পর্যবেক্ষণ:সু চির জন্য অগ্নিপরীক্ষা

bd-pratidin-1-2017-09-28-06.jpg

হাসান শাহরিয়ার:‘সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই’ মর্মবাণীটি ধর্ম, বর্ণ ও জাতি এই পরিচয়ে হারিয়ে গেছে— এই মন্তব্য করে দৈনিক ইত্তেফাকে আমার সাবেক সহকর্মী বৌদ্ধধর্মাবলম্বী শীলব্রত বড়ুয়া ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি খোলাসা করে কিছু না বললেও বার্মা বা মিয়ানমারের আরাকান (বর্তমান নাম রাখাইন) রাজ্যের নির্যাতিত, নিগৃহীত ও বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে তার অভিব্যক্তি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন বলেই মনে হয়।
বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় মিয়ানমারে হত্যাযজ্ঞের নিন্দা করেছে। শীলব্রত বড়ুয়ার বক্তব্যও যথার্থ। কারণ মিয়ানমারের সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পেছনে রয়েছে ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সম্পদ। বর্মিরা বৌদ্ধধর্মের অনুসারী, কিন্তু রোহিঙ্গারা ইসলাম ও হিন্দুধর্মাবলম্বী। বর্মিদের গায়ের রং মঙ্গোলীয় অর্থাৎ বাদামি। আর রোহিঙ্গাদের কালো। বর্মিদের জাতিসত্তা মঙ্গোলীয়, রোহিঙ্গাদের ভারতীয় (?)। বর্মিরা বলে, ‘এদের সঙ্গে আমাদের কোনো মিল নেই। এরা বহিরাগত বাঙালি। ’ অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের দাবি : ‘আমরা “বর্মাইয়া”। ’ তারা বলেন, ‘আরাকান আমাদের ঐতিহ্যবাহী মাতৃভূমি। আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রাক-ঔপনিবেশিক ও ঔপনিবেশিক-উত্তর আমল থেকে আরাকানে বসবাস করছেন। ’ কিন্তু তিব্বতি ও চীনাদের সমগোত্রীয় বর্মিরা তার কোনো স্বীকৃতি দিচ্ছে না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বার্মায় বসবাস করার ফলে রোহিঙ্গাদের একাংশ বিস্তর জায়গা-জমির মালিক হয়েছে। এও তাদের জন্য কাল হয়েছে। হিংস্র বর্মি সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের অনেকের ধানি জমি কিংবা বাড়িঘর কেড়ে নিয়ে বৌদ্ধদের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছে। তারপর বার্মাকে রোহিঙ্গামুক্ত করার লক্ষ্যে শুরু করেছে গণহত্যা ও জাতিগত নিধন। উপায়ান্তর না দেখে লাখে লাখে নিঃস্ব ও নিরপরাধ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। বার্মার দুই-তৃতীয়াংশ লোক বর্মি। সংখ্যালঘুদের মধ্যে ‘কারেন’ ও ‘শান’ শীর্ষে। অন্যরা ‘আরাকানি’, ‘মুন’, ‘চীন’, ‘কাচিন’ প্রভৃতি। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে মনে হবে বর্মিরাও বহিরাগত। ‘পিউ’ ও ‘মুন’ নামের দুটি মঙ্গোলীয় উপজাতি প্রায় ১৩ হাজার বছর আগে বার্মায় বসতি স্থাপন করে। দক্ষিণের ইরাবতী উপত্যকা দিয়ে প্রবেশ করে ‘পিউ’ এবং উত্তর দিক দিয়ে ‘মুন’। মধ্যযুগে মঙ্গোলীয় জাতির মতো ‘পিউ’ এবং ‘মুন’রাও ছিল হিংস্র, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনকারী। মূলত তারাই বর্মি বলে পরিচিত। অল্প দিনের মধ্যেই তারা বার্মার স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্নপ্রায় করে ৮৪৯ সালে পাগান রাজ্য গড়ে তোলে। মঙ্গোলীয় জাতির একটি অংশ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া দিয়ে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে ৩ থেকে ৫ হাজার বছর আগে। প্রাথমিকভাবে তারা পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাস শুরু করে এবং কালক্রমে তিব্বত, ভুটান, নেপাল ও সিকিমে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপজাতীয়রা এসেছে বার্মার চীন পাহাড় অতিক্রম করে। কাজেই দেখা যায়, বর্মি ও রোহিঙ্গা উভয়েই বহিরাগত। বর্মি আগে এসেছে এই যা। অনেকটা আমেরিকার মতো। ২০০ বছর আগে ইউরোপ থেকে যেসব অভিবাসী আমেরিকায় পাড়ি জমায়, তারাই বিরোধিতা করছে এশিয়া ও আফ্রিকার অধিবাসীদের অভিবাসন। বর্মিদের মতো গায়ের রঙের কথাটি তারা মুখে বলে না, মনের গহিনে রেখেছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে ইসলাম ধর্ম ও তার অনুসারীদের প্রতি অশ্রদ্ধা বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েকটি মুসলিম দেশের নাগরিকের জন্য জারি করা হয়েছে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।
