টেকনাফে ত্রাণের লোভে পুরাতন রোহিঙ্গাদের ভীড়

tek-pic-20.09.2017-r3.jpg

নিজস্ব প্রতিনিধি, টেকনাফ |
টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে নতুন রোহিঙ্গাদের সাথে মিশে গিয়ে ত্রান হাতিয়ে নিচ্ছে পুরাতন রোহিঙ্গারা। টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের নাইট্যংপাড়া, কেরুনতলী, বরইতলী, দমদমিয়া, জাদীমুরা, মোছনী, নয়াপাড়া, লেদা, রঙ্গিখালী, হোয়াইক্যং ও টেকনাফ বাস স্টেশন, শাহপরীরদ্বীপ ভাঙ্গা এলাকায় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের সাথে আগে থেকে টেকনাফে থাকা পুরাতন রোহিঙ্গারা মিশে গিয়ে ত্রান হাতিয়ে নিচ্ছে। ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ত্রান নিয়ে আসা ব্যক্তিরা নতুন-পুরাতন রোহিঙ্গা পরখ করতে না পারায় পুরাতনরাই ধাক্কাধাক্কি করে ত্রান সামগ্রী হাতিয়ে নিচ্ছে। ফলে ত্রান বঞ্চিত হচ্ছে নতুন আসা রোহিঙ্গারা। তাদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। তবে সংবাদকর্মীদের দেখলে জানাচ্ছেন পুরাতন লোকরা সব নিয়ে নিচ্ছে তারা কিছু পাচ্ছেননা।
ফলে নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর দিন যাপন করছে।
এছাড়া অবিরাম বৃষ্টির ফলে নতুন করে বিপাকে পড়েছে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। যারা ইতিমধ্যে ঘর-বাসা তৈরী করেছে তাদের অনেকের পানিতে তলিয়ে গেছে। টেকনাফ উখিয়া সড়ক জুড়েই রোদ বৃষ্টিতে ভিজে ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কের পাশে অবস্থান করছে নারী-শিশু ও পুরুষ রোহিঙ্গা। এদের অনেকে নতুন ও বেশীরভাগ বহু বছর ধরে এদেশে বসবাসকারী রোহিঙ্গা। ফলে দূর্বীসহ অসহায় দিন যাপন করছে নতুন রোহিঙ্গারা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, টেকনাফ-উখিয়ার প্রধান সড়ক জুড়ে সারি সারি রোহিঙ্গা নারী-শিশুদের অবস্থান। এদের অনেকে পুরাতন রোহিঙ্গা। সবার চোখ থাকে ত্রানবাহী গাড়ি কিংবা মাইক্রো-নোয়াহ গাড়ীর দিকে। যেমনি একটি গাড়ী দাড়াবে অমনি দল বেঁধে নারী-শিশুদের হানা দিয়ে লুটপাট। এসময় ত্রানদাতাদের ইজ্জত বাঁচানো দায় হয়ে পড়ে। আবার অনেকে নগদ টাকা বিতরণ করতেও দেখা গেছে। অনেক সময় ওদের অবস্থা আরো কাহিল হয়ে উঠে। এমনকি অনেকের শার্ট-কোর্তা পর্যন্ত ছিঁড়ে নিতে দেখা গেছে। পুরাতন রোহিঙ্গারা হানা দিয়ে এসব অবস্থা সৃষ্টি করছে। এদের সামনে নতুন রোহিঙ্গা পরগাছার মতো।
এদিকে সড়ক জুড়েই রোদ বৃষ্টিতে ভিজে ঘন্টার পর ঘন্টা সড়কের পাশে অবস্থান করছে নারী-শিশু ও পুরুষ রোহিঙ্গা। তবে পুরুষের সংখ্যা অনেক কম। এরা প্রতিদিন স্থান বদলে ছদ্মবেশী নতুন রোহিঙ্গারূপে সড়কের পাশে অবস্থান নেয়। অনেকে ত্রান নিয়ে ঝগড়া করতে দেখা গেছে। এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
মংডুর মেরুল্লা এলাকার হাসিনা বেগম জানান, প্রাণ বাঁচাতে এদেশে আশ্রয় নিয়েছি। চারপাশের কিছুই চিনিনা। ৩ সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে রয়েছি। অনেকের ভীড়ে ও ঠেলাঠেলি দিয়ে ত্রানদাতাদের ধারে কাছেও যেতে পারিনা। পৌঁছার আগেই সব শেষ হয়ে যায়। খুবই কষ্টে আছি।
মোচনী নয়াপাড়া ক্যাম্পের হামিদা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমরা পুরাতন রোহিঙ্গা হলেও দু’বেলা খেতে কষ্ট হচ্ছে। নতুনদের সাথে মিশে গিয়ে কিছু পাওয়ার আশায় সড়কে অবস্থান নিয়েছি।
অপরদিকে ত্রান বিতরণের জন্য সেল ঘোষনা করা হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান ও ধনাঢ্য ব্যক্তিরা সেখানে ত্রান জমা না দিয়ে নিজ উদ্যোগে বিতরণ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে সড়কের পাশে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের কাছে ত্রান বিতরণ করায় চরম হ-য-ব-র-ল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে স্থানীয়সহ পথচারী ও যানবাহনের। প্রশাসনের নির্দেশনা না মেনে রাস্তার ধারে যেখানে সেখানে ত্রাণ বিতরণ করায় দীর্ঘ যানজটে জনজীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। কক্সবাজার টেকনাফ সড়কে রোহিঙ্গাদের বিক্ষিপ্ত চলাচল, হ-য-ব-র-ল ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় দুর্ঘটনাসহ নিত্য ঝগড়া লেগেই থাকে।
বিশেষ করে রোহিঙ্গারা ত্রাণের গাড়ি আসতে দেখলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এতে অনেকেই গাড়ির নিচে অনেকেই মানুষের পায়ের নিচে পড়ে যায়। যারা রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ দেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্থান থেকে আসে তারা কোন নিয়মনীতি না মেনে ত্রাণ দেওয়া শুরু করে। সেই ত্রাণের জন্য হাহাকার হয়ে ছুটতে থাকে। ত্রাণ বাহি গাড়ির কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়ির যানজট লেগেই থাকে। এর ফলে সাধারণ যাত্রিদের দুর্ভোগের শেষ নাই। পাশাপাশি দূর্ভোগে, অর্ধাহারে ও অনাহারে নতুন রোহিঙ্গারা দিনাতিপাত করছে। পুরাতন রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রন এবং সড়কের পাশে অবস্থান নেওয়া রোহিঙ্গাদের উঠিয়ে দেওয়া না হলে যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনা জম্ম দিতে পারে। তাই প্রশাসনকে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিৎ বলে মনে করেন সচেতনমহল।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top