টেকনাফ স্থল বন্দর সংলগ্ন এলাকায় মাদকের জোয়ারে ভাসছে, জড়িতরা রয়েছে ধরাছোয়ার বাইরে

yaba-yaba.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
পর্যটন মওসূমে টেকনাফ স্থল বন্দর ও জালিয়ারদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় মাদকের জোয়ারে ভাসছে। মিয়ানমার থেকে বানের স্রোতের ন্যায় মাদক ইয়াবা ও বিয়ার ঢুকছে। স্থানীয় কোষ্টগার্ড বাহিনীর অভিযানে প্রতিনিয়তই আমদানি নিষিদ্ধ ও বিভিন্ন অপকর্ম ও অশ্লীলতার মূল মাদক ও বিয়ার জব্দ হচ্ছে। পর্দার অন্তরালে জড়িতরা পার পেয়ে যাচ্ছে রহস্যজনকভাবে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কেরুনতলী ও স্থল বন্দরের কতিপয় শ্রমিক এবং মাদক সিন্ডিকেট এর সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকলেও আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে থাকে ওরা নিরাপদ।

সূত্র জানায় কেরুনতলী ও বরইতলী এলাকার কয়েকটি পেশাদার মাদক সিন্ডিকেট স্থলবন্দর ও জালিয়ারদ্বীপ এলাকায় মাদক পাচারের আধিপাত্য বিস্তার ঘটিয়ে এজনপদকে মাদকের স্বর্গরাজ্য পরিনত করেছে। টেকনাফ স্থল বন্দর সংলগ্ন ১৪ নং ব্রীজ ছারিয়াংখাল ও কেরুনতলীখাল দিয়ে মাদক, ইয়াবা ও বিয়ারের বড় বড় চালান খালাসের পর পাহাড়ের ভিতরে মওজুদ করে এবং পরে বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে পাচার হয়ে যায়।

এর সাথে জড়িত বেশীর ভাগ কেরুনতলীর যুব সমাজ বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, মিয়ানমারের পণ্যবাহী জাহাজ থেকে মাদক খালাস হয়। জাহাজের রাখাইন কর্মচারীর সাথে ওদের সখ্যতা থাকায় মাদক ব্যবসা ও পাচার ওদের জন্য সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।

আমদানিপণ্যের সাথে লুকিয়ে আনে হরেক রকমের মাদক ও বিয়ার। স্থল বন্দরের সীমানা পেরিয়ে, জাহাজ উত্তরে নোংগর করে রাখে এবং পরে অবস্থা বেধে ১৪নং ব্রীজ ও ছাড়িয়াংখাল দিয়ে পাহাড়ে মাদক পাচার হয়ে যায়।

স্থানীয় কোষ্টগার্ড বাহিনীর প্রায় অভিযানে এ ২টি স্থান থেকে মাদক জব্দ হয়। অপরদিকে জালিয়ারদ্বীপ ও মিয়ানমারের লালদ্বীয়া দ্বীপের দুদেশের জেলেদের মাধ্যমে মাদক হাতবদল হয়ে বরইতলী ও কেরুনতলীতে চলে আসে। রাত পোহালে স্থাল বন্দর সংলগ্ন এলাকায় চলে মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারের রামরাজস্ব।

সর্বশেষ অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ স্থল বন্দরের কতিপয় মাঝি ও শ্রমিক মাদক, ইয়াবা ব্যবসা ও পাচার দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রন করে আসছে। ওদের সাথে স্থানীয় কেরুনতলী ও বরইতলীর পেশাদার মাদক ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে স্থল বন্দরের পরিবহণ সেক্টরকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

পরিবহন ট্রাকের ড্রাইবার ও হেলপার মাদক/ইয়াবা আমদানিপণ্যের আড়ালে নিমিশে পাচার করে আসছে। অতীতে আইন শৃংখলা বাহিনীর হাতে আমদানিপণ্য পরিবহন ট্রাক থেকে মাদক/ইয়াবা প্রায় জব্দ হয়েছিল।

আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযানে প্রতিনিয়তই মাদক/ইয়াবা জব্দ হলেও এর সাথে জড়িতরা বরাবরই ধরাছোয়ার বাইরে থাকায় সচেতন মহলের মধ্যে স্বাভাবিক প্রশ্ন উঠেছে, যে, এরা কারা?।

অপেক্ষা করুন তথ্য ভিত্তিক নিউজ আসছে…।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top