টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবার হালচাল- পর্ব- (৩) সেন্টমার্টিনে উপকূল ও সাগরে ইয়াবার পাচার জমজমাট

Teknaf-pic-12.01.18.jpg

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী : এখন পর্যটনের ভরা মওসূম। নৌপথ ও সাগর পুকুরের পানির ন্যায় শীতল। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ হলেও সাগরে কিন্তু মাছ শিকার বন্ধ হয়নি। স্থল পথের চেয়ে নৌ-পথে ইয়াবা পাচার বৃদ্ধি পেয়েছে। নৌপথে ইয়াবা পাচার অনেকাংশে নিরাপদ মনে করেই ইয়াবা সিন্ডিকেট শীতকালীন ও পর্যটন মওসূমকে একমাত্র টার্গেট হিসাবে গ্রহণ করেছে। অনুসন্ধানে এসব তথ্য জানা গেছে। তথ্য মতে, দেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিনদ্বীপ তৎসংলগ্ম সমূদ্র উপকূল এবং গভীর সাগরে মাছ শিকারের পরিবর্তে ইয়াবা শিকার আশংখাজনক হারে বৃর্দ্ধি পেয়েছে। টেকনাফ, চট্টগ্রাম ও ঢাকায় বসে ইয়াবা গডফাদারেরা অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রীয় যন্ত্র ও প্রযৌক্তি ব্যবহার করে এর নিয়ন্ত্রন করছে। স্থল পথে বিভিন্ন সরকারী এজেন্সির কড়াকড়ী এবং ঝুঁকি বিধায় ইয়াবা সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা সাগর পথকে ইয়াবা পাচারে নিরাপদ মনে করছেন। এছাড়াও সেন্টমার্টিনদ্বীপ এবং মিয়ানমারের রাখাইন দক্ষিণ আরাকান রাজ্যের সাগর উপকূল প্রত্যান্ত ও নীরব এলাকা এবং মৎস্য আহরনের ভরা মওসূম। বেশীরভাগ ইয়াবা মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসে মৎস্যবাহী ট্রলারে করে এবং মৎস্যবাহী ট্রলার ছদ্মবেশে মাছ শিকার না করে, ইয়াবা শিকারে মত্ত হয়ে উঠে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সেন্টমার্টিনদ্বীপের কয়েকজন জেলে জানায়, দ্বীপের দক্ষিণ পশ্চিম বাংলাদেশ মিয়ানমার দুদেশের পানি সীমানায় মৎস্য ট্রলারের সংখ্যা ইদানিং বৃর্দ্ধি পেয়েছে। পানি সীমানায় দুদেশের জেলেদের মাধ্যমে ইয়াবা হাতবদল হয়ে সরাসরী কুতুবদিয়া, মহেশখালী, বাঁশখালী, আনোয়ারা, গহিরা, ঈদগা, ইসলামপুর ও ঢাকা নাবায়নগঞ্জে খালাস হয়। অপরদিকে সমূদ্র উপকূল দিয়ে মিয়ানমার থেকে পাচার হয়ে আসা ইয়াবার চালান সাবরাং কাটাবনিয়া খুরেরমূখসহ টেকনাফের সাগর, উপকূলের মৎস্য ঘাটে রাতের অন্ধকারে খালাস হয়। মৎস্য ঘাটের আহরিত মাছের আড়ালে এসব ইয়াবার চালান সহজে ঢুকে পড়ে। সূত্রে আরো জানা যায়, সেন্টমার্টিনদ্বীপের দক্ষিণ পাড়া ও চীরাদ্বীয়া দিয়ে প্রচুর পরিমান ইয়াবা আসছে। স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধির ছত্র ছায়ায় মিয়ানমার থেকে ট্রলার যোগে সরাসরী বস্তা বস্তা ইয়াবা এসে মওজুদ হয়। এসব ইয়াবা পর্যটকদের আড়ালে ঢাকায় কৌশলে পাচার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ ৯নং ওয়ার্ড হচ্ছে সেন্টমার্টিনদ্বীপের দক্ষিণ পাড়া। এটি সাগর উপকূলীয় নীরব এলাকা বিধায় এখানে প্রতিনিয়তই মৎস্য ট্রলার ও হস্তচালিত নৌকা যোগে ইয়াবা বিভিন্ন মাদকদ্রব্য ঢুকছে। পর্যটকদের আরো আকৃষ্ট ও মনোরম করতে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদকদ্রব্য ওদের হাতে তুলে দিচ্ছে, ওরা। গত বছর এ সময়ে দক্ষিণ পাড়া ও চীরাদ্বীয়ায় বড় ধরনের ইয়াবা চালান আটক নিয়ে এলাকায় তোলপাড় হয়েছিল। যার রেশ এখনো চলছে। এখানে ইয়াবা পাচার চলছে। “মিয়া বিবি রাজী কিয়া করেগা কাজী” সংগা নিয়ে। এদিকে টেকনাফ কোষ্ঠাগার্ড বাহিনী গত ১২ জানুয়ারী সেন্টমার্টিনদ্বীপের উত্তর পশ্চিম গভীর সাগরে অভিযান চালিয়ে মালিক বিহীন ২১ কোটি টাকার মূল্যের ৪ লাখ ২০ হাজার ইয়াবাসহ ১টি মাছ ধরার ট্রলার জব্দ করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top