শফিক মিয়াকে নিয়ে ফেইসবুকে অপপ্রচারের ঘটনায় উত্তেজনার অবসান

34567890-1-1.jpg

টেকনাফ টুডে ডটকম :
বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ জেলা পরিষদ সদস্য শফিক মিয়াকে নিয়ে গত দুইদিন যাবৎ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনায় সৃষ্ট উত্তেজনার অবসান হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সাবরাং মাদ্রাসায় সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান নুর হোসেন, বিএনপি নেতা সুলতান বিএ, ইউপি মেম্বার শামসুল আলম সহ গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা হয়েছে।
বিষয়টি উভয়পক্ষ নিশ্চিত করেছেন।
সাবরাং ওলামা পরিষদ সভাপতি মৌলানা হোসাইন আহমদ ও সাধারন সম্পাদক মৌলানা তৈয়ুব সাঈদ টেকনাফ টুডে ডটকমকে জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে শফিক মিয়াকে নাস্তিক ঘোষনা করে যে পোষ্ট দেওয়া হয়েছে সেটি ওলামা পরিষদের কেউ দেয়নি। সুযোগ সন্ধানী কোন গোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে জানান তারা। এছাড়া শফিক মিয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে যে ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছিল তাও অবসান হয়েছে বলে জানান তারা।
মূলত শফিক মিয়া যে বক্তব্য প্রদান করেছিলেন বলে গুজব ছড়ানো হয়েছিল আসলে তিনি সে ধরনের কোন বক্তব্য প্রদান করেননি বলে শেষ পযন্ত জানা গেছে।
ওলামা পরিষদ সাধারন সম্পাদক মৌলানা তৈয়্যুব সাঈদের ফেইসবুকে এ সংক্রান্ত একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে যা পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো

১লা বৈশাকের দিন সামান্য ভুল বুঝাবুঝির কারণে সামান্য তিল কে তাল করে কিছু মানুষ ফেকআইডি থেকে ওলামা পরিষদের নাম ব্যবহার করে সাবরাং এর একজন সম্মানীত ব্যক্তি জনাব শফিক চেয়ারম্যানের নামে এবং ওনার ছবি আপলোড করে কুচক্রিমহলের ইনদনে গুজব ছাড়িয়ে শান্তি শৃংঙ্খলার অবনতি করে রাজনৈতিক পায়দা হাছিল করার জন্য চেয়ে ছিলেন । আমরা ওলামা পরিষদের সকল নেতৃবৃন্দ তা উপলদ্ধি করতে পেরে আমরা আজ নুর হোসেন চেয়ারম্যান,সুলতান আহমদ বি এ ও শামসুল আলম মেম্বার মহোদয় গণের সাথে বসে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সেই ভুল বুজাবুজির পরিসমাপ্তি ঘটালাম আলহামদুলিল্লাহ । এবং যারা ফেকআইডি থেকে কুরুচিপুর্ণ স্টেটাস ও কটাক্ষ করে ছবি দিয়েছেন আমরা ওলামা পরিষদ এটা সমর্থন করিনা ।আমরা এর তিব্রনিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি । এই গুজবের চোরাবালিতে পা দিয়ে অতবা ইচ্ছায় অতবা অনিচ্ছায় কোন স্টেটাস, মন্তব্য ,শেয়ার ইত্যাদি করবেন না । তার পরেও যদি কেও কোন কুরুচিপুর্ণ মন্তব্য করে থাকেন তাহলে ওলামা পরিষদ ও সাবরাং এর সান্তিকামি মানুষ মনে করবে যে, আপনারাই উস্কানি দাতা । আমরা সকলে মিলে উস্কানি দাতাদের বিরোদ্ধে যাবো বলে একমত হয়েছি।

আদেশক্রমে
মৌলানা হোছাইন আহমদ সাহেব
সভাপতি ওলামা পরিষদ সাবরাং টেকনাফ ও ওলামা পরিষদের সকল নেতৃবৃন্দ ।

