অনুসন্ধানী প্রতিবেদন- (৬)-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রনে : রাতে চলে কালো টাকার লেনদেন

Teknaf-pic.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী : টেকনাফ দীর্ঘ সমূদ্র সৈকত মেরিন ড্রাইব সড়ক মাদক/ইয়াবা পাচারের নিরাপদ রুট হিসাবে ব্যবহার করছে মাদক ব্যবসায়ীরা। প্রায় ৮৬ কিঃ মিটার মেরিন ড্রাইব সড়ক অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। এ সড়কে মাদক পাচার ছাড়া ও সকল অপকর্মের আয়োজনের মেলা ও চলে। সময় অসময়ে ইয়াবার কালো টাকার বস্তা হাতবদল হয়ে চলে যাচ্ছে। অনুসন্ধান করতে গিয়ে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য ভেসে উঠেছে। তথ্য মতে সাবরাং ও টেকনাফ সদর সমূদ্র উপকূলীয়বর্তী ইউনিয়ন। নাফ নদীতে মাদক/ইয়াবা চোরাচালান সংশ্লিষ্টদের কড়াকড়ীর কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা বিকল্প পথ হিসাবে বেঁচে নিয়েছে সাগর উপকূলীয় এলাকাকে। সাবরাং ও টেকনাফ ইউনিয়নে সাগর উপকূলে যে ক’টি মৎস্য ঘাট রয়েছে তার মধ্যে কাটাবনিয়া, হারিয়াখালী, মুন্ডার ডেইল, মহেশখালীয়া পাড়া, লেঙ্গুরবিল, তুলতলী ও রাজারছড়া উল্লেখযোগ্য। এসব মৎস্যঘাটের পরিচালক ও জেলেরা মাছ শিকারের পরিবর্তে ইয়াবা শিকারে মত্ত হয়ে উঠেছে। সেন্টমার্টিনদ্বীপে দক্ষিণ পশ্চিম গভীর সাগরে দুদেশের জেলেদের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে মৎস্যের আড়ালে বস্তা বস্তা ইয়াবা উপকূলের চিহ্নিত মৎস্য ঘাটে খালাস হয়ে বালিতে অথবা মুরগীর খামার প্রতিষ্ঠানে মওজুদ করে রাখে। পরে কৌশলে মেরিন ড্রাইব সড়ক দিয়ে কক্সবাজারে পাচার হয়ে যায়। এছাড়াও হ্নীলা ও হোয়াইক্যং পাহাড়ী গিরিপথ দিয়ে ইয়াবা ট্যাবলেট মেরিন ড্রাইব সড়কে যুক্ত হয়ে চলে আসে। সূত্র জানায় টেকনাফ ও সাবরাং সাগর উপকূলে বেঙের ছাতার ন্যায় গজে উঠেছে, মুরগীর খামার। এসব খামারে প্রায় মালিক ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। ওরা ইয়াবা ট্যাবলেটের কালো টাকা সাদা করতে এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর বদ নজর থেকে বাঁচতে মুরগীর খামার ব্যবসাকে বেঁচে নিয়েছে। এখান থেকে চলে ইয়াবা ব্যবসার নিয়ন্ত্রন। ইয়াবা ব্যবসার লব্দ কালেটাকা বেশীরভাগ হাতবদল হয়ে এই মেরিন ড্রাইব সড়কে। এছাড়া ও ইয়াবা ব্যবসা নীরবে চালিয়ে যেতে মাসিক চুক্তির বস্তা বস্তা টাকা এই সড়কে ও আদান প্রদান চলে সংশ্লিষ্টদের সাথে। বিকাল নামার পর সীবীচে পর্যটক ভেসে ইয়াবা ও কালোটাকা মেরিন ড্রাইব সড়ক থাকে সরগরম। মাইক্রো, নোহা ও মোটর সাইকেল এ সড়ক থাকে ওদের দখলে। অতীতে মেরিন ড্রাইব সড়কে সেনাবাহিনীর হাতে ১৮লাখ টাকাসহ ৭জন ডিবি পুলিশ আটক হয়েছিল। এছাড়া ও এ সড়কে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়তই ইয়াবার চালান জব্দ ও আটক হচ্ছে। সমূদ্র উপকূল মৎস্য আহরন ঘাট দিয়ে বস্তা বস্তা ইয়াবা খালাস সংক্রান্ত বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা মাসিক আইন শৃংখলা উন্নয়ন ও চোরাচালান ট্রাসকফোর্স প্রতিরোধ কমিটির সভায় প্রায় আলোচিত হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। এ ব্যাপারে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ও’সি) রনজিত কুমার বড়ুয়ার সাথে মোঠো ফোনে জানতে চাইলে, তিনি বিষয়টি আমার নজরে রয়েছে। চলবেই…

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top