২০১৭: চলে গেলেন যারা

cholegelen-jara.jpg

টেকনাফ টুডে ডেস্ক : নানা প্রাপ্তি আর অপ্রাপ্তিতে কেটে গেল ২০১৭ সাল। বিনোদন জগতে অনেক প্রাপ্তির এ বছরে আমরা হারালাম অনেক গুণী শিল্পীকে ।
মিজু আহমেদ
২৭ মার্চ মাসে দিনাজপুরগামী ট্রেনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। আহমেদ ইলিয়াস ভুঁইয়া পরিচালিত ‘মানুষ কেন অমানুষ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠেছিলেন মিজু আহমেদ। কিন্তু ট্রেনে ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। পরবর্তীতে বিমানবন্দর স্টেশনে সাধারণ যাত্রীদের সহযোগিতায় তার লাশ ট্রেন থেকে নামানো হয়।
মিজু আহমেদ ১৯৫৩ সালের ১৭ নভেম্বর কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম নাম হচ্ছে মিজানুর রহমান। শৈশবকাল থেকে তিনি থিয়েটারের প্রতি খুবই আগ্রহী ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি কুষ্টিয়ার স্থানীয় একটি নাট্যদলের সাথে অন্তর্ভুক্ত হন। ১৯৭৮ সালে তিনি বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন। ‘তৃষ্ণা’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৯৯২ সালে সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন মিজু আহমেদ।

লাকী আখান্দ
দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়ে চলতি বছরের ২১ এপ্রিল চিরবিদায় নেন গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী লাকী আখান্দ।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলে তার ফুসফুসে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এরপর থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার পর কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। তার চিকিৎসায় সহায়তা করা হয় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকেও।
লাকী আখান্দের জন্ম ১৯৫৬ সালের ১৮ জুন। শৈশব পেরোতেই তিনি সুযোগ পেয়ে যান রেকর্ড লেভেল প্রতিষ্ঠান এইচএমভিতে। তারপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। ছন্দ-লয়ের টানে তিনি ভেসে চললেন সুরদরিয়ায়।

নায়করাজ রাজ্জাক
২১ অগাস্ট ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন নায়করাজ রাজ্জাক। হৃদরোগ ছাড়াও তিনি ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চমাত্রার ডায়াবেটিসে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন।
রাজ্জাকের জন্ম ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি অবিভক্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়। শৈশবেই তিনি বাবা-মাকে হারান। টালিগঞ্জের খানপুর হাইস্কুলে পড়ার সময় নাটকে অভিনয় করেন রাজ্জাক। কলেজে পড়ার সময় তিনি ‘রতন লাল বাঙালি’ নামে একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেন।
অভিনেতা হওয়ার মানসে ১৯৬১ সালে কলকাতা থেকে মুম্বাই পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি; সেখানে সফল না হয়ে ফিরেছিলেন টালিগঞ্জে। কলকাতায়ও পরিস্থিতি অনুকূলে না হওয়ায় ১৯৬৪ সালে ঢাকায় চলে আসেন রাজ্জাক। টিকে থাকতে এই সময় বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছিল তাকে।
১৯৬৪ সালে বর্তমান বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হলে সেখানে অভিনয়ের সুযোগ নেন রাজ্জাক। তখন ধারাবাহিক নাটক ‘ঘরোয়া’য় অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। কিন্তু তার লক্ষ্য ছিল চলচ্চিত্রে অভিনয় করা। আবদুল জব্বার খানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ পান তিনি তবে নায়ক হিসেবে নয়। সহকারী পরিচালক হিসেবে।

আবদুল জব্বার
সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়-এর মত অসংখ্য উজ্জয়নী আর আবেগসান্দ্র গানের শিল্পী স্বাধীনতাযুদ্ধের কণ্ঠসৈনিক আবদুল জব্বার না ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন ৩০ অগাস্ট।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
পাঁচ দশকের বেশি সময় বাংলাদেশের গানের ভূবনে আলো ছড়ানো দরাজ কণ্ঠের এই শিল্পীর দুটো কিডনিই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পাশাপাশি তিনি হৃদযন্ত্র ও প্রোস্টেটের সমস্যায় ভুগছিলেন।
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের এই শিল্পী বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক ছাড়াও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

