টেকনাফ পৌর শহরে কায়ুকখালী খাল মাদক কারবারীদের নিয়ন্ত্রনে : নিশিরাতে চলে মাদকের রমরমা বাণিজ্য

Teknaf-pic-17.04.18.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :

টেকনাফ পৌর শহরের ঐতিহ্নবাহী কায়ুকখালী খালটি এক সময় চোরাচালানের জন্য খ্যাত ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে এবং এ খাল দিয়ে স্থল বন্দর দিয়ে প্রথম আমদানি ও রপ্তানী সীমান্ত বাণিজ্য কার্য্যক্রম চালু হবার পর দৃশ্যমান চোরাচালান বাণিজ্য তেমন একটা দেখা যায়নি। ২০০৩ সালে চৌধুরী পাড়াস্থ এ খাল থেকে অস্থায়ী স্থল বন্দর সীমান্ত বাণিজ্য কেরুনতলীতে স্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত করার পর সেই কায়ুকখালী খালটি বাণিজ্যে ভাটা পড়ে যায়। কয়েক বছর যেতে না যেতেই এ খালটি বাণিজ্যে পূণঃ যৌবন ফিরে আসে। খালের দুপাশে বেঙের ছাতারমত গড়ে উঠে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থাপনা ও গোদামে দৃশ্যমান সাইনবোর্ড নেই। কায়ুকখালটি বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির সামনে হয়ে ইসলামাবাদ পর্যন্ত লোকালয়ে চলে গেছে। চোরাচালান এবং মাদক ঠেকাতে নাফ নদীর তীরে খালের মোহনায় বিজিবির স্থায়ী ভাবে চেকিংপয়েন্ট রয়েছে। নাফ নদী হয়ে যে সব জলজান এখালে প্রবেশ করবে, বিজিবির তল্লাশীর মাধ্যমে প্রবেশ করে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দিনের বেলায় চেকিংপয়েন্টটি লোকদেখানো কড়াকড়ী হলেও রাত্রে বেলায় থাকে মিয়া বিবি রাজী কিয়া করেগা কাজীর ন্যায়। এখালের প্রবেশ পথে বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ির সামান্য দক্ষিণ পশ্চিম ব্রীজ এলাকায় বেঙের ছাতার ন্যায় মৎস্য রিসিভিং সেন্টার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমানার গভীর সাগর থেকে বিভিন্ন প্রজাতী মৎস্য আহরন করে এখানে নিয়ে আসার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যায়। বেশীরভাগ উৎস্য ফিশিং ট্রলার গভীর রাত্রে এখালে প্রবেশ করে। অতি সম্প্রতি কায়ুকখালী খালে রাত্রে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে এফবি সাদিয়া নামে একটি ফিশিং ট্রলার থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা জব্দ করে। পুলিশ এসময় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এ নিয়ে চলছে, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। সম্প্রতি মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দশম পর্ব প্রকাশের পর থেকে গোটা সীমান্ত এলাকা জোড়ে তোলপাড় হলে প্রশাসন, নড়ে চড়ে বসে। এর পর থেকে বিজিবি, কোষ্টগার্ড ও পুলিশের অভিযানে প্রতিনিয়তই বস্তা বস্তা ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ হচ্ছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পাচারে জড়িতরা ধৃত হচ্ছেনা। মাদকের এতোবড় চালান অতীতে জব্দ হয়নি এবং পুলিশের অভিযানে এ চালান জব্দের পর মাদক চোরাচালানীর রহস্যের জট খোলতে শুরু করেছে। জানা যায়, কায়ুকখালী খাল কেন্দ্রিক একটি মাদক চোরাচালানীচক্র মৎস্যের আড়ালে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদক/ইয়াবা পাচারে জড়িত থেকে এরা দেশে মাদকের চাহিদা পুরন করে আসছে। জড়িতদের অতীত ও বর্তমান সহায় সম্পদ এবং উত্তান সরেজমিন যাচাই করলে ওদের গোপন রহস্য বের হয়ে আসবে। খালের মূখে বিজিবি চেকিং পয়েন্ট থাকা সত্বেও এতো বড় ইয়াবার চালান কিভাবে নিয়ে আসলো, এ নিয়ে রীতিমতো সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। এফ,বি সাদিয়া নামক ফিশিং ট্রলারটি কার? এর প্রকৃত মালিক কে? তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রকৃত জড়িত মাদক কারবারীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ মাদক মামলায় ৭ জনকে আসামী করলেও ফিশিং ট্রলারের মাঝি জনৈক্ কবির আহমদকে রহস্যজনক কারণে কেন আসামী করা হয়নি। এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সে কে, কে পাড়ার অধিবাসী বলে জানা যায়। তথ্যভিত্তিক নিউজের জন্য অপেক্ষা করুন। ……চলবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top