সাগর ও নাফনদ দিয়ে জোয়ারের ন্যায় মাদক ঢুকছে

yaba-yaba.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নাফ নদ ও সাগর পথে মাদক-ইয়াবা পাচার আশংকাজনক হারে বৃর্দ্ধি পেয়েছে। যাহা অতীতকে পর্যন্ত হার মানিয়েছে। দুদেশের জলসীমানা অরক্ষিত হওয়ায় বানের ¯্রােতের ন্যায় মাদক ইয়াবা ট্যাবলেটের বহর ঢুকছে। নববর্ষ এবং বৈশাখ উৎসবকে সামনে রেখে চাহিদা বেশী থাকায় মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট বৃর্দ্ধির অন্যতম কারণ বলে সমাজের বিশিষ্টজনেরা এ অভিমত প্রকাশ করেছেন।

১১ ও ১২ এপ্রিল এ দুইদিনে কোষ্টগার্ড ও পুলিশ নাফনদ ও সাগর পথে আসা ফিশিং ট্রলার ও নৌকায় পৃথক অভিযানে ১০ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান জব্দ করে।

অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয় মাদকের ভয়াবহতা রোধে মাদকের মৃত্যুদন্ড আইন কার্যাদেশ আসছে মর্মে আগেভাগে ফলাও করে প্রকাশ করার পর শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা এর আগেই মাদকের কালোটাকার মালিক হতে ওরা এখন থেকে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ওরা দুদেশের জলসীমানাকে মাদক পাচারে নিরাপদ মনে করছেন এবং একাজে ব্যবহার করছেন, মাছধরার ট্রলার ও নৌকাকে। বিশেষ করে সেন্টমার্টিনদ্বীপে দক্ষিণ পূর্বে গভীর সাগরে দুদেশের জেলেদের মাধ্যমে বড় বড় ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান হাত বদল হয়ে সেন্টমার্টিন, ছিড়াদ্বীয়া, শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়া, ঘোলার পাড়া, সাবরাং, নাফনদী সংলগ্ন লবণের মাঠ, চিংড়ী প্রজেক্ট, নয়াপাড়া ৪নং স্লুসগেট, আড়াইনং স্লুসগেট এবং সাগর সৈকত এলাকা কাটাবনিয়া, খুরেরমূখ, মুন্ডার ডেইলঘাটসহ অন্যান্য মৎস্য ঘাট দিয়ে খালাস হয়। এছাড়া সর্ববৃহৎ মাদ-ইয়াবা ট্যাবলেটের চালান গভীর জলসীমানা থেকে সরাসরী চট্টগ্রাম, ঢাকা, বরিশাল ও সন্ধীপে পাচার হয়ে যাচ্ছে। ওখানে দুদেশের শীর্ষ মাদক কারবারীরা বিভিন্ন নামী দামী আবাশিক হোটেল ও ফ্লাটে অবস্থান করে মিয়ানমার ও বাংলা সীম ব্যবহার করে এর নিয়ন্ত্রন করছে।

সূত্র মতে টেকনাফ সীমান্ত থেকে ইয়াবা কারবারীরা মাদক-ইয়াবা ট্যাবলেট পাচার নিত্য নতুন অভিনব পন্থাবলম্বন করছে।

বিজিবি, কোষ্টগার্ড, র‌্যাব ও পুলিশের তথ্যানুযায়ী বেশীরভাগ ইয়াবা পাচারে ব্যবহার করছে মাছ, লবণ, পান বোঝাই ট্রাক, গাড়ীর চাকা, দুরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস, গাড়ীর বডি ও আমদানী পণ্যের ভিতর।

আইন শৃংখলা বাহিনীর লোকেরা এসব গাড়ী থেকে প্রতিনিয়তই মাদক/ইয়াবা জব্দ করছে। এদিকে গোটা সীমান্ত এলাকা জোড়ে সচেতন জনগণ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে, বিজিবি, কোষ্টগার্ড ও পুলিশের অভিযানে, মাদক জব্দ হলেও কেন? যেন পাচারকারী ও ব্যবসায়ীরা আটক হচ্ছেনা। তাহা নিয়ে রীতিমতো সীমান্ত এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

টেকনাফ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক সাংসদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলার উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবসা বাড়ছে। গুটি কয়েক মাদক ব্যবসায়ীরা বদহাছলতের কারণে পুরো উখিয়া-টেকনাফ বাসীকে তার খেশারত দিতে হচ্ছে। প্রশাসনকে এ ব্যাপারে আন্তরিকভাবে কাজ করে তার প্রমাণ দিতে হবে। নইলে কোন ভাবে মাদক নিয়ন্ত্রন করা যাবেনা। শুধুমাত্র মাদক জব্দ করলে হবেনা, এর সাথে পাচারকারীকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top