বর্মি নেত্রী অং সান সু চি তো মানতেই রাজি নন যে, তার দেশের সেনা সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তবে তা হয়ে থাকলে তিনি তার নিন্দা করেছেন। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম মন্নু ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এর চেয়ে বড় রসিকতা আর কী হতে পারে?’ বঙ্গ ললনারা যেমন ভাসুরের নাম মুখে নেয় না তেমনি সু চিও সেনাবাহিনীর নাম উচ্চারণ করেন না। তবে গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তিনি বদলে গেছেন। বিদেশি সংবাদদাতারা বলেছেন, তিনি একনায়কত্বের দিকে এগোচ্ছেন। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তার প্রয়োজন সেনাবাহিনীর পূর্ণ সমর্থন। তাদের বিগড়ানোর ঝুঁকি তিনি নিতে চান না। তাই তাদের সব কর্মকাণ্ডে সায় দিয়ে যাচ্ছেন। রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের একটি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী, এ সত্যটিই তিনি অস্বীকার করেছেন। তিনি যখন বিরোধীদলীয় নেতা ছিলেন তখনো এই ইস্যুতে কথা বলতেন না, নীরবে রোহিঙ্গাবিরোধীদের সমর্থন জানিয়েছেন। কী কারণে জানি না, তিনি তাদের প্রতি এতই বীতশ্রদ্ধ যে, তার সাম্প্রতিক ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি পর্যন্ত উল্লেখ করেননি। তিনি বার্মার স্বাধীনতা সংগ্রামের শীর্ষ নেতা তার পরলোকগত পিতা জেনারেল অং সানের উত্তরসূরি হিসেবে অবাধ জনসমর্থন লাভ করলেও পিতার আদর্শ অনুসরণেরও কোনো চেষ্টাই করছেন না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইংরেজরা জাপানিদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল বার্মায়। রেঙ্গুন জাপানিদের দখলে ছিল তিন বছর (১৯৪২-৪৫)। জাপানিদের উদ্যোগেই গঠিত হয় বার্মা ইনডিপেনডেন্ট আর্মি। ইংরেজদের তাড়িয়ে বার্মার পূর্ণ স্বাধীনতা লাভের লক্ষ্যে তার বাবা ও বার্মা ইনডিপেনডেন্ট আর্মি জাপানিদের সমর্থন করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা সুভাষচন্দ্র বোসের সঙ্গে তার গোপন বৈঠক হয়েছিল রেঙ্গুনে। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে ছিলেন কয়েকজন মুসলিম রোহিঙ্গা ও বাঙালি হিন্দু নেতা। তারাও ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন। ১৯৪৭ সালে অং সান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ক্লেমেন্ট এটলির সঙ্গে চুক্তি করে বার্মার স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। শান, কারেন ও চীনাদের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্নেও একটি চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বার্মার নেতারা তা বাস্তবায়ন করেননি। ফলে দেশে বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল। বার্মার স্বাধীনতা লাভের কিছু দিন আগে বিরোধীদের হাতে অং সান নিহত হন। যারা এই ইতিহাস জানেন তারা সু চির মিলিটারিনির্ভর রাষ্ট্রনীতিতে অবাক না হয়ে পারেন না। অং সানের আদর্শের প্রতি তার কন্যার অনীহা কেন তার সঠিক জবাব পাওয়া দুষ্কর। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের আমলে পররাষ্ট্র দফতরের রাজনৈতিক কর্মকর্তা ও গণহত্যাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ড. গ্রেগরি এইচ স্ট্যানটন বলেছেন, ‘সু চি তার পিতার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। ’
