ঝাঁকে ঝাঁকে রোহিঙ্গা সাগর পথে ট্রলার যোগে আসছে

ukhiya_kanjorpara_vordar_25_57388_1504891788.jpg

মোঃ আশেকউল্লাহ ফারুকী, টেকনাফ :
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য (আরাকান) মংডুর নাইক্ষংদ্বীয়া একটি অঘোশিত মিনি এ্যায়ারপোর্টে পরিনত হয়েছে। সম্প্রতি আরাকান রাজ্যে সন্ত্রাস দমনের নামে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর নির্বিচারে গণহত্যা দমন ও নিপীড়ন চালালে তারা প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশের টেকনাফ সীমান্তের চিহ্নিত চোরাই পয়েন্ট ও মৎস্য ঘাট দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটতে সে দেশের নাফ নদী এবং সাগর উপকূলে জড়ো হলে এ সুযোগকে পূঁজি করে টেকনাফের মালয়েশিয়া তালিকাভূক্ত মানব পাচারকারীরা এবং মৎস্যজীবি জেলে মাঝি যোগাসাজশে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে নাফনদী ও সাগরের বিভিন্ন চোরাইপয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটায়। গত ১২দিনে গ্রায় ৩লাখের চেয়ে বেশী রোহিঙ্গারা এভাবে অনুপ্রবেশ ঘটে। অনুসন্ধানে জানা যায়, টেকনাফ সীমান্তে যে, ক’টি চোরাই আদম পাচারের ঘাট রয়েছে, তার মধ্যে হোয়াইক্যং এর কাঞ্জার পাড়া, সাবরাং নাজির পাড়া, নয়াপাড়া, শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়া, ঘোলার পাড়া ও দাংগা পাড়া এবং সাগর উপকূলের সাবরাং খুরেরমূখ, মুন্ডার ডেইল, মহেশখালীয়া পাড়া, লেঙ্গুরবিল, হাবিরছড়া ও বাহারছড়ার শামলাপুর। মিয়ানমারের আরাকানের উত্তরাংশে বেশীরভাগ রোহিঙ্গা হোয়াইক্যং এর কাঞ্জর পাড়া সীমান্তের নাফনদী দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে। এছাড়া আরাকানের দক্ষিণাংশে নাইক্ষংদ্বীয়া দিয়ে রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুর ঢল সাগর পথ দিয়ে ট্রলার যোগে সরাসরী খুরের মুখ মুন্ডার ডেইল, হাবিরছড়া লেংগুরবিল ও শামলাপুর মৎস্য ঘাট দিয়ে অনুপ্রবেশ ঘটে। টেকনাফের তালিকাভূক্ত মানবপাচারকারী ও মৎস্য ঘাটের মাঝিদের মাধ্যমে সিন্ডিকেট করে শত শত ট্রলার নিয়োজিত করে রেখেছে। ওরা নাইক্ষংদ্বীয়াকে সৃষ্টি করে একটি অঘোশিত ত্র্যারপোট সৃষ্টি করে। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটাতে দালাল ও মাঝিরা সাগর পথে সহায়তা করে আসছে। তাদেরকে জামাই আদরের ন্যায় অনুপ্রবেশ ঘটাতে ওরা উৎসাহিত করে থাকে। ফলে বানের ¯্রােতের ন্যায় সাগর পথে রোহিঙ্গারা চলে আসে। সূত্র জানায়, শাহপরীরদ্বীপের জালিয়াপাড়ার ঘাট নিয়ন্ত্রনকারী শামসুল আলম প্রকাশ কাসো, দাংগারপাড়ার ঘাটের পেটান মাঝি, শুক্কুর ও ঘোলার পাড়া ঘাটের কবিরা ও ইসলাম। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওরা এসব ঘাট বাণিজ্য করে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে লাখ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিচ্ছে। মিয়ানমারের কল্লোল নিবাসী অনুপ্রবেশকারী জামাল হোসেন বলেন, আমরা নারী, শিশু ও পুরুষসহ ৩৩ জন পৃথক ৩টি ট্রলার যোগে আসি শাহপরীরদ্বীপে দাংগার পাড়ায়। দালাল শুক্কুর ও পেটান আলী জনপ্রতি দশহাজার টাকা এবং স্বর্ণ সর্বস্থ হাতিয়ে নেয়। যাহা অমানবিক। সাবরাং কাটাবনিয়া ও খুরের মুখ ঘাট নিয়ন্ত্রণকারী মানব পাচারকারী তালিকা ভূক্ত কাটাবনিয়ার বাদু কোম্পানী কাশেম, ইসলাম, সৈওকত, আলমগীর, নজির আহমদ ও স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি। গত ৭ সেপ্টাম্বর বিজিবি ও কোষ্টগার্ড বাহিনী এসব অপরাধে ৪১ জন মানবপাচারকারী দালাল ও মাঝিকে আটক করেছে। চুনোপুতুড়ী দালাল ও মাঝিকে আটক করলেও মূল হোতারা রয়েছে ধরাছোয়ার বাহিরে। চলবে…………

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top