বাহারছড়া ইউনিয়নের উত্তর শীলখালীতে দূর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত ১

20180311_085708.jpg

নিজস্ব প্রতিবেদক,শামলাপুর ।

টেকনাফ বাহারছড়ার উত্তর শীলখালীতে দূর্ধর্ষ ডাকাতির খবর পাওয়া গেছে। গত ৯ মার্চ শনিবার সন্ধা আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে উত্তর শীলখালীর হাজী জাফর আলমের দোকানে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

দোকানের মালিক হাজী জাফর আলম জানান, ইসলামী ব্যাংক টেকনাফ শাখা থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা লোন নিয়ে কোনো রকম ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। ঘটনার দিন দোকানের দুইজন কর্মচারীর একজন
হেলাল উদ্দীন বাহারছড়া ২নং ওয়ার্ড যুবলীগের কাউন্সিলে ব্যস্ত ছিল।

ফলে গত ১০ মার্চ শনিবার সারা দিন দোকান বন্ধ ছিল।

অপরদিকে আমার স্ত্রী ও সন্তানরা সেই দিন দোকান থেকে এক কিলোমিটার দুরে আমার পুরাতন বাড়িতে অবস্থানের সুযোগে সুযোগে স্থানীয় কয়েকজন ইয়াবা সেবনকারী ও ডাকাত দলের সদস্যরা প্রথমে আমার দোকানের পাশ ঘেঁষে আমার ঘরের টীনের বেড়া কেটে ঘরে প্রবেশ করে আলমারীর টালা ভেঙ্গে নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি ওয়াটার পাম্প, চারটি মোবাইল সেট ও চার ভরি স্বরর্ণ লুট করে নেয়, পরে ডাকাতরা আমার ঘরের ভেতরে ঘরের সাথে লাগানো দোকানের দেয়াল টপকিয়ে দোকানে ঢুকে দোকানের ক্যাশ থেকে নগদ ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা সহ দোকানের বিভিন্ন প্রকারের মালা মাল লুট করে নেয়।

এক পর্যায়ে ডাকাতরা মালামাল লুট করে চলে যাওয়ার সময় সন্ধা আনুমানিক সাড়ে ৭টার সময় দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দীন ও শহীদ উল্লাহ দোকানে আসলে তারা দোকানের ভেতর স্থানীয় ডাকাত দলের লোকদের দেখতে পাই, আর ডাকাতরা তাদের দেখে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা সেখান থেকে এক ডাকাতকে আটক করলে অন্য ডাকাতরা তাদেরকে দেশীয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাদের সদস্যকে ছিনিয়ে নেয়। এসময় ডাকাতদের অস্ত্রের আঘাতে কর্মচারী শহীন উল্লাহ আহত হয়। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে আমি এই ঘটনার ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মৌলভী রফিক উদ্দীনকে ফোন করলে তিনি রাত ৯ ঘটিকার সময় আমার দোকানে পুলিশ পাঠান এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ডাকাতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আমাকে আশ্বাস দেন।

এদিকে দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দীনকে ডাকাত দলের কোন সদস্যকে চিনেছে কিনা এমন প্রশ্নের করলে জবাবে তিনি বলেন মুলত আমরা যাদের চিনেছি তারা সবাই উত্তর শীলখালীর লোক ও ইয়াবা সেবনকারী, আর তারা হল স্থানীয় উত্তর শীলখালীর আলী হোসেনের ছেলে রহিম উল্লাহ, জসীম উদ্দীন, আলী আহমদের ছেলে আলী আকবর, দেলোয়ার হোসেন, মোঃ ইউছুপ, বকত্তার আহমদের ছেলে অচিউর রহমান সহ অজ্ঞাত আরো দশ থেকে বার জন লোক।

আর এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাহারছড়া ১,২,৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম বলেন আমি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারলাম যে উল্লেখ্যিত ব্যক্তিরা হাজী জাফরের দোকান ডাকাতিতে জড়িত।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে টেকনাফ বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাঞ্চন কান্তি দাশ বলেন উক্ত ঘটনার ব্যাপারে হাজী জাফর একটি অভিযোগ দায়ের করেছে, তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এব্যাপারে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তারা আত্মগোপনে থাকায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top