে সদকায়ে জারিয়া হিসেবে ঘোষণা করেছে।
হাদিসে পাকে রাসূলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন-
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا، أَوْ يَزْرَعُ زَرْعًا، فَيَأْكُلُ مِنْهُ طَيْرٌ أَوْ إِنْسَانٌ أَوْ بَهِيمَةٌ، إِلَّا كَانَ لَهُ بِه صَدَقَةٌ.

“যখন কোনো মুসলিম গাছ লাগায়, অথবা কোনো ফসল বোনে, আর মানুষ, পাখি বা পশু তা থেকে খায়, এটা রোপণকারীর জন্য সদাকা হিসেবে গণ্য হয়।” (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৩২০; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৫৩) আরেক বর্ণনায় এসেছে- “কিয়ামত পর্যন্ত (অর্থাৎ যতদিন গাছটি বেঁচে থাকবে বা তা থেকে উপকার গ্রহণ করা হবে) সে গাছ তার জন্য সদাকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হবে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৫২)
আমার লাগানো গাছ থেকে যে কেউ উপকার গ্রহণ করুক তা আমার জন্য সদাকা হিসেবে গণ্য হবে। এমন কি কেউ যদি আমার লাগানো গাছ থেকে চুরি করে খায়, সেটাও বিফলে যাবে না। হাঁ, চুরির কারণে তার গোনাহ হবে, কিন্তু আমি সওয়াব পেয়ে যাবো। হাদীসে এসেছে-
مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلَّا كَانَ مَا أُكِلَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَة، وَمَا سُرِقَ مِنْهُ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ مِنْهُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ، وَمَا أَكَلَتِ الطَّيْرُ فَهُوَ لَهُ صَدَقَةٌ، وَلَا يَرْزَؤُهُ أَحَدٌ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةٌ.
“কোন মুসলিম যখন কোন বৃক্ষ রোপণ করে- এর যে ফল খাওয়া হবে, এটা তার জন্য সদাকা হিসেবে গণ্য হবে। এ থেকে যা চুরি যাবে তাও সদাকা হিসেবে গণ্য হবে। হিংস্র প্রাণীও যদি তা থেকে খায় তাও সদকা হবে। পাখি খেলে সদকা হবে। (এমন কি) যে কেউ যেকোনভাবে এ থেকে (উপকার) গ্রহণ করবে তা সদাকা হিসেবে গণ্য হবে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৫৫২)
এ বর্ণনার শেষ অংশ থেকে বোঝা যায়, শুধু ফলবান গাছ উদ্দেশ্য নয় এবং শুধু ফল খেয়ে উপকার গ্রহণ উদ্দেশ্য নয়, বরং যে কোনো প্রকারের গাছ এবং যে কোনো প্রকারের উপকার গ্রহণই সওয়াব অর্জনের মাধ্যম বলে গণ্য হবে।
আরেক বর্ণনায় এসেছে-
مَا مِنْ رَجُلٍ يَغْرِسُ غَرْسًا إِلَّا كَتَبَ اللهُ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ قَدْرَ مَا يَخْرُجُ مِنْ ثَمَرِ ذَلِكَ الْغِرَاس.
কোনো ব্যক্তি যখন গাছ লাগায়, তো এ গাছে যত ফল হবে, তার আমলনামায় এ ফল পরিমাণ সওয়াব লেখা হবে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৫২০)
রাসূলুল্লাহ সা. যেমন নিজ হাতে গাছ লাগিয়েছেন, গাছ লাগানোর প্রতি উৎসাহিতও করেছেন, তাঁর সাহাবীগণও নিজেরা গাছ লাগাতেন এবং একে সওয়াবের কাজ মনে করতেন। এমন কি এটি যে একটি ভালো কাজ এ বিষয়ে কারো মাঝে অস্পষ্টতা বা অজ্ঞতা থাকলে তা দূর করতেন।
এ সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য বিখ্যাত হাদিসগ্রন্থ মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَجُلًا، مَرَّ بِهِ وَهُوَ يَغْرِسُ غَرْسًا بِدِمَشْقَ فَقَالَ لَهُ : أَتَفْعَلُ هَذَا وَأَنْتَ صَاحِبُ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَقَالَ : لَا تَعْجَلْ عَلَيَّ سَمِعْتُ، رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: ” مَنْ غَرَسَ غَرْسًا لَمْ يَأْكُلْ مِنْهُ آدَمِيٌّ، وَلَا خَلْقٌ مِنْ خَلْقِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ إِلَّا كَانَ لَهُ صَدَقَةً.