বারী সিদ্দিকী
২৪ নভেম্বর মারা যান সুরকার, গীতিকার, বংশীবাদক ও সংগীতশিল্পী বারী তার দুটি কিডনিই অকার্যকর ছিল। তিনি বহুমূত্র রোগেও ভুগছিলেন। এর আগে ১৭ নভেম্বর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে বারী সিদ্দিকীকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সাত দিন আইসিইইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও তার অবস্থার অবনতি ঠেকানো যায়নি।
মূলত লোকগান ও আধ্যাত্মিক ধারার গানের জন্য পরিচিত এই শিল্পী গত শতকের শেষ দিকে সারা দেশের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছান কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের হাত ধরে। চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে তার দরদী কণ্ঠের বেশ কিছু আবেগমাখা গান দারুণ জনপ্রিয়।

বলিউড:
টম আলটার
২৯ সেপ্টেম্বর মুম্বাইতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মার্কিন বংশোদ্ভূত এই ভারতীয় অভিনেতা । বেশ কয়েক বছর ধরে ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন টম। লেখক, পরিচালক ও ‘পদ্মশ্রী’ পুরস্কারজয়ী এই অভিনেতা ১৯৭৬ সালে ধমেন্দ্র অভিনীত ‘চরস’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রবেশ করেন ।
এরপর ‘গান্ধি’, ‘সতরঞ্জ কি খিলাড়ি’, ‘ক্রান্তি’, ‘পারিন্দা’, ‘দ্য রাইজিং: ব্যালাড অফ মঙ্গল পান্ডে’, ‘বীর জারা’ সহ একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
বড়পর্দা ছাড়াও ভারতীয় টিভি সিরিজ ‘বেতাল পচ্চিশি’, ‘শক্তিমান’ ও ‘হাতিম’-এ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছন ।

ইন্দর কুমার
২৮ জুলাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মাত্র ৪৩ বছর বয়সে চিরবিদায় নিলেন বলিউড অভিনেতা ইন্দর কুমার।
১৯৯৬ সালে ‘মাসুম’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ‘কাহি প্যায়ার না হো যায়ে’, ‘পেয়িং গেস্ট’, ‘ওয়ান্টেড’সহ প্রায় ২০ টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন । এছাড়াও ছোটপর্দার জনপ্রিয় হিন্দি সিরিয়াল ‘কিউ কি সাস ভি কাভি বহু থি’তে মিহির বিরানি চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পান তিনি।
সর্বশেষ ২০১১তে ‘ইয়ে দুরিয়া’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। মৃত্যুর আগে ‘ফাটি পাড়ি হ্যায় ইয়ার’ নামে একটি সিনেমার শুটিংয়ের কাজ করছিলেন তিনি। বলিউড অভিনেতা সালমান খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ছিলো ইন্দরের।

শোভা সেন
৯৩ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী ১৩অগাস্ট সকালে কলকাতায় নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ।
প্রখ্যাত অভিনেতা উৎপল দত্তের স্ত্রী শোভা সেন-এর জন্ম বাংলাদেশের ফরিদপুরে।
পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝিতে তিনি যোগদান করেন লিটল থিয়েটার গ্রুপে, যা পরবর্তীতে পিপলস থিয়েটার গ্রুপে ।
নিমাই ঘোষের ‘ছিন্নমূল’-এর মাধ্যমে বড়পর্দায় প্রবেশ করেন তিনি। এরপর ‘সবার উপরে’, ‘পথে হলো দেরী’, ‘শঙ্খবেলা’র মতো সিুপারহিট বাংলা সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। ঋত্বিক ঘটকের ‘ঝড়’, ‘নাগরিক’, মৃণাল সেনের ‘একদিন প্রতিদিন’, ‘এক অধুরি কাহানি’, গৌতম ঘোষের ‘দেখা’, বাসুদেব চ্যাটার্জীর ‘পসন্দ আপনি আপনি’র মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
১৯৫২ সালের হিন্দি সিনেমা ‘বাবলা’ তাকে সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এনে দেয়।

