প্রবাস সমাচার জাপান থেকে… প্রসংগ: রোহিঙ্গা

44-1.jpg

সিরাজুল কাদের : সম্প্রতি রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্টীর উপর ঘটে যাওয়া অমানবিক, নিষ্ঠুর, ভয়ংকর এক বিভীষিকাময় গণহত্যা, দানবীর কায়দায় নির্যাতন ও নিপীড়ন প্রাগৈতিহাসিক কালের বিভিন্ন হত্যাযজ্ঞ; আইয়্যামে জাহেলিয়া যুগের তাবৎ বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। যার নিন্দা বা ধিক্কার জানার ভাষা হারিয়ে তাথৈবচ অবস্থা! এই লোমহষর্ক নির্যাতনের সচিত্র প্রতিবেদন স্মরণে আসতেই নির্বাক হয় মস্তিষ্ক, নিথর হয়ে পড়ে আপাদমস্তক, কিংকর্তব্যবিমূঢ অবস্থায় অন্তরালে প্রচন্ড রকমের রক্তরণ ফলশ্রুতিতে বুকফাটা আর্তনাদ সব কিছু দুমডে-মুচডে ফেলে।
সভ্যতা যখন দুনির্বার শক্তিতে ক্রমান্বয়ে একের পর এক অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করে উন্নয়নের সব নিদের্শক কে অতিক্রমরত, প্রযুক্তি তার উৎকর্ষতার চুড়ান্ত বিজয়ের দ্বারে তেজী ঘোড়ার মত তীব্র গতিতে ধাবমান, বিজ্ঞান তার আপন গতিতে যাবতীয় ফর্মুলার বহি:প্রকাশ ঘটিয়ে মানবজগৎ ও জগতের অন্যান্য সৃষ্টির কল্যাণে পৃথিবী নামক এই গ্রহকে সুন্দর বাতাবরণে আনতে ব্যস্ত; এই সময়ে পিশাচী হাল আমলের ডাইনীখ্যত অংসানসূচীও মগ দস্যু-বর্গীদের প্রেতাত্মা হিংস্র বৌদ্ধ রাখাইনরা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর রক্তের হোলি খেলাতে মেতেছে।
একি বর্বরতা! বর্বরতার সংজ্ঞায় আদৌ বুঝি এমন শব্দমালা সন্নিবেশিত হয়নি যা এই বর্বরতার সংজ্ঞাকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।লিখতেও হাত কম্পমান। কাঠুরিয়া লাকড়ী তৈরীর জন্য গাছের বড় বড় ফালিকে যেভাবে কুড়াল দিয়ে পরপর কুপিয়ে খন্ড বিখন্ড করে তদ্রুপ এর চেয়ে অতিমাত্রায় নর নারীর শরীরকে কুপিয়ে খন্ড-বিখন্ডিত করা হয়েছে। দুপাশে গাছের মধ্যে ক্রসাকারে রশি দিয়েশক্ত করে হাত পা বেঁধে এরপর নিচ থেকে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে,এ থেকে মাচুম বাচ্চা শিশুরাও নিস্তার পাইনি।নির্মমতার আরেক স্তর একি পাষবিকতা! যেখানে রোহিঙ্গা বনী আদমকে হাত পা বেঁধে টিনে র উপর শুয়ে দিয়ে নিচ থেকেই আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে নিষ্ঠুর যণ্ত্রনাদায়ক মৃত্যুপূরীতে নিক্ষেপ করা হয়েছে। আরো কত ভয়াবহ নিপীড়নের চিত্র যা ইত্যবসরে সামাজিক মিডিয়ার কল্যাণে আপনাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।
সভ্যতা এবং তার গতিশীল যাত্রাপথকে থমকে দেওয়ার মতো এ কোন রক্তের হোলিখেলায় মেতেছে মানবতা, অহিংসা পরম ধর্ম এবং জীব হত্যা মহাপাপের ধ্বজাধারীরা?? গুটিকয়েক রাষ্ট্রাধিপতি ও তার নাগরিক ব্যতীত মানবতা মানবিধাকারের ফেরিওয়ালারা যেন কানে তুলো চোখে সীসাঢালা প্রাচীর দিয়ে ঘুমোট অন্ধকারে আসীন হয়ে নীরুর বাঁশি বাজাচ্ছে। এরাই মানবতা এবং মানবজাতির নিরাপত্তার নামে ব্যবিলনীয় সভ্যতার পীটভূমি ইরাকে চুড়ান্ত ধ্বংসলীলায় মেতেছিল। এরপর আফগান, লিবিয়াতে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে মানব বিধ্বংসী যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করে জনপদের পর জনপদ কালের অতল গহ্বরে তলিয়ে দিয়েছে।