“হযরত আবু দারদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি গাছ লাগাচ্ছিলেন, এমন সময় তার পাশ দিয়ে এক ব্যক্তি যাচ্ছিলো। তাঁকে গাছ লাগাতে দেখে লোকটি বলে উঠলো- আপনি রাসূলের সাহাবী হয়ে গাছ লাগাচ্ছেন! তখন আবু দারদা রা. তাকে বললেন, একটু শুনে যাও; আমি রাসূলুল্লাহ সা. কে বলতে শুনেছি, যখন কেউ গাছ লাগায়, আর তা থেকে কোনো মানুষ বা কোনো প্রাণী খায়, এটা তার জন্য সদাকা হিসেবে গণ্য হয়।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৭৫০৬)
আরেক বর্ণনায় আবু দারদা রা.-এরই একটি ঘটনা এভাবে এসেছে, যা শরহুস সুন্নাহয় বাগাভী রাহ. আরেক বর্ণনার অধীনে পেশ করেছেন-
“আবু দারদা রা. একটি ফলগাছ লাগাচ্ছিলেন, এক ব্যক্তি তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। সে বলল, আপনি তো অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন, মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে, আপনি কেন এ গাছ লাগাচ্ছেন? এ গাছে ফল হতে হতে তো অনেক বছর লেগে যায়। তখন উত্তরে তিনি বললেন, এতে কী সমস্য? এর ফল অন্য মানুষ খাবে কিন্তু আমি তো এর সওয়াব পেয়ে যাবো।” (শরহুস সুন্নাহ, বাগাভী, বর্ণনা ১৬৫২-এর অধীনে)
এ থেকেই বোঝা যায়, বৃক্ষরোপণের বিষয়ে প্রিয় নবী সা. এর উৎসাহকে সাহাবায়ে কেরাম কত গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করেছেন ও আমল করেছেন।
পরিবেশ সবুজায়নে নবীজীর অভিনব পদ্ধতি
মানুষের কল্যাণেই যেহেতু বেশি বেশি গাছ লাগানো প্রয়োজন, সবুজ ভূমির প্রয়োজন, তাই প্রিয় নবী সা. শুধু গাছ লাগানোর প্রতি উৎসাহিত করেই ক্ষান্ত হননি বরং সবুজায়নের নতুন পথও উদ্ভাবন করেছেন। যে সকল জমি অনাবাদী পড়ে আছে সেগুলো যেন আবাদ হয়, সবুজ ভূমি বৃদ্ধি পায়, তাই নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। তিনি ঘোষণা করলেন-
مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ.
“যে ব্যক্তি কোনো পতিত ভূমি আবাদ করবে তা তার মালিকানায় চলে আসবে।” (জামে তিরমিযী, হাদীস ১৩৭৮)
এ সংক্রান্ত বিধি-বিধান ফিকহের কিতাব সমূহে সবিস্তারে উল্লেখিত রয়েছে।
বৃক্ষরোপণের প্রতি নবীজীর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ
বৃক্ষরোপণের বিভিন্ন ফযীলতের ঘোষণার সাথে সাথে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সর্বোচ্চ গুরুত্বের বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। এক হাদীসে তিনি ইরশাদ করেন-
إِنْ قَامَتْ عَلَى أَحَدِكُمُ الْقِيَامَةُ، وَفِي يَدِهِ فَسِيلَةٌ فَلْيَغْرِسْهَا.