অপরদিকে শফিক মিয়া বলেন, যারা অপপ্রচার চালিয়েছিল তারা ক্ষমা চাওয়ায় এ ভুল বুঝাবুঝির অবসান হয়েছে। ওলামাদের নাম ব্যবহার করে একাত্তরের রাজাকারের প্রেতাত্মারা একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরীর চেষ্টা চালিয়েছিল বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য টেকনাফে ১ লা বৈশাখ পালনকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে ওলামা পরিষদ নামে একটি সংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। টেকনাফের সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ে ১লা বৈশাখের অনুষ্টানকে ঘিরে এ উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল।
ওলামা পরিষদের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, জেলা পরিষদ সদস্য শফিক মিয়াকে নাস্তিক হিসাবে অপপ্রচার শুরু করলে এ উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানান ও ওলামা পরিষদকে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১লা বৈশাখের রাত থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু ফেইক আইডি হতে এই বলে প্রচার চালানো হয় যে, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে কোন অনুষ্টান করতে চাইলে আধা ওলামারা বাঁধা দেন, সব ওলামারা রাজাকার। এতে সাবরাং ওলামা পরিষদ সভাপতি মৌলানা হোসাইন আহমদের উধৃতি দিয়ে শুক্রবারের মধ্যে শফিক মিয়াকে বক্তব্য প্রত্যাহারের আটটিমেটাম দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের উক্ত পোষ্টে শফিক মিয়াকে নাস্তিক দাবী করে ফাঁসী চাওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এ পোষ্টটি শত শত শেয়ার হলে তা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববার সন্ধায় সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবাদ জানান। সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মফিজ উদ দোল্লাহ এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এসময় শফিক মিয়া সহ বিদ্যালয়ে শিক্ষকগন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক বলেন, ওলামা পরিষদের ব্যানারে কিছু স্থানীয় মৌলানা গত ২১ ফেব্রুয়ারী ও ২৬ শে মার্চে বিদ্যালয়ের মাঠে কোন অনুষ্টান করতে দেয়নি। এসময় তারা সেখানে ওয়াজ মাহফিল দিয়ে মাঠ দখল করে রেখেছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ১লা বৈশাখের কয়েকদিন আগে থেকে তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার শুরু করে। একপর্যায়ে তাদের এক এজেন্ট বিদ্যালয়ে গিয়ে নববর্ষ পালন না করতে শাসিয়ে আসে।
১লা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও পুরষ্কার বিতরণী সভায় স্বাধীনতা বিরোধী কিছু ষড়যন্ত্রকারী এবং কুচক্রীমহলের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ শফিক মিয়া বক্তব্য রাখেন। উক্ত বক্তব্যকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ষড়যন্ত্রকারীরারা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, টেকনাফ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, সাবরাং ইউপির তিন বারের চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধারে ২২ বছরের সাধারন সম্পাদক, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ম্যানিজিং কমিটির সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ শফিক মিয়া গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ট থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। একশ্রেনীর কায়েমী স্বার্থবাদী ও কুচক্রীমহল কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তিরা স্বাধীনতা এবং জাতীয় অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে একের পর এক অপপ্রচার চালিয়ে শান্ত পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে উঠে পড়ে লেগেছে। হঠাৎ করে ২০১৭ সালে সাবরাং ওলামা পরিষদ নাম দিয়ে গুটি কয়েক স্থানীয় কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তি ধারাবাহিক ভাবে পালন করে আসা জাতীয় দিবস উদযাপনে বারংবার বাঁধা দিয়ে আসছে। এ পরিষদে অনেক সদস্য তথা আলেম নামধারী ব্যক্তি সরাসরি অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত। ওদের নৈপথ্যে আওয়ামীলীগ নামধারী কতিপয় ব্যক্তি ইন্ধন যোগাচ্ছে। বিগত ২৬ মার্চ এই ওলামা পরিষদ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাঁধা দিয়েছে। বেহায়াপনা, মদ ও জোয়ার আসর আখ্যায়িত করে গত ১৩ মার্চ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি প্রদান করেছে। শুধু তাই নই, ২১ ফেব্রুয়ারীতেও স্কুলে অনুষ্ঠান না করার জন্য নিষেধ করে। অথচ ২৬ মার্চ শিক্ষার্থীদের নিয়ে র‌্যালী, কবিতা, গান, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তব্য, নাটিকাসহ বিভিন্ন খেলাধুলা করে থাকে। বিষয়টিকে বেহায়াপনা বলে
