টেকনাফ ষ্টেশন ও পৌর শহর রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দখলে যানজট নিত্য দিন

Teknaf-pic-17.09.17.jpg

মোঃ আশেক উল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
টেকনাফ পৌর শহর ও ষ্টেশান রোহিঙ্গা শরনার্থীদের দখলে। প্রতিদিন টেকনাফ সীমান্তে নাফ নদী ও সাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে হাজার হাজার রোহিংগা মুসলিম নর নারী ও শিশুরা ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহন ভোর সকালে পৌর শহর এবং ষ্টেশানে দোকানের সামনে এবং টেকনাফ কক্সবাজার সড়কের উভয় পার্শ্বে জড়ো হয়। ষ্টেশান ও সড়কের নির্যাতিত রোহিংগাদের বেসরকারী ও ব্যক্তি উদ্দ্যোগে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালানোর প্রেক্ষিতে ষ্টেশানটি দীর্ঘক্ষণ যনজাট লেগে থাকে। এতে করে জনদুর্ভোগ চরমে পৌছে। সকাল ১১ টা থেকে সন্ধা পর্যন্ত অনেক সময় যানজট নামক যন্ত্রনা দুর্ভোগের শিকার বিভিন্ন যানবাহন ও পথচারীরা। আরাকানের দক্ষিণাঞ্চলের নির্যাতিত রোহিংগারা শাহপরীরদ্বীপে জালিয়াপাড়া, জেটিঘাট, মিস্ত্রি পাড়া, ঘোলার পাড়া, দাংগা পাড়া, সাবরাং কাটাবনিয়া, খুরের মুখ, বাহারছড়া শামলাপুর দিয়ে রোহিংগা শরনার্থী মর্যাদা নিয়ে টেকনাফে পৌর ষ্টেশানের ছিদ্দিক মার্কেট চত্তর দ্বিপ্লাজা, মিল্কি হোটেলসহ বিভিন্ন দোকান ও বাস্তার পাশে অবস্থান নেয়। পরে গাড়ীযোগে মোছনী নয়াপাড়া, লেদা ও উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে চলে যায়। যে সমস্ত পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেছে, সে সমস্ত পয়েন্টে রোহিংগা পারাপার নামে দালেরা নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের উপর গলাকাটা বাণিজ্যে চালিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অর্থলোভে দালালেরা ফিসিংবোট ও নৌকায় ধারণ ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোহিংগা বোঝাই করার প্রেক্ষিতে সাগর ও নাফ নদীতে প্রায় সময় নৌ-দুর্ঘগঠনা ঘটে। সরকারী হিসাব অনুয়ায়ী ১১২ জন, রোহিংগা নর নারী ও শিশু শলিল সমাধী ঘটে। এর জন্য দায়ী কে? দালালেরা রোহিংগা শরনার্থী পারাপারের নামে জনপ্রতি ১০ হাজার থেকে উর্ধে ২০ হাজার হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়া এরা কারা। সীমান্তের দায়িত্বে নিয়োজিত সংশ্লিষ্টরা কি, এ বিষয়ে অবগত নন? আজ এসব বিষয় এখন গোটা সীমান্ত এলাকার সচেতন মহল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ ও প্রশ্নের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের লোকেরা দালাল গ্রেফতার করলে ও প্রকৃত দালাল নয় বলে নানা জনের কাছ থেকে অভিযোগ উঠেছে। টেকনাফে পৌনে ৩ লাখ মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে দালালসহ সংশ্লিষ্টরা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে এভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়া এরা কারা এবং পর্দার অন্তরালে বসে কলকাটি নাড়িয়েছে এসব মানুষরুপী ভদ্রলোকদের সবাই চিনে এবং জানে। এদিকে অনুপ্রবেশকারী রোহিংগারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পৌর শহরসহ গ্রামে গঞ্জে আশ্রয় নিচ্ছে। টেকনাফ পৌর শহরের ভাড়া বাসা, আবাশিক ও নিজ বাসায় রোহিঙ্গাদের ভাড়া দিয়ে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এখানে ভাসমান লোকদের সংখ্যা বৃর্দ্ধি পাওয়ায় এখানকার জননিরাপত্তা এখন হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে । বিশেষ করে টেকনাফ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ড পুরাতন পল্লান পাড়া পাহাড়ের গভীর অরণ্যে “আল একিন” সংগঠনের স্বক্রিয় সদস্য ও কুখ্যাত ডাকাত জনৈক্য হাকিম রোহিংগা জনগোষ্ঠকে একত্রিত করছে এবং আশ্রয় দিচ্ছে তার বাড়ীতে। এলাকার জনগণ নিরাপত্তার বিষয়টি কেউ আমলে নিচ্ছেনা। টেকনাফ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন ছিদ্দিকী বলেন, ষ্টেশন ও জন চলাচলের রাস্তায় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ সম্পূর্ণ নিশিদ্ধ এবং আশ্রিত রোহিঙ্গাদের বালুখালী অস্থায়ী শরণার্থী ক্যাম্পে নিবন্ধন এবং কোন মতেই এখানে বিলম্ব করা উচিত নয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top