“যদি কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আগ মুহূর্তেও তোমাদের কারো হাতে একটি চারাগাছ থাকে, তাহলে সে যেন তা রোপণ করে দেয়।” (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১২৯০২; আলআদাবুল মুফরাদ, বুখারী, হাদীস ৪৭৯)
উপযুক্ত কারণ ও প্রয়োজন ছাড়া গাছ কাটব না
যে গাছের মাঝে আল্লাহ আমার ও বসবাসের এ পৃথিবীর এত এত উপকার নিহিত রেখেছেন, বিনা প্রয়োজনে আমরা যেন তা কেটে না ফেলি। এটি যেমন এ নেয়ামতের না-শুকরি হবে তেমনি নিজ ও পৃথিবীর সামগ্রিক ক্ষতির কারণ হবে। কারণ, গাছে যত কমতে থাকবে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। খরা, অনাবৃষ্টি দেখা দেবে। পৃথিবীর আবাদী ভূমি অনাবাদী পতিত ভূমিতে পরিণত হবে। মানুষসহ পশু-পাখি বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে। তাই ইনশাআল্লাহ বিনা প্রয়োজনে আমরা গাছ কাটব না।
এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে-
مَنْ قَطَعَ سِدْرَةً صَوَّبَ اللَّهُ رَأْسَهُ فِي النَّارِ.
“যে ব্যক্তি কোনো বড়ই গাছ কাটবে আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।”
আবু দাউদ রহ.-কে এ হাদীসের অর্থ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন-
‘এ হাদীসের বক্তব্যটি সংক্ষিপ্ত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল, যে ব্যক্তি অকারণে বা না-হকভাবে মরুভূমির কোনো বড়ই গাছ কাটবে, যেখানে পথিক বা কোনো প্রাণী ছায়াগ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে অধোমুখে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন।’ (দ্র. সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫২৩৯) তবে কেউ কেউ বলেন, এ হাদীস হরম অঞ্চলের বড়ই গাছ কাটার সাথে সম্পৃক্ত। তো যাইহোক অকারণে গাছকাটা যে নিজেদের ক্ষতি ও সওয়াব থেকে মাহরূমি উপরের আলোচনায় আশা করি তা স্পষ্ট হয়েছে। সুতরাং আমরা বেশি বেশি গাছ লাগাব, অকারণে গাছ কাটব না।
পাশাপাশি জেনে নিই একটু অন্যরকম বৃক্ষরোপণের আমল
দুনিয়াবী অনেক কাজের ক্ষেত্রেই -সে কাজের প্রতি গুরুত্বারোপের সাথে সাথে- নবীজী তাঁর সাহাবীদের মানসিকতাকে আখেরাতমুখি করেছেন। বৃক্ষরোপণের ক্ষেত্রেও নবীজী এমনটি করেছেন। তাঁর প্রিয় সাহাবী গাছ লাগাচ্ছেন তো তাকে জান্নাতে গাছ লাগানোর পথও বলে দিচ্ছেন-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ بِهِ وَهُوَ يَغْرِسُ غَرْسًا، فَقَالَ : يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، مَا الَّذِي تَغْرِسُ؟ قُلْتُ : غِرَاسًا لِي، قَالَ : أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى غِرَاسٍ خَيْرٍ لَكَ مِنْ هَذَا؟ قَالَ: بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ، قَالَ : ” قُلْ : سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، يُغْرَسْ لَكَ بِكُلِّ وَاحِدَةٍ شَجَرَةٌ فِي الْجَنَّةِ ”
“হযরত আবু হুরাইরা রা. একদিন গাছ লাগাচ্ছিলেন। এমন সময় নবীজী পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। নবীজী জিজ্ঞেস করলেন, আবু হুরাইরা! কী লাগাচ্ছো? তিনি বললেন, একটি চারা রোপণ করছি। নবীজী বললেন, আমি কি তোমাকে এর চেয়ে উত্তম রোপণের কথা বলে দেব? আবু হুরায়রা বললেন, আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলুন। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বল,
سُبْحَانَ اللَّهِ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ.
এর প্রতিটির বিনিময়ে জান্নাতে তোমার জন্য একটি করে গাছ লাগানো হবে।” (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৮০৭)
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে বেশি বেশি বৃক্ষ রোপণ করে আগামির সবুজ-সুন্দর সুশোভিত পৃথিবী বিনির্মাণ ও পরকালিন সদকায়ে জারিয়াহ হাসিলের তাওফিক দান করুন। আমিন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top