প্যালেসটাইন যেন এক মৃত্যুপূরীতে রুপ নিয়েছে। প্যালেস্টাইনী নর-নারীও নিস্পাপ শিশুদের রক্ত না হলে আজন্ম পাপী খুনী ইসরাঈলী ইহুদীরা দিনাতিপাত করতে পারেনা। কেন সভ্যতা এবং সম্প্রীতি বিরুদ্ধ এই ধ্বংসাত্নক খেলা?? মানবতার মুখোশধারী চশমখোরেরা লেবাসে শান্তিতে থাকার ছদ্মবেশ ধরলেও অন্তরালে দহনযণ্ত্রনার মুখচন্দ্রিকা উঁকি দিচ্ছে বারে -বারে, ক্ষণে-ক্ষণে। ধরনীর সর্বক্ষেত্রে প্রতিবাদী কণ্ঠের অমোঘবাণী গগণবিদারী আর্ত চিৎকার শুরু করেছে। দু:স্বপ্ন অমানিশার ক্ষণ গণনা চলছে আর কত হিংস্রতা, নিষ্ঠুরতা, বর্ররতা বয়ে বেড়াবে এই নিগৃহীত জনগোষ্ঠি?
মানবতা এবং মানবাধিকার কেন একটি ফ্রেমের মধ্যে বন্দী? তথাকথিত ভেটো পাওয়ারধারীরা এ কোন দাবার চাল চালছে একদিকে তারা হিংস্রও দানবীয় দূধর্ষ হালাকু খাঁ এবং চেংগীস খাঁনের চেয়ে ও জঘন্য পাষন্ড মায়ানমারের উগ্র বৌদ্ধ সেনা এবং তাদের সহযোগী খুনী রাখাইনগোষ্ঠীর সাফাই গাইছে অন্যদিকে বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিংগাদের ত্রাণ সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সহযোগিতা দেবে বুলি আওড়াচ্ছে। এ তো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড এ্যাপ্রাচ। এই নিগৃহীত রোহিংগা জনগোষ্ঠী কি আজোবদি তথাকথিত মানবতাবাদীদে বুলির আড়ালে পাঁঠা হয়েই থাকবে? অবস্থাদৃষ্ঠে বোধেদয় হয় মায়ানমারের আরাকান রাজ্য তথা উত্তর রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের জন্মই যেন আজন্ম পাপ!!
এদিকে প্রতারক অংসান সূচী সাংবাদিক সম্মেলন করে বলে কেন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে সেটার কারন নাকি সে জানেনা। অথচ ব্রিটিশ বিরুধী আন্দোলনে তার বাবার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর
আবদু রাজ্জাক মুসলিম জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসাবে দীর্ঘ সময় বার্মার রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। ইতিহাসের চরম পরিণতি তার বাবা অংসানের সাথে এই অবিসংবাদীত রাজনৈতিক বোদ্ধা আবদু রাজ্জাক কে আজকের কুখ্যাত বর্গী, রক্তপিপাসু বর্মী সেনা নামী হায়েনা উত্তরসূরিদের হাতে খুন হতে হয়। অংসানের সাথে রাজনৈতিক সখ্যতা থাকার কারনে সেই ব্রিটিশ পিরিয়ড থেকে এই সংখ্যালগিষ্ঠ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী কোন কন্ডিশন ব্যতিরেখে অন্ধভাবে পর্যায়ক্রমে অংসান এবং পরবর্তীতে অংসানসূচী ও তার দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রসী কে সমর্থন করে। অংসানসূচী সেনা সরকার কর্তৃক গৃহবন্ধী ও অন্তরীন থাকাকালীন এই হতভাগ্য রোহিঙ্গারা তার মুক্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সকল পর্যায়ে মিছিল সমাবেশ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দূতিয়ালী করে। ফলশ্রুতিতে অনেক রোহিঙ্গারা স্বীয় মাতৃ জঠর মায়ানমার থেকে চিরতরে অবাঞ্ছিত হয়ে অন্যদেশের গলগ্রহ হয়ে চির অশান্তিতে থেকে শান্তিতে দিনাতিপাত করার ভান ধরে জীবন যাপন করছে; এই পরিক্রমায় রাষ্ট্রও