মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বিল পাস

image-4940-1515513383.jpg

অনলাইন ডেস্ক :
মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রসমূহ সম্প্রসারণ ও বাণিজ্যিক ব্যবহার রোধ করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট বিধান করে সংসদে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন (সংশোধন) বিল-২০১৮ পাস করা হয়েছে। মঙ্গলবার এ বিল পাস হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। জাতীয় পার্টির নূরুল ইসলাম মিলন, রুস্তম আলী ফরাজী ও বেগম রওশন আরা মান্নান বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে একটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বাকী প্রস্তাবগুলো কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়।

বিলে কোনো হাসপাতাল সরকারের অনুমতি ছাড়া মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন করতে পারবে না মর্মে বিধান করা হয়েছে। সংযোজনের অনুমতির জন্য নির্ধারিত পদ্ধতিতে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সরকার বরাবর আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতি ও শর্ত পূরণ করলে হাসপাতালকে অনুমতি প্রদান করা হবে।

বিলের বিধান কার্যকর হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে উক্ত অনুমোদন নিতে হবে। কোন হাসপাতাল এ বিধান লংঘন করলে ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা যাবে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে স্থাপিত বা প্রতিষ্ঠিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন সংক্রান্ত হাসপাতালের বিশেষায়িত ইউনিটে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজনের ক্ষেত্রে অনুমতির প্রয়োজন হবে না।

বিলে সুস্থ, স্বাভাবিক বুদ্ধি সম্পন্ন কোনো জীবিত ব্যক্তির এমন কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিযুক্তির কারণে স্বাভাবিক জীবন-যাপনে ব্যাঘাত সৃষ্টির আশংকা না থাকলে তা কোনো নিকট আত্মীয়ের দেহে সংযোজনের জন্য দান করতে পারবেন বলে বিধান করা হয়েছে। তবে চক্ষু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয় হবার প্রয়োজন হবে না।

কোনো ব্যক্তি জীবদ্দশায় স্বেচ্ছায় তার কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ লিখিতভাবে দান করলে তা উক্ত ব্যক্তির ব্রেইন ডেথ ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্য কোনো ব্যক্তির দেহে সংযোজনের উদ্দেশ্যে বিযুক্ত করা যাবে বলে বিধান করা হয়েছে। ব্রেইন ডেথ ঘোষণা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দাতা, গ্রহিতার যোগ্যতা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।

বিলে ব্রেইন ডেথ ঘোষিত ব্যক্তির ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহের ক্ষেত্রে বয়স ২ বছরের কম অথবা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে তা সংগ্রহ করা যাবে না বলে বিধান করা হয়েছে। তবে চক্ষু ও অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

জীবিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে বয়স ১৮ বছরের কম অথবা ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংগ্রহ করা যাবে না। তবে শর্ত থাকে পুনঃউৎপাদনশীল টিস্যুর ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহিতা রক্ত সম্পর্কিত ভাই-বোন হলে অথবা চক্ষু, অস্থিমজ্জা সংযোজন বা প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

এছাড়া মৃত্যুর পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানে লিখিত আপত্তি করলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কার্যকারিতা কোনো কারণে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে, চক্ষু, অস্থিমজ্জা ও যকৃত প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্র ব্যতিত অন্যান্য ক্ষেত্রে, এইচবিএসএজি, এন্টিএইচ সিবি অথবা এইচআইভি পজেটিভ থাকলে, মেডিকেল বোর্ড কর্তৃক অযোগ্য ঘোষণা করা হলে, চর্ম বা মস্তিষ্কের প্রাইমারি স্টেজ ক্যান্সার ব্যতিত অন্য কোনো যে ধরনের ক্যান্সার, কিডনি সংক্রান্ত রোগ, এইচআই বি বা হেপাটাইটিস ভাইরাস, মেলিগন্যান্ট হাইপারটেনশন, জীবাণু সংক্রান্ত জনিত রোগ থাকলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রদানে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবে না বলে বিধান করা হয়েছে।

বিলে বয়স ২ বছর থেকে ৭০ বছর সীমার মধ্যে না হলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গ্রহিতা হিসেবে বিবেচিত হবেন না বলে বিধান করা হয়। তবে শর্ত থাকে ১৫ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সসীমার ব্যক্তি কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ব্যক্তিগণ গ্রহিতা হিসেবে অগ্রাধিকার পাবেন। আরও শর্ত থাকে কর্ণিয়া প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে এ বিধান প্রযোজ্য হবে না।

অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন বা প্রতিস্থাপনে মেডিকেল বোর্ড গঠন ও এর কার্যাবলী প্রত্যয়ন বোর্ড গঠন ও এর কার্যাবলী, ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি গঠন ও এর কার্যাবলী, ক্যাডাভেরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন পদ্ধতি, রেজিস্ট্রার সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে। উল্লেখিত বিধান লংঘনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও হাসপাতালের জন্য সুনির্দিষ্ট পৃথক দন্ড বিধান করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top