কাসুসহ দালালেরা ধরাছোয়ার বাইরে : শাহপরীরদ্বীপ আদম ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে

Teknaf-pic-12.09.2017.jpg

ফাইল ছবি

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
দেশের সর্ব দক্ষিণ সীমান্ত জিরো পয়েন্ট নাফ নদী ও সাগর বেষ্টিত শাহপরীরদ্বীপ সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বেড়েছে। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের জন্য শাহপরীরদ্বীপ একটি গন্থব্যস্থলে পরিনত হয়েছে। আরাকানের দক্ষিণাঞ্চলের নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীরা বেশীর ভাগ শাহপরীরদ্বীপ পয়েন্ট দিয়ে উঠে। মংডু হাসসুরতা ও নাইক্ষংদ্বীয়া থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা ট্রলার যোগে এখানে চলে আসে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের জন্য এটি একটি নিরাপদ স্থান। দিনের বেলা নাফ নদী ও সাগরে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটেনা। ঘটে গভীর রাত হলে। সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ, টেকনাফ ও বাহারছড়া সাগর ও নাফ নদীর উপকূলীয় এলাকার মৎস্যজীবিরা এখন মাছ শিকার করেনা। করে রোহিঙ্গা শিকার। রাত হলেই নাফ নদী ও সাগরে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকার বহর। ভোর সকালে দেখা যায় ঐ ট্রলার ও নৌকায় মাছের পরিবর্তে রোহিঙ্গা নারী, শিশু ও পুরুষ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শাহপরীরদ্বীপ ও সাগর পয়েন্টে মিয়ানমারের আরাকানের নির্যাতিত রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশের নেপথ্যে চারটি বিষয় কাজ করছে, এর মধ্যে আতœীয়তার বন্দন, ব্যবসায়ীক কারণ, দালাল, কয়েকটি এজেন্সীর নীরব সমর্থন ও নিরাপদ স্থান। এ কারণে মিয়ানমার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে রোহিঙ্গা এখানে অনুপ্রবেশের প্রধান কারণ বলে জানা যায়। এছাড়া ও সাবরাং, কাটাবনিয়া ও বাহারছড়া শামলাপুরে সাগর পথে ট্রলার যোগে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে। এসব পয়েন্ট মিয়ানমার আরাকানের দক্ষিণাঞ্চল থেকে স্ব স্ব পয়েন্টের মানব পাচারকারী দালাল ও প্রভাবশালীদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হবার পরে গন্থব্যস্থানে চলে আসে। আরাকানের দক্ষিণাঞ্চল শীলখালী, ধমচি পাড়া, বড়ছড়া, কোয়াইক্যং, আনডং, কল্লোল, শীতাপরীক্ষা, খায়দর ঘোনা, হান্ডা পাড়া, মাইজ পাড়া, মেরুল্লা, ধমপাড়া, ঘরাখালী, উদং হাসসুরতা, সম্মন্যাপাড়া ও হজ্জ্যাবিল পাড়ার হাজার হাজার পরিবার বর্মী সামরিক জান্তা এবং রাখাইন মগের নির্যাতনের প্রাণভয়ে নাইক্ষংদ্বীয়া হয়ে নাফ নদী ও সাগর পথে শত শত ট্রলার ও নৌকা যোগে শাহপরীরদ্বীপে চলে আসে। শাহপরীরদ্বীপের ৩টি পয়েন্টে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ সহায়তা করার নামে কয়েকটি দালাল সিন্ডিকেট বেপরওয়া হয়ে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ওরা প্রশাসনের নাম ভাংগিয়ে রোহিঙ্গা নামে রমরমা বাণিজ্য চালিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছে । এরি কারণে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানো যাচ্ছেনা বলে এলাকার সচেতন মহল অভিযোগ করেন। ওদের অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রে একাদিকবার লেখালেখি করার পরও প্রশাসনের কোন ধরনের টনক নড়ছেনা। ওরা হচ্ছেন শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়ার কাসো, জেটি ঘাটের জিয়াবুল, ঘোলার পাড়া কবিরা, ইসলাম ও দাংগাডার শুক্কুর ও পেটান আলী, মুন্ডাডেইলের রাসেল এসব দালালেরা অর্থে মোহ হয়ে প্রতিনিয়তই রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে ঘোলাও পানিতে মাছ শিকার করছে। দেশও জাতীর স্বার্থে ওদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী বলে অনেকেই মনে করেন।

চলবে………..

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top