হাতির খাদ্য সংকট, রোহিঙ্গা শিবিরে বাড়ছে হামলার ভয়

image-26058-1520672162.jpg

অনলাইন ডেস্ক |

বন্যহাতির হামলার ভয়ে আমরা রাতে ঘুমাতে পারছি না। গেল পাঁচ মাসে আমরা কয়েকবার হাতির আক্রমণ দেখেছি।

কক্সবাজারের কুতুপালংয়ের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া ৪৭ বছর বয়সী মুহাম্মদ আলী জোহার আরব নিউজকে এসব কথা বলেন। শরণার্থী শিবিরে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তার সঙ্গে রয়েছেন।

এ অঞ্চলের এশীয় হাতিকে বিপন্নপ্রায় প্রজাতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে রোহিঙ্গা ঢলে তাদের আবাসস্থল দখল হতে শুরু করলে পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে বিরূপ হয়ে যায়।-খবর আরব নিউজ।

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির স্থাপন ও জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য ব্যাপকভাবে বনের গাছ কাটায় হাতিদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খাবারের খোঁজে প্রাণীটি বন থেকে বেরিয়ে এলে মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।

প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউসিএন) হাতি রক্ষায় কাজ করে। তারা জানায়, রোহিঙ্গা শিবিরের কারণে হাতিরা বিপদে পড়েছে। তারা শিবির পার হয়ে খাদ্য সংগ্রহের জন্য যেতে পারছে না।

হাতির আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত জানুয়ারিতে আইইউসিএন ৭০ বর্গকিলোমিটার পাহাড়ি এলাকায় মাঠ গবেষণা চালিয়েছে। সংস্থাটি তখন ওই অঞ্চলে ৪৫টি হাতি সক্রিয় দেখতে পেয়েছে।

আইইউসিএনের কান্ট্রি ম্যানেজার রাকিবুল আমিন বলেন, হাতির হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক সহায়তা করতে আমরা ১৭টি কমিটি গঠন করেছি। আগামী সপ্তাহে আমরা কমিটির সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫টিতে নিয়ে যাব।

তিনি বলেন, গত ১০ দিনে হাতির দুটি হামলা কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই প্রতিরোধ করতে পেরেছি। শরণার্থী শিবিরের পাশে হাতি দেখা গেলে কমিটির সদস্যরা আমাদের ফোন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিই।

কক্সবাজারের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আলী কবির বলেন, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে হাতির মূল বিচরণস্থলে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির বসানো হয়েছে। কয়েক প্রজন্ম ধরে তারা এই পথ দিয়ে দলবেঁধে চলাচল করে। প্রাণীরা যখন দেখে তাদের চলাচলের পথ রুদ্ধ, তখন তারা বিরূপ হয়ে যায়। তারা বাধা দূর করতে আগ্রাসী হয়ে ওঠে।

একটি হাতির দৈনিক ২০০ কেজির মতো খাবার লাগে। রোহিঙ্গা ঢলে বন ধ্বংস হওয়ার পর তাদের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাতিরা খাবারের জন্য বন থেকে বেরিয়ে আসায় মানুষের সঙ্গে সংঘাত হচ্ছে।

গত ছয় মাসে হাতির হামলায় ১০ রোহিঙ্গা শরণার্থী নিহত ও অনেকে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। স্থানীয়দের ফসলি জমি ও বাড়িঘরও হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাকিবুল আমিন বলেন, হাতিগুলোকে তাদের নিয়মিত পথ দিয়ে চলাচল করতে দিতে হবে। নয়তো হাতি ও মানুষ উভয়ের ক্ষতি আরও বাড়বে।

রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top