শূন্য রেখা থেকে রোহিঙ্গা সরাতে মিয়ানমারের নতুন কৌশল

K-H-Manik-Ukhiya-Pic-09-03-2018-2.jpg

কায়সার হামিদ মানিক, তুমব্র“ থেকে ফিরে :
বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্র“ কোনারপাড়া সীমান্তে ১ সপ্তাহর অধিক সময় ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করছে মিয়ানমার। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে এখানে ইতোমধ্যে ভারি অস্ত্র প্রদর্শন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। সীমান্তে তারা বিভিন্ন ধরনের উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। কখনো সীমান্তে কাঁটাতার ঘেঁষে সেনা টহল, কখনো বিপুল পরিমাণ সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপি মোতায়েন, আবার কখনো মিয়ানমারের নাটালা বাহিনী তুমব্র“ সীমান্তে সশস্ত্র অবস্থান নিচ্ছে। মদ্যপ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের ঝুপড়িতে বিভিন্ন ধরনের বস্তু নিক্ষেপ করছে। তুমব্র“ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত রোহিঙ্গাদের ভয় প্রদর্শন করে সরিয়ে নিতেই মূলত এই আচরণ করছে তারা। মিয়ানমারের এই আচরণে বাংলাদেশ-মিয়ানমার উভয় সীমান্তের পরিস্থিতি গুলাটে করে রাখছে। মিয়ানমারের অস্বাভাবিক আচরণের কারণে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি।
ঘুমধুম ইউপি চেয়ারম্যান এ কে জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে সবসময় বিজিপি, সেনা ও নাটালা বাহিনীসহ রাখাইন যুবকরা ঘুরাঘুরি করে। রাতের বেলায় তারা মদ্যপ অবস্থায় সীমান্ত রেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গাদের ঝুপড়িতে বিভিন্ন ধরনের বস্তু নিক্ষেপ করে। যাতে রোহিঙ্গারা অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শূন্যরেখা ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। মিয়ানমারের সেনা সদস্যদের ঘন ঘন উপস্থিতি ও টহলের কারণে এপারের গ্রামগুলোতে বসবাসরত লোকজনকে আতঙ্কে থাকতে হয়। তিনি আরো বলেন, তুমব্র“ খালে এসময় প্রচুর শাক-সবজি ও বিভিন্ন ফল মূল উৎপাদন করতো স্থানীয়রা। কিন্তু মিয়ানমার সেনা ও বিজিপির অপতৎপরতার কারণে চলতি মৌসুমে কিছুই করতে পারেনি।
শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গা নেতা আরিফউল্লাহ জানান, দিনের বেলায় মিয়ানমারের সেনা, বিজিপি ও নাটালা বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে অবস্থান করে তাদের বিভিন্নভাবে ভয় দেখাচ্ছে। রাতের বেলায় মিয়ানমারের যৌথ সশস্ত্র টহল কাঁটাতারের পাশে এসে তাদের দিকে বন্দুক তাক করে থাকে। কোনারপাড়া জিরো পয়েন্টের রোহিঙ্গা নেতা দিল মোহাম্মদ জানান, মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা পাহাড়ের চূড়ায় নতুন করে বাঙ্কার খনন করেছে। ওই বাঙ্কার থেকে তাদের দিকে ভারি অস্ত্র তাক করে রেখেছে। নোম্যান্স ল্যান্ডের রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দিতে মিয়ানমার নতুন কোনো কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে। সে আরো বলেন, শূন্য রেখায় অবস্থিত রোহিঙ্গাদের উপর মিয়ানমার সেনারা মানষিক ভাবে নির্যাতন করছে। তবুও বিশ্ব বিবেক জাগিয়ে উঠছে না। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুরুল হাসান খান জানিয়েছেন, সীমান্তে মিয়ানমারের অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনসহ সার্বিক পরিস্থিতি তারা পর্যবেক্ষণ করছে। গত শুক্রবারের পতাকা বৈঠকে মিয়ানমারকে সীমান্তে সেনা সমাবেশের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। বিজিবির ওই কর্মকর্তা আরো জানান, মিয়ানমার সেনাবাহিনী বাঙ্কার খনন টহল জোরদার এগুলো তাদের অভ্যন্তরিন ব্যাপার। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top