জাতিসংঘের সদস্য থাকলে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বা যা ইচ্ছা করা যায় না, বিশ্বসভার কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই মিয়ানমারের অযাচিত ও অবাঞ্ছিত ঘচনাবলি এবং বর্মি সেনাবাহিনীর নৃশংসতায় বিশ্ববিবেক জেগে উঠেছে, যেমনটি হয়েছিল ১৯৭১ সালে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর্থন জানায়নি, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে পারেনি। মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও চীন, রাশিয়া ও ভারত মানবাধিকারের বিষয়টি প্রাধান্য না দিয়ে তাদের অর্থনৈতিক বিনিয়োগ রক্ষায় নিশ্চুপ রয়েছে। অন্যদিকে, সোচ্চার হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স নিরস্ত্র ও অসহায় রোহিঙ্গাদের ওপর বর্মি সেনাবাহিনীর হামলাকে ‘ভয়াবহ বর্বরতা’ বলে অভিহিত করে সহিংসতা বন্ধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন। এ সংকট নিরসনে নিরাপত্তা পরিষদকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাত্রেঁদ্ধা বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী যা করেছে তা গণহত্যা; এটা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেব। ’ রাখাইনে অভিযান বন্ধ না করলে ব্রিটেনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান সু চিকে দেওয়া তাদের পদক ও সম্মাননা প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। তবে এ প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদ কী ভূমিকা নেয় তা দেখতে আগ্রহী সারা বিশ্ব। নিরাপত্তা পরিষদের সাতটি স্থায়ী ও অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রোহিঙ্গা প্রশ্নে বৈঠক অনুষ্ঠানের তাগিদ দিয়েছে। ইতিমধ্যে একটি আন্তর্জাতিক গণআদালত রোহিঙ্গাসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর চালানো গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সু চির সরকার ও তার সেনাবাহিনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যাটি বিশ্বের নজরে আনার জন্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। এ প্রসঙ্গে এপির বাংলাদেশ সংবাদদাতা জুলহাস আলমের নাম উল্লেখ করতে হয়। বিশ্ববিখ্যাত ওয়াশিংটন পোস্ট, নিউইয়র্ক টাইমস, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস প্রভৃতি পত্রিকায় রোহিঙ্গা শিবির থেকে প্রেরিত তার অনেক রিপোর্ট মার্কিন প্রশাসনকে প্রভাবিত করেছে বলে মনে হয়।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্পীড়িত ও বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের জন্য তার দেশের দ্বার খুলে দিয়ে বলেছেন, ‘প্রয়োজন হলে আমরা খাবার ভাগ করে খাব। ’ বর্তমান রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি পাঁচটি প্রস্তাব পেশ করেছেন : ১. চিরতরে মিয়ানমারে সহিংসতা ও ‘জাতিগত নিধন’ নিঃশর্তে বন্ধ করতে হবে। ২. অনতিবিলম্বে রাখাইন রাজ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবের নিজস্ব অনুসন্ধানী দল পাঠাতে হবে। ৩. সব নাগরিকের নিরাপত্তাবিধান এবং মিয়ানমারে ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তুলতে হবে। ৪. বিতাড়িত সব রোহিঙ্গার নিজ বাড়িঘরে প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং ৫. কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালার পূর্ণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কূটনীতিকদের সঙ্গে রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন। তার এই দূতিয়ালির ফলেই বিশ্ব আজ তার পাশে দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপ কিংবা বিবেকের দংশনের কারণ যা-ই হোক, সু চি ও মিয়ানমারের টিক্কা খান বলে খ্যাত সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অঙ হ্লাইং রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সু চি তার স্টেট কাউন্সিলের একজন মন্ত্রীকে আগামী মাসে ঢাকা পাঠাবেন। দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে কী সিদ্ধান্ত হবে তা ভবিতব্যই জানে। তবে মিয়ানমারকে এই আশ্বাস দিতে হবে যে, তারা সব রোহিঙ্গাকে ফেরত নেবে। অতীতের মতো যাচাই-বাছাইয়ের বাহানা করে মিয়ানমার যাতে দীর্ঘসূত্রতা অবলম্বন না করে সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে মিয়ানমার। অতএব তাকেই এর সমাধান বের করতে হবে। উগলে দেওয়া ভাত আবার মিয়ানমারকেই গিলতে হবে। এটি সু চির জন্য এক বিরাট অগ্নিপরীক্ষা।

হাসান শাহরিয়ার : প্রবীণ সাংবাদিক, কলাম লেখক ও বিশ্লেষক; কমনওয়েলথ জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ইমেরিটাস।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top