ওলামা পরিষদের ব্যানারে কিছু ওলামা কিভাবে স্বারকলিপি দিল তাহা আমার বোধগম্য নই। অথচ সারাদেশে জাতি, শহীদ দিবস, স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করে আসছে। কিন্তু সাবরাংয়ে এগুলো করতে গেলে বাঁধা কেন?
শুধু তাই নই স্বাধীনতা দিবসে স্কুলের মাঠে ওয়াজ মাহফিল দিয়ে মাঠটি দখল করে। ফলে জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবস পালন করতে পারিনি। গত ১লা বৈশাখে স্কুলের উদ্যোগে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐহিত্য ও সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে মহিষের লড়াই, র‌্যালী, পান্তা-ইলিশ, চাউলের পিঠা, শিক্ষার্থীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বলিখেলার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে টেকনাফ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক, একজন এসআইসহ পুলিশ সদস্য, রাজনীতিবীদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, উখিয়ার সামশু বলি, থায়ংখালীর ছিদ্দিক বলি ও জব্বারের বলি খেলার চ্যাম্পিয়ন রামুর দিদার বলিসহ ১৫ জন স্বনামধন্য, নবীন ও প্রবীন বলিসহ হাজার হাজার জনগন অনুষ্টান উপভোগ করেন। অথচ উক্ত অনুষ্ঠানের দুয়েকদিন পূর্বে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১ লা বৈশাখকে ধর্ম বিরোধী আখ্যায়িত করে ওই কিছু ওলামা অপপ্রচার চালিয়ে আসছিল। এরা স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের উত্তরসূরী। বৈশাখের আগের দিন এক এজেন্ট বৈশাখী উৎসব না করার জন্য শাসিয়ে এসেছেন। সে সময় স্কুলের সভাপতি এবং কয়েকজন অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময়ে মোঃ শফিক মিয়ার বক্তব্যে বলেন, এই এলাকায় অনেক ভাল ভাল আলেম আছেন। যাদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি করা যায়। ইদানিং কিছু আলেম ওলামা নামধারী ব্যক্তিদের দেখতে পাচ্ছি। ওলামা পরিষদ নাম দিয়ে বিভিন্ন সামাজিক এবং জাতীয় অনুষ্ঠানে বাঁধা দিচ্ছে। তারা শুধু একটি এলাকা কেন্দ্রীক তথা এই সাবরাংয়ে বাংলা শিক্ষা বিরোধী কেন্দ্রীক হয়ে গেছে। যেখানে অবৈধ নৃত্য নেই, মদ-জুয়া নেই, অথচ সেখানে তাদের উদ্দেশ্যমুলক প্রতিবাদ। এধরনের ব্যক্তিদের আলেম বলতে কষ্ট হয়। চিন্তা চেতনায় তারা সম্পূর্ণ আলেম নই। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জাতীয় দিবস পালনে বাঁধা দেয়। যারা এসমস্ত দিবস পালন করে এবং করতে উৎসাহিত করে তাদেরকে ‘নাস্তিক’ বলে আখ্যায়িত করে। তারা অনেকেই স্বাধীনতা বিরোধী এবং রাজাকার পরিবারের লোক। ওই দিন সন্ধ্যার পর জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথিত ওলামা পরিষদ নামধারী কতিপয় ব্যক্তি সভাপতি মোঃ শফিক মিয়াকে নাস্তিক বলে আখ্যায়িত করে ক্ষমা প্রার্থনার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় গোটি কয়েক ইয়াবা ব্যবসায়ী দলীয় পরিচয়ে উক্ত পরিষদের সাথে সখ্যতা রয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো জানান, মোঃ শফিক মিয়া একজন নির্ভেজাল, ধর্মপরায়ন ও ইসলামের মূল্যবোধের প্রতি বিশ্বাসী সৎ লোক। সকল লোভ লালসার উর্ধ্বে উঠে মুক্তিযোদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ব্যক্তি। এমন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এসময় মোঃ শফিক মিয়া সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ভাবে হুঁশিয়ারি করে বলেন, এই কথিত ওলামা পরিষদ এসব উদ্দেশ্যমুলক অপপ্রচার ও আল্টিমেটাম আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রত্যাহার না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ে সকল শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top