নাগরিক পরিচয়বিহীন কত হাজার হাজার রোহিঙ্গী বনী আদম অক্কা গেছে তার ইয়ত্তা নেই, এই রকম অনেক হৃদয়স্পর্শী, মর্মবেদী,জীবন্ত এবং বাস্তবধর্মী রোহিঙ্গা উপাখ্যান মানব সমাজে স্থান করে নিয়েছে। যারা কাছ থেকে তাদের দেখেছে এবং তাদের সাথে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তারা তাদের এই করুন কাহিনী শুনেছে এবং প্রত্যক্ষ করেছে। ভাগ্যক্রমে এই অধম ও তাদেরকে নিয়ে কাজ করেছে; কখনো দোভাষী, কখনো সোসাল ওয়ার্কার, কখনো মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের এ্যাওয়ারনেস প্রোগামার, কখনো কাউন্সিলর, কখনও ট্রেইনার, কখনো লাইভলিহুড সাপোর্টার কখনো প্রোগ্রাম অফিসার এবং ম্যানেজার হিসাবে দায়িত্ব পালন করে। তাদের ভাগ্যাকাশে কি নির্মম পরিণতি যার জন্য এত ত্যাগ, রক্ত, নিপীড়ন এবং যার সিঁড়ি বেয়ে অংসান সূচী নোবেল জয় করে। ক্ষমতারেহনের সূচনালগ্ন থেকে আজোবধি রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন রাজ্যে একটি কদম রাখবে তো দুরের কথা কখনো এখানে আসার প্রয়োজনবোধই জাগ্রতবোধ হয়নি এই তথাকথিত মানবতাবাদীও গণতন্ত্রী তকমাধারী সভ্যতার কলংকিনী ও উচ্ছিষ্ট অংসান সূচীর। সে কিভাবে জানবে রোহিংগারা বাংলাদেশে পালিয়ে যাচ্ছে? রাখাইন রাজ্য যেন তার কাছে ভিনগ্রহ, উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন পাথপাইন্ডারও পাঠিয়ে তার চলাচল পর্যবেক্ষন এবং নিরীক্ষন করা লাগবে ; তারপর সেই তিনি জানতে পারবেন ওখানে কি ঘটছে বা হচ্ছে!! বাহ! কি সুন্দর কথামালা! একবিংশ শতাব্দীএই নয়নাভিরাম এবং প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে যারা রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ে সম্যক ধারনাও রাখে তাদেরকে তো আবাল মফিজ, কুদ্দুস ভাবচ্ছেন আমি বলেই দিলাম এবং এটা একমাত্র সত্য কথন এই ভাব। নাফ নদীর পানি যে আজ রোহিঙ্গা ভাই- বোনদের রক্তধারায় লাল বর্ণ ধারন করেছে, ছিন্ন- বিচ্ছিন্ন লাশের পঁচা দুর্গন্ধে সীমান্ত যে ভারী হয়ে উঠছে, দক্ষিন কক্সবাজারের রাস্তায় রাস্তায় দু মুঠো অন্নের জন্য হাত উঁচিয়ে লাখো লাখো রোহিংগারা চাতক পাখির মত তডপাচ্ছে, বর্মী সেনাদের বর্বর নির্যাতন থেকে বাঁচতে এক গর্ভবতী মহিলা ও তার পরিবার সাত দিন সাত রাত রাখাইন রাজ্যের দুর্গম কন্টকাকীর্ণ ও বন্ধুর পথ অতিক্রম করে বালুখালীর অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে আসা মাত্রই প্রসব বেদনা শুরু হয় পরে ফুটফুটে এক মানব সন্তান ভূমিষ্ট হয় কিন্তু মা তার অনাহারে অর্ধাহারে থেকে, শরীরের উপর বয়ে যাওয়া ধকল সইতে না পেরে বাচ্চা প্রসবকালীন সময়ে তীব্র যণ্ত্রনাধায়কাবস্থায় অকাল মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে! এখানে পরিবারের সদস্যরা সহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য পরিবারের সদস্যদের গগণ বিদারী আহাজারীতে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ রকম না জানা কত কেস স্টাডি যা ফলাও করে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক দৈনিকে স্থান করে নিয়েছে। দুনিয়ার তাবৎ বিশ্ব মিডিয়া