সীতারাম পাঞ্চাল
১০ অগাস্ট মাত্র ৫৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন এ অভিনেতা। তিন বছর ধরেই কিডনি ও ফুসফুস ক্যান্সারে ভুগছিলেন ভারতীয় এই অভিনেতা।
১৯৯৪ সালে ‘বান্ডিট কুইন’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে প্রবেশ করেন সীতারাম। ‘পিপলি লাইভ’, ‘পান সিং তোমর’, ‘দ্য লিজেন্ড অফ ভগৎ সিং’ ও ‘স্লামডগ মিলিওনিয়ার’এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।

রিমা লাগু
১৮ মে,হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে ।
হিন্দি ছবিতে গৎবাঁধা মায়ের চরিত্রে নতুনত্ব আনার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবেন এই অভিনেত্রী । ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’, ‘হাম আপকে হ্যায় কৌন’, ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’, ‘ইয়েস বস’সহ বহু দর্শকপ্রিয় সিনেমায় তাকে দেখা গেছে।
বলিউডের প্রায় সকল জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গেই অভিনয় করেছেন তিনি। বড় পর্দার বাইরে ‘শ্রীমান-শ্রীমতি’, ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’ সহ ছোট পর্দার বেশ কিছু জনপ্রিয় সিরিয়ালেও দেখা দেছে তাকে।

বিনোদ খান্না

সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় ভারতীয় এই অভিনেতা ২৭এপ্রিল ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ।
‘মেরে আপনে’, ‘মেরা গাঁও মেরা দেশ’, ‘গাদ্দার’, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের প্রিয় তারকায় পরিণত হয়েছিলেন। রাজেশ খান্না, ধর্মেন্দ্র, শাম্মী কাপুর ও ঋষি কাপুর সহ অভিনয় করেছেন সে সময়ের জনপ্রিয় সব তারকাদের সঙ্গে।

বনশ্রী সেনগুপ্ত

১৯ এপ্রিল ৭১বছর বয়সে চলে গেলেন ভারতীয় সংগীতশিল্পী বনশ্রী সেনগুপ্ত।
তার গাওয়া বিখ্যাত গানগুলির মধ্যে রয়েছে— ‘আজ বিকেলের ডাকে তোমার চিঠি পেলাম’, ‘আমার অঙ্গে জ্বলে রংমশাল’, ‘ছি ছি ছি এ কী কাণ্ড করেছি’, ‘দূর আকাশে তোমার সুর’ ইত্যাদি ।
১৯৮৬-তে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন তিনি। দীর্ঘ সংগীতজীবনে অর্জন করেছেন রাজ্য সরকারের উত্তমকুমার অ্যাওয়ার্ড, বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড, প্রমথেশ বড়ুয়া অ্যাওয়ার্ড।

শশী কাপুর
৪ ডিসেম্বর মুম্বাইতে ৭৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খ্যাতিমান বলিউড অভিনেতা শশী কাপুর।
১৯৪৮ সালে ‘আগ’ সিনেমায় শিশুশিল্পী হিসেব বলিউডে অভিষেক ঘটে কাপুর পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের এ প্রতিভাবান অভিনেতার।
‘ধর্মপুত্র’, ‘বেনজির’, ‘ওয়াক্ত’, ‘প্যায়ার কা মওসুম’, ‘হাসিনা মান জায়েগি’, ‘হীরা অউর পাত্থর’, ‘সিলসিলা’সহ প্রায় ১১৬টির মতো সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ভারত সরকারের সম্মানজনক ‘দাদা সাহেব ফালকে’(২০১৫) ও ‘পদ্মভূষণ’ (২০১১) পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
১৯৭৮ সালে স্ত্রী জেনিফার কেন্ডালের সঙ্গে ‘পৃথ্বী থিয়েটার’ প্রতিষ্ঠা করেন শশী কাপুর।

