কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে রোহিঙ্গা ঢলের প্রভাব

Screenshot_2017-09-18-19-11-04-1.png

বাংলাদেশের প্রধান পর্যটন স্পট কক্সবাজার। আগামী নভেম্বরেই শুরু হচ্ছে পর্যটনের মৌসুম। প্রতি বছর এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটক আসে কক্সবাজারে। সংখ্যায় কম হলেও বিদেশী পর্যটকও থাকে এ তালিকায়। আর সারা বছর টুকটাক ব্যবসা করলেও ভরা এ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকে পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল ও শত শত প্রতিষ্ঠান। কক্সবাজারের যানবাহনচালক, দোকানপাট ও সাধারণ মানুষের জীবিকার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে পর্যটন। সঙ্গত কারণেই অধিবাসীরা শহরটিকে পরিপাটি ও ঝামেলাহীন দেখতে চায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেভাবে রোহিঙ্গারা আসছে, তাতে আসন্ন পর্যটন মৌসুমে ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রেহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই নারী, শিশু এবং বৃদ্ধ। যারা এসেছেন তাদের চেহারায় কেবলই প্রাণে বাঁচার আকুতি। তারা এখানেই থেকে যেতে চান নিজভূমে নিরাপদ একটি অবস্থা সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত। এদিকে স্রোতের মতো আসা এই শরণার্থীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়তে শুরু“ করায় উদ্বিগ্ন কক্সবাজারবাসী। দেশে পর্যটকদের প্রধান গন্তব্য কক্সবাজার শহরের অলিগলিতে হঠাৎ করে বেড়ে গেছে ভিক্ষুকের সংখ্যা। হাত পাতছে বিভিন্ন দোকান এবং সাধারণ মানুষের কাছে। প্রশ্ন করলেই জানা যায়, এরা রোহিঙ্গা। এমতাবস্থায় বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে অধিবাসীদের। ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা উপস্থিতি পর্যটনশিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এমন উৎকণ্ঠাও দেখা দিয়েছে।ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা উপস্থিতি পর্যটন শিল্পের ওপর দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে আসা রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফেরত পাঠানো না গেলে ভবিষ্যতে পর্যটকরা হয়তো কক্সবাজারকে এড়িয়ে দেশের বাইরে ভ্রমণে যাবে। জীবিকা না থাকায় জীবন বাঁচাতে হয়তো ভবিষ্যতে এসব রোহিঙ্গা চুরি-ছিনতাইয়ের মতো অনৈতিক কাজে জড়িয়ে যাবে, যার প্রভাব সরাসরি পড়বে পর্যটন খাতে। স্মরণকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ নিয়ে রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে স্থানীয়দের। তাদের ধারণা, এ মুহুর্তে রোহিঙ্গা ঠেকানো না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। এসব রোহিঙ্গারা টাকার জন্য সব কিছু করতে পারে। হত্যা থেকে শুরু করে পতিতাবৃত্তিতেও জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে রোহিঙ্গাদের। এতে পর্যটনবান্ধব পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হবে। যদিও পর্যটন স্থানগুলোয় রোহিঙ্গা প্রবেশ ঠেকাতে বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে পর্যটন স্থানগুলোয় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য টহল বাড়ানো হয়েছে। এক্ষেত্রে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী বিশেষ করে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন নানা ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সবশেষে বলা যায়, প্রায় ১০ লক্ষের বেশি রোহিঙ্গারা দীর্ঘ দিন ধরে যদি কক্সবাজারে বসবাস করতে থাকে এবং রোহিঙ্গা ঢল এভাবে অব্যাহত থাকে তাহলে নিশ্চিত ভাবেই কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে কূটনৈতিক দক্ষতার পরিচয় দিয়ে খুব দ্রুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে একটি কার্যকর মীমাংসা করতে হবে যা কক্সবাজারের পর্যটন তথা দেশের সার্বিক পর্যটন ব্যবস্থার জন্য সহায়ক হবে ।

ড. মোঃ নায়ীম আলীমুল হায়দার
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
আইন বিভাগ, কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top