কীটনাশক ছাড়াই ক্ষেতের পোকা দমন নাইক্ষ্যংছড়িতে ধান ক্ষেতে পার্চিং ও অালোক ফাঁদ পদ্ধতি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া

-1.jpg

শামীম ইকবাল চৌধুরী, নাইক্ষ্যংছড়ি(বান্দরবান)থেকে::
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৫ ইউনিয়নের কৃষকেরা এবার ধানক্ষেতে দুটি পাচিং পদ্ধতির মাধ্যমে ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। কেননা পাচিং পদ্ধতিতে ধানক্ষেতের পোকামাকড় দমনে একদিকে ফসলের উৎপাদন খরচ কম হয়, অন্যদিকে ফলনও বাড়ে। প্রায় দিন দিন এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি এলাকার কৃষকের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
আরএদিকে, উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে গত সপ্তাহব্যাপী উপজেলা সদর ইউনিয়নের চাকঢালা, বিছামারা,আশারতলী ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ম্রাগ্য পাড়া, জারুলীয়া ছড়ি, জুমখোলা বাইশারী ইউনিয়নের ধাবনখালী, নারিষবুনিয়া, চাক হেডম্যান পাড়া দৌছড়ি ইউনিয়নের বাকঁখালী, বাহির মাঠ, তুলাতুলি ও ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি, তুমব্র, বদ্যছড়া,বড়ইতলী কচুবুনিয়া ব্লকে পার্চিং উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে সাড়া জাগানোও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাব সভাপতি শামীম ইকবাল চৌধুরী, উপসহকারী কৃষি অফিসার মহিবুল ইসলাম, সেলিনা আক্তার, শিমুল কান্তি বড়ৃয়া, মংচিং থোয়াই চাক্, রফিকুল আলম,আব্দু রহমান,নজরুল ইসলাম সহ কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিবিভাগ জানায়, ধানের জমিতে ডেথ পাচিং অর্থাৎ বাঁশ বা ডাল-পালা পুঁতে এবং লাইফ পাচিং অর্থাৎ জমিতে বিশেষ দূরত্বে ধইঞ্চা গাছ লাগিয়ে পাখি বসার ব্যবস্থা করে এবং রাতে বিদ্যুতের সাহায্যে আলোক ফাঁদ বসিয়ে, কীটনাশক ছাড়ায় ফসলের পোকামাকড় দমন করা যায়। এবার উপজেলায় ৬০ ভাগ জমিতে কৃষকেরা এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে পোকামাকড় দমন করছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, পার্চিং পদ্ধতি হলো ধানক্ষেতে বাঁশের কঞ্চি অথবা গাছের ডাল পোতে পাখিদের বসার ব্যবস্থা করা। ঐ ডালে বসে পাখিরা ধানক্ষেতে আক্রমণকারী পোকাগুলোকে খেয়ে ফেলে। যার ফলে ক্ষেতে কীটনাশকের প্রয়োজন অনেকটা কম হয়। তিনি আরো জানান, ইতিমধ্যে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়ন ঘুমধুম, সোনাইছড়ি, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর, দোছড়ি ও বাইশারী ইউনিয়নের ব্লক সহ অন্যান্য ব্লকে কৃষকদের মাঝেও পার্চিং পদ্ধতি উৎসবের মাধ্যমে সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস উপসহকারী কৃষি অফিসার উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অলক দাশ বলেন, ধানক্ষেতে ডেথ বা লাইফ পাচিং পদ্ধতিতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হলে পাখিরা সহজেই ধানের মাজরা ফুতি সহ ক্ষতিকারক পোকাগুলো খেয়ে পোকার বংশবিস্তার রোধ করবে। এটি জৈবিক বালাই দমন পদ্ধতি হওয়ায় কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। তাছাড়া বৈজ্ঞানিক এই পদ্ধতির পাশাপাশি বিদ্যুতের আলোক ফাঁদ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। অন্যান্য বারের তুলনায় আবাদ হয়েছে অনেক ভাল আর এই কারণে এবার কৃষকেরা বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিমুল রঞ্জন শীল জানান, পার্চিং পদ্ধতির ফলে ধান ক্ষেতে ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ফসলের উৎপাদন ব্যয়ও কম হয়। কীটনাশকের ব্যবহার কম হওয়ায় পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখাও সম্ভব হয়। ইতিমধ্যে পার্চিং পদ্ধতি ও আলোক ফাঁদ উৎসবের মাধ্যমে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার ফলে কৃষকদের মাঝে এ পদ্ধতি ব্যাপকভাবে সাড়া পেয়েছে বলেও তিনি জানান।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার ৫ টি ইউনিয়নে ১৩ শত হেক্টর জমিতে রবি মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল উৎপাদন ১১৯৫ হেক্টর ও ১০৫ হেক্টর হাইব্রিড ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে তা অতিক্রম করে ১৪ শত ২৫০ হেক্টর জমিতে রবি মৌসুমের উচ্চ ফলন ও হাইব্রিড শস্য চাষ করা হয়েছে।
কৃষকেরা জানান, এবার আমন ধান চাষাবাদের তারা কীটনাশকের পরিবর্তে ডেথ ও লাইফ পাচিং এর মাধ্যমে পাখি বসার ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বর্তমানে ধানক্ষেতে রোগ বালাই কম। কৃষি উপসহকারীরা আমাদের অনেক কিছু ধারনা দেওয়াতে আমরা অধিকাংশ তামাক চাষীরা এখন ধান চাষ করার আগ্রহ হয়েছি। এক সময় আমরা ধান ক্ষেত করেছিলাম।
সদর ইউনিয়নের কৃষক শাহ আলম জানান, এবারে আমি অন্যান্যদের দেখাদেখি আমন ধানের ক্ষেতে কীটনাশকের পরিবর্তে লাইফ পাচিং পদ্ধতির পাশাপাশি রাতে আলোক ফাঁদ ব্যবহার করায় কম খরচে ধানের বাম্পার ফলন পাবো বলে আশা করছি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top