টেকনাফ সীমান্তে ইয়াবা চোরাচালান (২) পূর্ব : নাফ-নদীর ৯টি পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে ইয়াবা

Teknaf-pic-12.01.18.jpg

মোঃ আশেকুল্লাহ ফারুকী,টেকনাফ : টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ বদরমোকাম থেকে উখিয়া পালংখালী পর্যন্ত ৫৩ কিলোমির সীমান্তের দুরত্ব। এর মধ্যে যে ক’টি চোরাই পয়েন্ট দিয়ে আসছে, মাদক ও ইয়াবা। নাফ নদীর সাথে এসব চোরাইপয়েন্ট ও রোহিঙ্গা পারাপারের ঘাটগুলো হচ্ছে, শাহপরীরদ্বীপের ঘোলার পাড়া, জালিয়া পাড়া, হারিয়অখালী ৪নং ¯øুসগেট, সাবরাং আলোগুলা, কবির আহমদ চিংড়ীপ্রজেক্ট, নাজির পাড়া, উত্তর নাইট্যংপাড়া, কেরুনতলী, জাদীমুড়া, আনোয়ার চিংড়ী প্রজেক্ট, ওয়াব্রাং ও উনচিপ্রাং। মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) রাজ্য ২০১৭ সালে ২৫ আগষ্ট সন্ত্রাস দমনের নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও উগ্রপন্থী রাখাইন মিলে রোহিঙ্গা জাতীগত নিধন করতে গিয়ে বাংলাদেশের উখিয়া টেকনাফ সীমান্তে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয়। উত্তর রাখাইন (আরাকান) রাজ্যে রোহিঙ্গা ও ব্যবসা বাণিজ্য শূন্য। দক্ষিণ আরাকানে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা থাকলেও হতদরিদ্র পরিবার রোহিঙ্গা প্রায় শূণ্য এবং ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ন্ত্রন করছেন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা রাখাইনরা। রোহিঙ্গা প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে মোটা অংকের নজরানা দিয়ে দমন নিপীড়ন এবং অনুপ্রবেশ থেকে রেহায় পায়। গোটা আরাকানে ব্যবসা বাণিজ্য মাংগালা মংডু সিকদার পাড়া, রামিদং বুচিদংসহ আলোচিত কয়েকটি পাড়ার প্রভাবশালী রোহিঙ্গা ব্যবসায়ীরে হাতে। সে দেশের সেনাবাহিনী, সীমান্ত পর্যায়ের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) বাহিনীর লোকেরা ওদের মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হ্নীলা ও সাবরাং ইউনিয়নে, আলোচিত সীমান্তের চিহ্নিত পয়েন্ট দিয়ে দক্ষিণ রাখাইন (আরাকান) রাজ্য থেকে বেশীরভাগ ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান ঢুকছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদীতে চারমাস মাছ শিকার বন্ধ থাকলেও ইয়াবা আসা কিন্তু বন্ধ হয়নি। রাত হলেই নাফ-নদীর জিরোপয়েন্টে চলে দুদেশের সীমান্ত পর্যায়ে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান হাতবদল পালা। বিভিন্ন কলাকৌশল আবিস্কার করে দুদেশের ইয়াবা ব্যবসায়ীরা বস্তা বস্তা ইয়াবা নিয়ে আসছে। সাগর উপকূলের পাশাপাশি হ্নীলা ও সাবরাং এর নাফ নদীর উপকূল দিয়ে সমানতালে ঢুকছে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাবরাং এ ৭০% শতাংশ যুবসমাজ ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। পাড়ায় পাড়ায় চেয়ে যাচ্ছে, খুচরা ইয়াবা ব্যবসা। এমন দোকান নেই, ইয়াবা বিক্রি হচ্ছেনা। ইয়াবা বিস্তার রোধে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনার (দুদক) কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৬০ গডফাদারদের তালিকা তৈরী করে মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করেছে। শীঘ্রই সাড়াশি অভিযান চলবে বলে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। এদিকে টেকনাফ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে ১২ কোটি ৮১ লাখ ৮০ হাজার ১৮৯ টাকার মুল্যের ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬৯০ পিস ইয়াবা, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল আটক করে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top