রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান মিয়ানমারের

80409_Rifat-4-Myanmar-300x169.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
মিয়ানমারের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি ও অধিকার আদায়ের দাবিতে যুদ্ধরত সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ঘোষিত এক মাসের যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার সরকার।

সরকারি মুখপাত্র জ হাতে বিদ্রোহীদের সন্ত্রাসী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, মিয়ানমার তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতা করবে না। বরং চলমান সেনা অভিযান অব্যাহত থাকবে। খবর বিবিসির।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যের মানবিক সংকটের কথা বিবেচনা করে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিল আরসা।

এতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকেও যুদ্ধবিরতি পালনের আহ্বান জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদানের অনুমতি দেয়ার আহ্বান জানায় আরসা।

গত ২৫ আগস্ট ভোররাত থেকে রাখাইন রাজ্যে সীমান্তরক্ষী পুলিশের (বিজিপি) ওপর হামলায় ১২ জন নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। মিয়ানমার সরকার এ হামলার জন্য আরসাকে দায়ী করে।
এ ঘটনার পর মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রাখাইনে বিতাড়ন অভিযান শুরু করে। তারা রোহিঙ্গাদের গ্রামগুলোতে হানা দিয়ে সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে এবং দুই হাজার ৬০০ বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, সেনা অভিযানে রাখাইনে এ পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচানোর জন্য গত দুই সপ্তাহে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশী দেশের রাখাইন রাজ্যে যে হত্যা-নির্যাতন চলছে তাকে গণহত্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

আর গণহত্যার কারণে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে যে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর ঢল নেমেছে তাদের আশ্রয় দিতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ।

আগত শরণার্থীরা রাস্তার পাশে, পাহাড়ের পাদদেশে ও জঙ্গলসহ বিভিন্ন অস্থায়ী শিবিরে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা অপ্রতুল খাদ্য, পানি ও ওষুধ দিয়ে শরণার্থীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছে।

ফলে ত্রাণ নিয়ে কোনো ট্রাক শরণার্থীদের কাছে পৌঁছা মাত্রই ক্ষুধার্ত মানুষগুলো এর ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top