রোহিঙ্গাদের ফেরতে এখনও মিয়ানমারের সাড়া পাইনি: প্রধানমন্ত্রী

image-17254-1518502501.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক :
পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে চুক্তি হলেও এ ব্যাপারে মিয়ানমারের কাছ থেকে এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে ইতালি সফররত প্রধানমন্ত্রীকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি-ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিজলী জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সংস্থাগুলো রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এ বিষয়ে দাতাদের আগ্রহ কমে আসছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট কার্ডিনাল পিয়েট্রো প্যারোলিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বৈঠক হয়।

এ বৈঠক শেষে ভ্যাটিকান সিটিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শামীম আহসান জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেটকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে এবং এর সমাধানও রয়েছে সেখানে। তাই চুক্তি বাস্তবায়নও করতে হবে মিয়ানমারকে। কিন্তু এ ব্যাপারে আমরা এখনও মিয়ানমারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে তাদের স্বদেশ ভূমিতে ফিরে যেতে উৎসাহিত হয়, মিয়ানমারকে সে ধরনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ দায়িত্ব মিয়ানমার সরকারকে নিতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তার পেশ করা পাঁচ দফা প্রস্তাবের কথা আবার উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার এখনও কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করেনি।

বৈঠকে ভ্যাটিকান সিটির সেক্রেটারি অব স্টেট সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের কঠোর লড়াইয়ের প্রশংসা করেন।

এদিকে সন্ধ্যায় রোমে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার হোটেলে সাক্ষাৎ করেন ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক ডেভিড বিজলি।

পরে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বৈঠকের বিভিন্ন তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ডব্লিউএফপি রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা দিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। গত ছয় মাসে তারা আট কোটি ডলারের খাদ্যসামগ্রী বণ্টন করেছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে।

শহীদুল হক আরও বলেন, ডব্লিউএফপির মূল্যায়ন হল, রোহিঙ্গাদের প্রতি মাসে আড়াই থেকে তিন কোটি ডলারের খাদ্যের দরকার। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক দাতাদের আগ্রহটা যে কমে আসছে সে বিষয়ে বিজলি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন।

মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দুই বছর মেয়াদি একটি চুক্তি হওয়ায় কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরগুলোতে এ সময় পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা দিতে হবে।

এ কথা উল্লেখ করে বিজলি বলেন, জাতিসংঘ সিস্টেমের মধ্যে থেকে নিয়মিত এ সহায়তা দিতে তারা চেষ্টা করছেন। তবে এটি বেশ কঠিন হচ্ছে।

আগামী বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বাড়ার আশঙ্কা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উদ্বেগ জানান প্রকাশ করেন ডব্লিউএফপির নির্বাহী পরিচালক। এ সময় প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের সরিয়ে সাময়িকভাবে ভাসান চরে রাখার উদ্যোগের কথা তাকে বলেন।

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে জাতিসংঘে শেখ হাসিনা উত্থাপিত পাঁচ দফা প্রস্তাব বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নিয়মিত চাপ প্রয়োগ করার বিষয়ে তাগিদ দিতে বিজলীর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডব্লিউএফপির ক্যাম্পেইনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন নির্বাহী পরিচালক। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে দুবার তিনি ব্রিফ করেছেন।

বিজলি বলেন, রাখাইনে রোহিঙ্গারা যে ধরনের নিপীড়নের শিকার হয়েছে, সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন।

ডব্লিউএফপি ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে ৩০ কোটি ডলারের ১৩টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে জানিয়ে শহীদুল হক বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা নিয়মিত কাজ করবে বলে ডব্লিউএফপি নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন।

এদিকে বিজলীর সঙ্গে বৈঠকের পর রোমে বাংলাদেশের অনারারি কনসালদের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা। বৈঠকে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থ দেখতে অনারারি কনসালদের আহ্বান জানান।

ছয়জন অনারারি কনসালের মধ্যে চারজন দায়িত্ব পাওয়ার পর এখনও বাংলাদেশ সফর করেননি। প্রধানমন্ত্রী তাদের বাংলাদেশে সফরের অনুরোধ করেন এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ইতালীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করতে বলেন।

জাতিসংঘের কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) প্রেসিডেন্ট গিলবার্ট এফ হংবো ও পোপ ফ্রান্সিসের আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে রোববার ইতালি পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর পর সোমবার সকালে ভ্যাটিকান সফর করে পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে বৈঠক করেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার সকালে তিনি রোমে আইএফএডির সদর দপ্তরে গভর্নিং কাউন্সিলের ৪১তম অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং উদ্বোধনী অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন।

এর পর সন্ধ্যায় রোমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক সংবর্ধনাসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে ১৬ ফেব্রুয়ারি তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top