সেই রোহিঙ্গা চেয়ারম্যান একতার হোসেন পরিবার নিয়ে গোপনে ফিরে গেছেন মিয়ানমার

image-38510-1523778808.jpg

অনলাইন ডেস্ক :
‘শনিবার দিনেও একতার হোসেনকে ক্যাম্পে দেখা গেছে। কিন্তু রোববার সকাল থেকে তার পরিবারের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কোথায় গেছে বলতে পারি না।’

এভাবেই বান্দরবানের একটি আশ্রয়কেন্দ্র থেকে এক রোহিঙ্গা পরিবারের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কথা জানালেন শরণার্থীদের দলনেতা নূর হোসেন।

এ জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু সীমান্তের কোনাপাড়া নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থিত আশ্রয়কেন্দ্রটি।

প্রতিটি শিবিরের নেতাদের রোহিঙ্গা মাঝি সম্বোধন করেন। নূর হোসেনও একজন মাঝি।

তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তার নেতৃত্বাধীন শিবিরের বেশ কয়েকটি রোহিঙ্গা পরিবার আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে যাওয়ার কথাবার্তা বলাবলি করছিল। এর মধ্যে শনিবার রাতে একতার হোসেনের পরিবারটি চলে যায়।

জানা গেছে, একতার হোসেন মিয়ানমারের তুমব্রু এলাকার বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান। শনিবার রাতে মিয়ারমার সীমান্তরক্ষীর সহযোগিতায় তার পরিবার স্বদেশে ফেরে। বান্দরবানের ঘুমধুম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, গত বছরের আগস্টে নির্যাতনের মুখে প্রাণ বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে সপরিবারে পালিয়ে এসে নোম্যান্সল্যান্ডে আশ্রয় নেয় প্রায় ছয় হাজার পরিবার। তাদের মধ্যে একটি পরিবার হচ্ছে মিয়ানমারের তুমব্রু ইউপি চেয়ারম্যান একতার হোসেনের।

দীর্ঘদিন নোম্যান্সল্যান্ডের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করলেও তাদের সঙ্গে মিয়ানমারের ওপারের যোগাযোগ ছিল। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় শনিবার রাতে মিয়ারমার সীমান্তরক্ষীর সহযোগিতায় তারা ফিরে যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্র জানা গেছে, ফিরে যাওয়ার পর একতার হোসেনের পরিবারের সদস্যদের পরিচয়পত্র সরবরাহ করে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

তুমব্রুর সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ফরিদ জানান, কোনাপাড়া নোম্যান্সল্যান্ডের আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাচ্ছে এ ধরনের খবর শোনা যাচ্ছিল। আশ্রয়কেন্দ্রের রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ওপারের যোগাযোগ ও যাওয়া-আসা রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরওয়ার কামাল জানান, নোম্যান্সল্যান্ডের আশ্রয়কেন্দ্রটি মিয়ানমারের সীমানায়। মিয়ানমারের এক জনপ্রতিনিধি পরিবার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে গেছে খবর পেয়েছি। এটি আমাদের জন্য একটি ভালো খবর।

ধারণা করা হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে, তাই রোহিঙ্গারা ফিরছে। এর পরও খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে বলে
জানান ইউএনও।

উল্লেখ্য রাখাইনের মগ সেনাদের অত্যাচার নির্যাতনে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া ধনাঢ্য একতার হোসেন পরিবার নিয়ে নো ম্যান্স ল্যান্ডে আশ্রয় নিলে সেসময় দেশের বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়েছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top