যেখানে রোহিংগা নিউজে সরব সেখানে অংসান সূচী নাকি জানেনা কেন তারা পালিয়ে যাচ্ছে? জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে পালিয়ে আসা কেন প্রায় চার লক্ষাধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিশাল বহর বাংলাদেশের সীমান্ত জেলা কক্সবাজারে অবস্থান করছে তার কারন ও নাকি তিনি জানেনা। মানব সৃষ্ট এই মহা দুর্যোগের নেপথ্যে কার বা কাদের স্বক্রিয় ভূমিকা সন্দেহাতীতভাবে সবারই জানা।
এদিকে জাপানের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ও রোহিঙ্গা সংকটের খবর রীতিমত ফলাও করে চাপানো হয়েছে যেখানে উল্লেখ করেছে ” বিশ্ব কি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সূচীর বক্তব্য বিশ্বাস করে?” জাপান টাইমস। “মায়ানমারে জাতি নিধনের নামে আবারও রোহিঙ্গা সংকট” “রোহিংগা ইস্যুতে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগে নোবেল জয়ী অংসান সুচী বিশ্বব্যপী সমালোচিত এবং মিয়ানমারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংকটের সম্মূখীন হওয়ার উপক্রম” এশিয়ান নিক্কেই জাপান। টেলিভিশন সহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক মিডিয়া রোহিঙ্গা সংকট ও মায়ানমার নিউজে এখনও সরব।
প্রেস কনফারেন্সে সুচীর একটি জঘন্য এবং বিতর্কিত উক্তি যা আমার মাতৃসম প্রাণপ্রিয় বাংলাদেশকে নিয়ে করেছে। সেই বিতর্কিত উক্তি বিভিন্ন মিডিয়াতে এসেছে যেখানে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে বাংলাদেশী অভিবাসী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আজ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় সে তার জন্মদাতা পিতার কর্মকে অস্বীকার করছে ক্ষমতার লোলুপদৃষ্টি তাকে নীতি নৈতিকতার নিকৃষ্ট বন্দরে নিপতিত করেছে। তার পিতা অংসান ই ১৯৪৮ সালে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বার্মা তথা আজকের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব প্রদান করেছিলেন। । অথচ বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৭১ সালে, ১৯৪৮ সালে তো বাংলাদেশ নামক কোন রাষ্ট্রই পৃথিবীর মানচিত্রে ছিলনা। কালের গর্ভে স্বীয় পরিচয় ভূলে গিয়ে সূচী পাগলের প্রলাপ বকছেন এবং বলছেন রোহিংগারা নাকি বাংলাদেশী, আমি এই উক্তির বিপক্ষে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি সেইসাথে আহবান জানাচ্ছি, যোগ্য পিতার কন্যা হিসাবে যত শীঘ্রই তার শুভ বুদ্ধির উদয় হবে ততই তার জন্য মংগলজনক। আর যেন তিনি এই জাতীয় বিতর্কিত উক্তি না করেন।
একজন নোবেল লরেট হিসাবে তার জানা উচিত মায়ানমারকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর জন্য বহুজাতিক কোম্পানীরা যে সমস্ত মেঘা প্রজেক্ট কাজ করে যাচ্ছে সেক্ষেত্রে ২৫% সংরক্ষিত আসনের সেনারাই কিন্ত সর্বসের্বা, সূচীর ভূমিকা এখানে ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিদীরাম সর্দার বৈকি! নিজস্ব রাজনৈতিক স্বকীয়তা এবং আদর্শকে জলান্জলী দিয়ে ধরিত্রীর হাল আমলের প্যারাসাইট সেনা প্রধান লাইংয়ের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে ঘোড়ার মত দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্র ক্ষমতা ভোগের যে দু:স্বপ্নতে সূচী সাঁতরাচ্ছে সেই স্বপ্ন হতাশার চোরাবালিতে যে সলিল সমাধী হবে তা যদি এখন থেকে পারংগম করতে না পারে তাহলে রোহিংগা জনগোষ্ঠীর চেয়ে চরম দু:সহ যণ্ত্রনাময় পরিণতি তার জন্য অপেক্ষা করছে । তখন আশপাশে তার এই চরম পরিণতি থেকে পরিত্রান দেয়ার অবশিষ্ঠ কেউ থাকবেনা। হয়ত: তিনি ভাবছেন রাষ্ট্র যণ্ত্রের একটি অংশে থাকলে পরবর্তী পর্যায়ে ক্রমান্বয়ে রাজসিংহাসনের প্রধান হিসাবে আবির্ভূত হয়ে তার কাল্পনিক গণতন্ত্রের স্বরুপ উম্মোচন করবেন। ততদিনে কোথাকার পানি কোথায় যে গড়াবে তখন আক্ষেপের ঝুলি নিয়ে নয়নে তার সর্ষে ফুল দেখা ছাড়া অন্য কোন গত্যান্তর থাকবেনা। কেননা সেনারা রাষ্ট্রীয় সংবিধানে হেমলক বিষ সন্নিবেশিত করে রেখেছে যা তার একার পক্ষে সরানো সম্ভব নয়।
বিশ্ব তার গৃহান্তরীনবস্থার সমাপ্তি ঘটানোর জন্য যুগপৎ তার এবং তার দেশের মুক্তিকামী জনতার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ্যাডভোকেসী সহ অন্যান্য সহযোগিতা করেছে ফলশ্রুতিতে তিনি নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন এবং পরবর্তীতে গৃহবন্ধী থেকে মুক্ত হন। এমতাবস্থায় তার কূলুপআটা ইমেজকে স্বচ্ছ করনে; তার উচিত বিশ্ব সম্প্রদায়কে সংগে নিয়ে আনান কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়ন করত: মিয়ানমারে পরিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ করার মানসে সকল স্তরের জনগনের অংশগ্রহন নিশ্চিত করে একটি জনবান্ধব প্লাটফর্ম তৈরী করে সকল জনগণকে স্বাধীনভাবে তাদের রাষ্টীয় সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে সহায়তা করা। অগ্রাধিকার কার্যক্রমের আওতায় এনে বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রোহিংগা, কাচিন সহ অন্যান্য নৃ তাত্ত্বিক জন গোষ্ঠীকে স্ব ভূমে ফিরিয়ে নিয়ে; কর্মমূখী ও উন্নয়নমূখী প্রকল্পের মাধ্যমে মানব সমস্যা নয় বরং মানব সম্পদে রুপান্তর করে প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ ও প্রাচুর্য্যতাকে ব্যবহার করে মায়ানমারকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নের মহা সড়কে শামিল করলে থর থর করে জাতীয় প্রবৃদ্ধি থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের নাটকীয় পরিবর্তন পরিলক্ষিত হবে। উল্লেখ্য যে সেই অষ্টাদশ শতাব্দীতে রোহাং বা রোসানে আরব্য বনিকদের আগমনের পর থেকে বংশ পরম্পরা রোহিঙ্গা জনগোষ্টী কিন্তু অধিকাংশ ব্যবসায় প্রবণ, ব্যবসা জ্ঞানের ক্ষেত্রে তারা ইনডিজিনাস আমি কাছ থেকে দেখেছি তাদের মধ্যে প্রচন্ড রকমের ব্যবসা উদ্যোগী চিন্তা ভাবনা যা বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রমী মন মানসিকতাসহ দুর থেকে দুরান্তে ব্যবসার ফেরি করতে তারা অভ্যস্ত। বিভিন্ন পেশার ক্ষেত্রে তাদের ইনডিজিনাস নলেজ দুরতিক্রম্য! জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এদের অনেক ব্যবসায়ী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। এখানে জাপানে ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী থেকে জাতীয় ও আমদানী – রপ্তানী বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভালই ভূমিকা রাখছে। শিক্ষাক্ষেত্রে ও এই বহুদা বৈষম্যের শিকার রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গা মেধাবী সন্তান সন্ততিদের পদভারে বসুন্ধরা সিক্ত। টেকসই বিশ্বের জন্য দেশীয় শিল্পের সমৃদ্ধি চাই বলে বলে পৃথিবী ব্যাপী যে চিৎকার সেক্ষেত্রে কৃষি, মৎস্য,কুটির শিল্প সহ কারিগরি শিক্ষা থেকে শুরু করে খুব কম শাখা ই আছে যেখানে এই ভাগ্য বিড়ম্বিত নৃ-তাত্ত্বিক জাতির পদচারনা নেই।আরও কত কি! মায়ানমার চাইলেই এই বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী জনগোষ্ঠীকে দেশ উন্নয়নের মূল স্রোতের সারথী বানাতে পারত।আফসোস! নেতিবাচক চিন্তার ফ্রেমে বন্দী হয়ে প্রতিশ্রুতিশীল এই জাতিকে রাষ্ট্রের সর্বাগ্রে অধিকার হারা করা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য নেতিবাচক এবং সংকীর্ণ চিন্তার পরিধি থেকে সুচীকে বেরিয়ে আসতে হবে। ইতিবাচক ধারনা ও ভাবনার বিশালতা রাষ্ট্রীয়- আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উন্নয়নমূলক পরিবর্তনের মাইলফলক হিসাবে মূখ্য ভূমিকা পালন করে। এখনো পর্য্যন্ত তাবৎ বিশ্ব মোড়লেরা তার ডাকে কর্ণপাত করে এবং তাকে যথাযথ সম্মান করে। এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজ দেশের সার্বিক উন্নয়ন সহ রাষ্ট্রে জিঁইয়ে থাকা রোহিংগা ইস্যু সহ রাষ্ট্রীয় মৌলিক সমস্যার সমাধানে সক্ষম হবেন বলে আমি মনে করি। এখানে তার “সদিচ্ছা” ই মূল নিদের্শক!
ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের মানবিক ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট অগ্রনী ভূমিকা জাতিসংঘ, ও আই সি থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবহিতৈষী সংস্থা সহ বিশ্বব্যাপী প্রশংসা ও সুনাম কুড়িয়েছে। যার মধ্যে মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন যৌক্তিক, কৌশলী এবং সময়োচিত পদক্ষেপ যেখানে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী:
১.সংসদে রোহিংগা সংকট ইস্যুতে আলোচনা
২.স্বশরীরে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে রোহিংগাদের হৃদয় বিদারক কাহিনী শ্রবণ সহ তাঁদের নিপীড়িত আত্মার আহাজারিতে সমব্যথি হয়ে অশ্রু বারি
৩.বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা নিবন্ধন
৪.রোহিঙ্গাদের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য সেনা মোতায়েন
৫.বর্তমানে অবস্থানরত শরণার্থীর জন্য দুই হাজার একর জমিতে চৌদ্দহাজার সেট নির্মাণ উদ্যেগ
৬.ষোল কোটি মানুষের দায়ভার নেয়া প্রধানমণ্ত্রী চার-পাঁচ লক্ষ শরণার্থীর দায়ভার গ্রহন করলাম এই সাহসী কথন ও উদ্যোগ
৭.ও আই সি সহ জাতি সংগে রোহিংগা ইস্যুতে ছয় দফা প্রস্তাব
৮.সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাপ্রশাসক ও সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ অফিসার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে রিলিফ কন্ট্রোল কমিটি গঠন