শ্যামা
১৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের খ্যাতিমান ভারতীয় অভিনেত্রী শ্যামা।
গুরু দত্ত পরিচালিত ১৯৫৪ সালের সাড়াজাগানো সিনেমা ‘আর পার’-এ আধুনিক তরুণী নিক্কির ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি।
এছাড়াও ‘বরসাত কি রাত’, ‘তারানা’, ‘খেল খিলাড়ি কা’, ‘মিলন’, ‘হানিমুন’, ‘বেটি’, ‘সারোদা’সহ প্রায় ১৭৫টির মতো হিন্দি সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।
১৯৫৮ সালে ‘সারদা’ সিনেমার জন্য সেরা পার্শ্ব-অভিনেত্রীর ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন শ্যামা।
হলিউড:
হ্যারি ডিন স্ট্যানটন
১৫ সেপ্টেম্বর লস অ্যাঞ্জেলসের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খ্যাতিমান মার্কিন অভিনেতা, সুরকার ও সংগীতশিল্পী হ্যারি ডিন স্ট্যানটন।
হলিউড ক্রাইম সিনেমা ‘গডফাদার পার্ট টু’তে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি।
১৯৬৭ সালে ‘ইন দ্য হার্ট অফ দ্য নাইট’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডের রূপালি দুনিয়ায় প্রবেশ করেন তিনি।
‘কুল হ্যান্ড ল্যুক’, ‘কেলি’স হিরোস’, ‘এলিয়েন’, ‘গডফাদার পার্ট-টু’, ‘ইস্কেপ ফ্রম ‍নিউ ইয়র্ক’, ‘আলফা ডগ’, ‘ইনল্যান্ড এমপায়ার’ সহ একাধিক সাড়াজাগানো সিনেমায় অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন হ্যারি ডিন স্ট্যানটন ।
ফ্র্যাঙ্ক ভিনসেন্ট
হৃদপিন্ডের অস্ত্রোপচারের জটিলতায় ৬ সেপ্টেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৭৮ বছর বয়সী এ অভিনেতা।
১৯৭৬ সালের ক্রাইম ড্রামা ‘দ্য ডেথ কালেক্টর’ দিয়ে হলিউডে পা রাখেন ফ্র্যাঙ্ক ভিনসেন্ট। এরপর মার্টিন স্করসেসির ‘দ্য রেইজিং বুল’, ‘ক্যাসিনো’ ও ‘গুডফেলাস’ সিনেমায় যুক্তরাষ্ট্রের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। টিভি সিরিজ ‘দ্য সোপর‌্যানোস’ দিয়েও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন এই অভিনেতা।

রিচার্ড অ্যান্ডারসন

১৯৭৪ সালের সাড়াজাগানো বৈজ্ঞানিক কাহিনি নির্ভর টিভি সিরিজ ‘সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান’এর অস্কার গোল্ডম্যান চরিত্রে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা পান রিচার্ড অ্যান্ডারসন।
এই অভিনেতা একানব্বই বছর বয়সে ৩১ অগাস্ট নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
প্রথম জীবনে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সদস্য ছিলেন অ্যান্ডারসন। পরবর্তীতে অভিনয়কেই পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। জীবদ্দশায় প্রায় ১৮০টি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘দ্য পার্ল’, ‘ফরবিডেন প্ল্যানেট’, ‘দ্য অ্যাস্ট্রোনট’, ‘ড্রিম ওয়াইফ’, ‘আই লাভ মেলভিন’, ‘সেভেন ডেইস ইন মে’ ইত্যাদি।

জে থমাস
২৪ অগাস্ট মারা যান জনপ্রিয় মার্কিন উপস্থাপক ও কৌতুক অভিনেতা জে থমাস। ৬৯ বছর বয়সে মরণব্যাধি ক্যানসারে ভুগে চলে গেলেন ছোটপর্দার এ জনপ্রিয় তারকা।
প্রথম জীবনে ছিলেন রেডিও অনুষ্ঠান উপস্থাপক। পরবর্তীতে ‘মর্ক অ্যান্ড মিন্ডি’, ‘চিয়ার্স’ ও ‘মার্ফি ব্রাউন’এর মতো সাড়াজাগানো টিভি অনুষ্ঠান দিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।
মার্কিন টিভি চ্যানেল সিবিএস-এর সাড়া জাগানো কৌতুক অনুষ্ঠান ‘মার্ফি ব্রাউন’-এর জেরি গোল্ড চরিত্রের জন্য আজও সবাই স্মরণ করেন জে থমাসকে।

