রোহিঙ্গাদের মাঝে নানা রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে

Rohingha-camp_potiboniya_tt-pic-1.jpg

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভিন্ন রোগের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। হাম, ডিপথেরিয়া, মেনিনজাইটিস, গুরুতর জন্ডিস, হেমোরেজিক ফিভার, পানিবাহিত ডায়রিয়া, রক্ত আমাশয়ে ভোগা শরণার্থীদের কেউ কেউ সেরে উঠলেও ক্রমেই নতুন রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে। বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন সংক্রামক ও গুরুতর রোগে আক্রান্ত হয়েছে বলে স্বাস্থ্যকর্মীরা আশঙ্কা করছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এ তথ্য জানিয়েছে। সংক্রামক রোগ ও গুরুতর স্বাস্থ্যগত সমস্যা শনাক্ত করতে ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ডব্লিউএইচও রোহিঙ্গা শিবিরে আর্লি ওয়ার্নিং, অ্যালার্ট অ্যান্ড রেসপন্স সিস্টেম (ইডব্লিউএআরএস) ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। টেকনাফ ও উখিয়ার ১৫৫টি স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রকে ইডব্লিউএআরএস কেন্দ্র হিসেবে নিবন্ধন করা হয়েছে।
সেবা নিতে আসা রোগীদের অবস্থার ভিত্তিতে এসব কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যগত-সতর্কবার্তা নথিভুক্ত করা হয়। এ রকম ১১১টি সতর্কবার্তা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নথিভুক্ত হয়েছে বলে সর্বশেষ ইডব্লিউএআরএস প্রতিবেদনে জানা গেছে। গতকাল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রোগের লক্ষণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে (আইবিএস) বছরের ১৪তম সপ্তাহে ৯০টি সতর্কবার্তা দেয়া হয়। এছাড়া ১২টি সতর্কবার্তা দেয়া হয় বিভিন্ন উপলক্ষে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে (ইবিএস)। যাচাই শেষে ডব্লিউএইচও ১৩ রোগীকে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডব্লিউএইচও বলেছে, রোহিঙ্গা শিবিরে পানিবাহিত ডায়রিয়া সমস্যা প্রকট হচ্ছে। গত ৭ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে নতুন করে ৪ হাজার ৮২৭ জনের তীব্র পানিবাহিত ডায়রিয়ায় (এডব্লিউডি) আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর এডব্লিউডি আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৬২৮ জন। আক্রান্তদের সরেজমিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ঝুঁকি নিরূপণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, চলতি মাসের প্রথম সাতদিনে নতুন করে দুজন মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত ও তিনজন হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে রোহিঙ্গা শিবিরে ২০১৮ সালে মেনিনজাইটিস ও হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্তের সংখ্যা হয়েছে যথাক্রমে ৪২ জন ও ৬৭ জন। এছাড়া মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন করে ২০৪ জনের ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয় পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। এতে রোহিঙ্গাদের মধ্যে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা ৬ হাজার ৫৭৭-এ উন্নীত হয়েছে। একই সময়ে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চারজন ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top