উপরোক্ত কৌশলী পদক্ষেপের কারনে আমার দেশ এবং মাননীয়া প্রধান মন্ত্রী বিশ্বের দরবারে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যার বন্দনায় সর্ব প্রকারের বিশ্ব মিডিয়া মেতে উঠেছে। এদিকে জাপানের বিভিন্ন মিডিয়া ও জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে পালিয়ে আসা আগের পাঁচলক্ষসহ বর্তমানে প্রায় চারলক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মানবিক দৃষ্টিকোন বিবেচনা করে আশ্রয় দিয়ে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে তার ভূঁয়সী প্রশংসা সহ মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছে। সেইসাথে জাপান সরকারসহ এখানকার সচেতন নাগরিক সমাজ এই নিয়ে উদ্বিগ্ন যে বিশ্বের অন্যতম জনসংখ্যাধিক্য দেশ হিসাবে বাংলাদেশ মায়ানমার সৃষ্ট ধ্বংসাত্বক দুর্যোগ্ আক্রান্ত এই ব্যাপক জনগোষ্ঠীর অতিরিক্ত চাপ কিভাবে মোকাবিলা করবে? বিশ্ব মিডিয়া এখানে আরো একটি বিষয় তুলে এনেছে তা হল সাধ এবং সাধ্যের অপ্রতুলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত সহ বিশেষ করে
উখিয়া- টেকনাফেরঅধিবাসীদেরআন ইনষ্টিটিউশনাল বা অপ্রতিষ্টানিক ত্রাণ সহযোগিতা। আমি আমার স্বজনদের কাছ থেকে শুনেছি গত কোরবানির ঈদে উখিয়া টেকনাফের অধিকাংশ বাড়িতে রোহিঙ্গা ভাই বোনদের আশ্রয় ও খরপোষের ব্যবস্থা করেছে যা বংলাদেশী ভাই বোনদের উন্নত স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা এবং মানবতা এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। এখানে কামিনি রায়ের সুখ কবিতার পংক্তিমালা যেন আন্দোলিত হচ্ছে: “আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে আসেনাই কেহ অবনী পরে, সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”
এই পরিস্থিতিতে দীর্ঘ স্থায়ী রোহিংগা চাপ যেন বাংলাদেশকে বয়ে বেড়াতে না হয় তারই নিমিত্তে নিমোক্ত পদক্ষেপ বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে:

A. Comprehensive strategic plan on Rohingya Management (Action and result oriented with dead line) by all relevant authorities of Bangladesh Government

B. Rohingya control and Repatriation process Monitoring cell by Bangladesh Army

C.Formation of Elite, Intellectual veteran Politicians & Diplomat Panel for International lobbying to ensure sustainable Rohingya repatriation

D. Ensure good communication & liaison with UN relevant aid agencies and vice versa

E. Conduct Meeting in Weekly and Monthly on update and reporting activities according to action plan.

F. Maintain Overall monitoring from Honorable Prime Minister with close monitoring tools.

E. Strive to the activities in different angle until it comes to its goal.

Writer: A Executive Department Manager of International Company Japan.

Mobile: +0081-07026635660

E-mail: skyisss2014@gmail.com
sirajsharifa@gmail.com

সাবেক উন্নয়ন কর্মী

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top