রবার্ট হার্ডি
হ্যারি পটার সিরিজের কর্নেলিয়াস ফাজ চরিত্রে অভিনয় করে পেয়েছিলেন জনপ্রিয়তা । ৩১ অগাস্ট ৯১ বছর বয়সে চলে গেলেন ব্রিটিশ অভিনেতা রবার্ট হার্ডি।
১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এ অভিনেতা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রয়্যাল এয়ারফোর্স দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৫৮ সালে ‘টর্পেডো রান’ সিনেমার মাধ্যমে রূপালি পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে ‘চার্চিল: হানড্রেড ডেইস দ্যাট সেভ ব্রিটেন’ সিনেমায় উইন্সটন চার্চিলের চরিত্রে দেখা গেছে তাকে।
চেস্টার বেনিংটন
২০ জুলাই, বৃহস্পতিবার মাত্র ৪১ বছর বয়সে চলে গেলেন জনপ্রিয় মার্কিন রক ব্যান্ড ‘লিঙ্কিন পার্ক’-এর লিড ভোকালিস্ট চেস্টার বেনিংটন ।
মার্টিন ল্যান্ডো
১৫ জুলাই, শনিবার লস অ্যাঞ্জেলসের এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮৯বছর বয়সী অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেতা মার্টিন ল্যান্ডো।
১৯৫৯ সালে ‘পর্ক চপ হিল’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে প্রবেশ করেন মার্টিন ল্যান্ডো। সর্বশেষ ২০১৭-র ‘দ্য লাস্ট পোকার গেম’ ছবিতে দেখা গেছে তাকে। বড়পর্দার পাশাপাশি ছোট পর্দার জনপ্রিয় সিরিজ ‘মিশন ইম্পসিবল’-এ অভিনয় করে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি।
দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অস্কার ছাড়াও গোল্ডেন গ্লোব, স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড সহ একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তিনি।

নেলস্যান এলিস

৮জুলাই হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মারা যান তিনি।
১৯৭৭ সালে ইলিনয়ে জন্ম নেওয়া নেলস্যান প্রথম জীবনে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে চলে এসে তিনি ভর্তি হন ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে তিনি চারুকলায় স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
ফক্স-এর ‘দ্য ইনসাইড’-এর প্রথম মৌসুম ও ‘ভেরোনিকা মার্স’-এর প্রথম পর্বের পরপরই তিনি সুযোগ পান ‘ট্রু ব্লাড’য়ে অভিনয়ের। এর পরপরই সিরিজটির খাটো গড়নের সমকামী পাচক লাফায়েত্তে রেনল্ডস-এর চরিত্রে অভিনয় করে সকলের নজর কাড়েন তিনি।

জেরি লুইস
২০ অগাস্ট লাস ভেগাসে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন খ্যামিতান কমেডি অভিনেতা জেরি লুইস। হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেছেন ‘কিং অফ কমেডি’ খ্যাত এ অভিনেতা।
১৯৫৭ সালে ‘দ্য ডেলিকেটেড ডেলিংকুয়েন্ট’ সিনেমার মাধ্যমে হলিউডে প্রবেশ করেন লুইস। এরপর একে একে অভিনয় করেন ‘দ্য কিং অফ কমেডি’, ‘দ্য লেডিসম্যান’, ‘দ্য নটি প্রফেসর’, ‘বোয়িং বোয়িং’, ‘ফানি বোন্স’ সহ অসংখ্য সাড়াজাগানো কমেডি সিনেমায়।
তার তীক্ষ্ণ-কৌতুকময় কথার খোঁচা ও ব্যাঙ্গাত্মক সংলাপের কারণে অল্প সময়েই বিপুল জনপ্রিয়তা পান তিনি।
সর্বশেষ ২০১৩ সালের ‘ম্যাক্স রোজ’ সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।

