বঙ্গোপসাগরে আবারো রোহিঙ্গাবাহী পৃথক নৌকা ডুবি : ৭ জনের লাশ উদ্ধার

IMG-20171031-WA0003.jpg

টেকনাফ প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরে আবারো রোহিঙ্গাবাহী পৃথক দুটি নৌকা ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধারের সংবাদ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সোমবার দিবাগত রাতে টেকনাফ সদরের মহেষখালীয়া পাড়া সৈকতে এক শিশু ও টেকনাফ সদর হাসপাতালে এক শিশুসহ ২ জনের লাশ পাওয়া যায়। মঙ্গলবার সকালে একই এলাকায় এক শিশু ও উখিয়া উপজেলার জালিয়া পালং উপকূলে অপর একটি নৌকা ডুবির ঘটনায় ১ বৃদ্ধ আরো ২ শিশুর লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এদিকে বিকালে জালিয়াপালং উপকুল থেকে আরও ১ শিশুর লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। নৌকা ডুবির পৃথক ঘটনায় গত ১২ ঘণ্টায় ৬শিশুসহ মোট ৭ জন রোহিঙ্গার লাশ পাওয়া যায়।
জানা গেছে, শামলাপুর এলাকার একটি নৌকা সোমরার রাতে মিয়ানমার উপকূল হতে ৩৫/৪০ জনের রোহিঙ্গাদের একটি দলকে নৌকায় উঠিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে দালাল চক্র। নৌকাটি রোহিঙ্গাদের টেকনাফ উপকূলের মহেষখালীয়া পাড়া সৈকতে নামিয়ে দিতে গিয়ে তাড়াহুড়োর মধ্যে দুর্ঘটনায় পড়ে। এতে ১৫/২০ জন রোহিঙ্গা নারী শিশু ও পুরুষ উপকূলে উঠলেও অনেকে নিখোজঁ হয়ে যায়। ঘটনার একটু পরপরই ২ শিশুকে উদ্ধার করা হলেও ততক্ষণে তাদের প্রাণ ছিলো না। পরে সকালে আরও এক লাশ উদ্ধার করা হয়।
মহেষখালীয়া পাড়া বোট মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুস সালাম জানান, সকালে আনুমানিক এক বছর বয়সী শিশুর লাশ সৈকত থেকে উদ্ধার করে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে মহেষখালীয়া পাড়া কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিজিবি সদস্যরা দূর্ঘটনা কবলিত দালালদের নৌকাটি সহ দুটি নৌকা ফুটো করে বিনষ্ট করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাইন উদ্দিন খান জানান টেকনাফ উপকূলে ৩ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
অপরদিকে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক কাঞ্চন কান্তি দাস জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উখিয়ার জালিয়াপালং উপকুলে রোহিঙ্গাদের একটি নৌকা ডুবে গেলে স্থানীয়রা মুমুর্ষ অবস্থায় ৮ জনকে উদ্ধার করে শামলাপুর পরিবার কল্যান কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। এর মধ্যে এক বৃদ্ধ ২ শিশুসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া বিকালে জালিয়াপালং উপকুলে আরও এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন তাকে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটিতে ৪০ জনের মতো যাত্রী ছিল বলে জানিয়েছে বেঁচে যাওয়া রোহিঙ্গারা। এর মধ্যে মৃত ৪ জনের লাশ পাওয়া গেছে। অধিকাংশ রোহিঙ্গা কুলে উঠতে পেরেছে বলে তারা জানায়।
জানা গেছে, রাখাইনের নাইনচং এলাকার রোহিঙ্গারা বেশ কয়েকদিন যাবৎ নাইক্ষংদিয়া এলাকায় অবস্থান করছিল বাংলাদেশে আসার জন্য। একপর্যায়ে সোমবার রাতে তারা দালালদের সাথে যোগাযোগ করে তারা এপারে আসার পথে দূর্ঘটনা কবলিত হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top