বাহারছড়ায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মুল হোতা গ্রেফতার

876.jpg

৮ বছরের শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ধৃত আজিজ উল্লাহ

রিয়াজুল হাসান খোকন, বাহারছড়া :

টেকনাফ বাহারছড়ার উত্তর শীলখালীতে গত ২১ এপ্রিল আট বছরের শিশু উম্মে সাদিয়াকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে মুল হোতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, গত ২২ এপ্রিল রাতে অভিযান চালিয়ে বাহারছড়া শামলাপুর স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আর গ্রেফতারকৃত মুল হোতা ও ধর্ষক স্থানীয় উত্তর শীলখালীর জাগের হোসেনের ছেলে আজিজ উল্লাহ (১৮) বলে জানা যায়, তবে তারা চট্রগ্রামের বাঁশখালীর স্থায়ী বাসিন্দা, তারা সেখান থেকে বাহারছড়া উত্তর শীলখালীতে এসে পাহাড়ে সরকারী বনবিভাগের জায়গায় স্থায়ী ভাবে বসবাস করে আসছিল বলে স্থানীয়রা জানান। জানা যায় ২১ এপ্রিল সকাল ১০ টায় সাদিয়ার পিতা শফি উল্লাহ তার বাড়িতে কাজ করা স্থানীয় দিন মজুর ইউসুফের বাড়িতে নিহত সাদিয়াকে মজুরির পারিশ্রমিক হিসাবে ৫০০ টাকা ইউসুফের বাড়িতে তার বউয়ের কাছে দিতে পাঠায়। তবে সে সময় ইউসুফ শফিউল্লাহর বাড়িতে মজুরির কাজে ব্যস্ত ছিল বলে স্থানীয়রা জানান। পরবর্তীতে সন্ধা যাবত সাদিয়া বাড়িতে ফিরে না আসায় পিতা শফি উল্লাহর সন্ধেহ হয়, পরে ইউছুফের বাড়িতে খোঁজ খবর নেওয়ার পরও সাদিয়াকে না পেয়ে পিতা শফিউল্লাহ সারা রাত বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে, পরের দিন ২২ এপ্রিল অনেক খোঁজাখোঁজির পর এক পর্যায়ে স্থানীয় গভীর পাহাড়ে দুপর ১টার দিকে সাদিয়ার লতা দিয়ে পেছানো ঝুলন্ত অবস্থায় রক্তান্ত অর্ধগলিত লাশ পাওয়া যায়। পরে স্থানীয় বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা সাদিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ততের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠায়, আর প্রাথিমক জীজ্ঞাসাবাদের জন্য দিন মজুর মোঃ ইউছুফকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

এদিকে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত বড়ুয়া জানান শিশু কন্যা সাদিয়াকে অপহরণ, ধর্ষণ ও পরবর্তীতে লতা দিয়ে পেছিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার দায়ে মুল হোতা আজিজ উল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সে আমাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাদিয়াকে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা করা কথা স্বীকার করেছে, এখন আইন গত ভাবে আজিজ উল্লাহর জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে। আর এই ঘটনায় দিন মজুর ইউছুফের কোনো সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ার কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে ২৩ এপ্রিল দুপুর ১টার দিকে গহীন পাহাড়ে গিয়ে এই নির্মম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কক্সবাজার জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরোজ হক টুটুল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া – টেকনাফ সার্কেল) চাউলা চাকমা, টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত বডুয়া, ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সোনা আলী। তাদের কাছে স্থানীয়রা এই ঘটনার মুল হোতার সর্বোচ্ছ শাস্তি কামনা করেন।

এই ঘটনায় বাকরুদ্ধ বাহারছড়ার সচেতন মহল, তাদের অভিমত আসলে ধর্ষকদের আত্না কি দিয়ে তৈরি? তারা কেন এত নির্মম কাজ করতে পারে?, জানা যায় সাদিয়ার পিতা শফি উল্লাহ একজন কৃষক, পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে সাদিয়া ৪র্থ, আর সাদিয়ার ভাই বোনেরা তাদের বোনের এই নির্মম মৃত্যু দেখে দেখে যেন হতবাক, কাঁদতে কাঁদতে হয়ত তাদের চোখের পানি শেষ, তাই এখন তাদের মধ্যে চলছে শুধু বোবা কান্না, সাদিয়ার মা বাবা আদরের মেয়ের এই নির্মম মৃত্যুতে বার বার মুর্ছা যাচ্ছে, বোবা কান্নায় ক্ষত বিক্ষত হচ্ছে তাদের হৃদয়, তবে তাদের একটাই আশা সৃষ্টিকর্তার কাছে একটাই চাওয়া আর কোনো মা বাবার মেয়ে যেন এই নির্মম ভাবে মৃত্যু বরণ না করে, সাথে চেয়েছেন মানুষ রুপি নরপশু ধর্ষকের সর্বোচ্ছ শাস্তি। এদিকে এই রির্পোট লেখা পর্যন্ত সাদিয়ার লাশ মর্গে ছিল বলে জানা যায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top