গ্লেন ক্যাম্পবেল
দীর্ঘদিন ধরেই দূরারোগ্য ব্যাধি আলঝেইমারে ভুগছিলেন সংগীত তারকা ও ছোট পর্দার জনপ্রিয় উপস্থাপক গ্লেন ক্যাম্পবেল। ৮ আগস্ট চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিরবিদায় নিলেন এ তারকা।
‘রাইনস্টোন কাউবয়’, ‘জেন্টল অন মাই মাইন্ড’, ‘বাই দ্য টাইম আই গেট টু ফোনিক্স’সহ অগণিত সাড়াজাগানো গানের স্রষ্টা গ্লেন ক্যাম্পবেল ছোট ও বড়পর্দাতেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়।
সিবিএস চ্যানেলের ‘দ্য গ্লেন ক্যাম্পবেল গুডটাইম আওয়ার’এর উপস্থাপক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন তিনি। এছাড়াও অভিনয় করেছেন ‘দ্য এফবিআই’, ‘ট্রু গ্রিট’ ও ‘প্লেয়ার্স’সহ একাধিক হলিউড সিনেমায়।

রজার মুর
ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াইয়ে পরাজিত হয়ে ২৩মে সুইজারল্যান্ডে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ৮৯ বছর বয়সী এই অভিনেতা।
১৯২৭ সালে লন্ডনে জন্ম নেওয়া রজার মুর তার ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন মডেল হিসেবে। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে খ্যাতনামা প্রযোজনা সংস্থা এমজিএম-এর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তিতে আবদ্ধ হন মুর। তবে বড় পর্দায় নয়, সাফল্যের স্বাদ মুর পেয়েছেন ছোটপর্দার হাত ধরেই। সত্তরের দশকের দুই টিভি সিরিজ ‘দ্য সেইন্ট’ এবং ‘দ্য পারসুয়েডার্স’-এর কল্যানেই জনপ্রিয় তারকায় পরিণত হন তিনি।
১৯৭৩ সালের হিট সিনেমা ‘লিভ অ্যান্ড লেট ডাই’-এর মাধ্যমে বন্ড জগতে প্রবেশ রজার মুরের, যে যাত্রা সফলভাবে টিকেছিল পরবর্তী এক যুগ!
প্রিয় বন্ধু অড্রে হেপবার্নের অনুরোধে জাতিসংঘের শুভেচ্ছাদূতে পরিণত হন তিনি। ব্রিটেনের রাজ পরিবারের তরফ থেকে ২০০৩ সালে তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
জনাথন ডেমি
২৬ এপ্রিল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে মারা যান অস্কারজয়ী মার্কিন পরিচালক জোনাথন ডেমি।
১৯৯১ সালের জনপ্রিয় সাইকো থ্রিলার ‘সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’য়ের জন্য সর্বাধিক পরিচিতি পান তিনি। অ্যান্থনি হপকিন্স ও জোডি ফস্টার অভিনীত এ ছবির জন্য সেরা পরিচালক বিভাগে জিতেছেন অস্কার পুরস্কারও।
‘ফিলাডেলফিয়া’, ‘সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস’, ‘ক্রেইজি মামা’সহ অসংখ্য সাড়াজাগানো ছবি বানিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি।
ওয়ারেন ফ্রস্ট
১৭ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার ভার্জিনিয়ার মিডলবারিতে একটি হাসপাতালে চিরবিদায় নিলেন ‘টুইন পিকস’খ্যাত ৯১ বছর বয়সী অভিনেতা ওয়ারেন ফ্রস্ট।
‘ম্যাটলক’, ‘দ্য ল্যারি স্যান্ডার্স শো’, ‘সিনফেল্ড’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় টিভি সিরিজে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন অভিনেতা ওয়ারেন ফ্রস্ট। তবে নব্বই দশকের দর্শকপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘টুইন পিকস’-এর জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top