রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চারটি উপসড়ক হচ্ছে

IMG_20170920_192410.jpg

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নির্মাণ করা হচ্ছে চারটি উপসড়ক। একইসঙ্গে উখিয়া থেকে কুতুপালং পর্যন্ত আরাকান সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই উপসড়কগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চার লাখ ১০ হাজার রোহিঙ্গা নাগরিকের মানবিক সেবা নিশ্চিত করতে এবং তাদের নির্ধারিত স্থানে যাতায়াতের সুবিধায় উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালংয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে অন্তত চারটি উপসড়ক। নির্মিতব্য এসব উপসড়ক দিয়েই সরকার নির্ধারিত শিবিরে যাতায়াতের সুবিধা পাবে রোহিঙ্গারা। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ও আইওএম এর অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে এই উপসড়কগুলো।
এদিকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অনুপ্রবেশের পর রোহিঙ্গারা থাকছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। অনেকেই রাস্তার ধারে ছোট ছোট ঝুঁপড়ি করে দিন কাটাচ্ছে। এ কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজটের। ত্রাণ বিতরণেও দেখা দিয়েছে নানা বিশৃঙ্খলা। এসব কারণে রোহিঙ্গাদের দ্রুত এক স্থানে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সে লক্ষেই জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য চারটি উপসড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। স্বল্প সময়ে উপসড়কগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নতুন চারটি উপ-সড়ক নির্মাণের কথা জানিয়ে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ বলেন,‘এই সড়কগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হলে সবকটি ক্যাম্পে নির্দিষ্ট ত্রাণ সঠিক সময়ে বিতরণ ও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এর আগে সরকার রোহিঙ্গাদের একত্রিত রাখার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দ্রুত বাস্তবায়ন হবে। একইসঙ্গে ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ভালো থাকবে।’
এদিকে,গত সোমবার বেলা ১১টার দিকে উখিয়া থেকে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পর্যন্ত শহীদ এটিএম জাফর আলম সড়ক (আরাকান সড়ক )প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজের উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। দুই কোটি টাকা ব্যয়ে এই কাজ করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্যসহ বহু রোহিঙ্গা হতাহত হয়। এ ঘটনায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে অভিযানের নামে সাধারণ মানুষ ওপর হত্যা, ধর্ষণ, বাড়িঘরে আগুনসহ নানা নির্যাতন অব্যাহত আছে। এ কারণে প্রতিদিন পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজার হাজার রোহিঙ্গা। জাতিসংঘের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত চার লাখ ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্র মতে, এই সংখ্যা আরও বেশি।
এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর থেকে রাখাইন রাজ্যে একইভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। এসময় প্রাণ ভয়ে পালিয়ে আসেন প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা। এরপর আন্তর্জাতিক মহল নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারের ওপর। কিন্তু এর কোন তোয়াক্কা না করে রাখাইনে ফের সেনা মোতায়েন করে দেশটির সরকার।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top