যে কারণে রোহিঙ্গাদের পক্ষে সোচ্চার এরদোগান

ardogan_57248_1504763329.jpg

অনলাইন ডেস্ক |
গত আট মাসে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান।

এরদোগান সরাসরি বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে।

তার মতো এতোটা জোরালো অভিযোগ অন্য কোনো রাষ্ট্রপ্রধান করেননি।

গত মঙ্গলবার এরদোগান সরাসরি ফোন করেছেন মিয়ানমারের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক নেত্রী অং সান সুচিকে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের মানবাধিকার লঙ্ঘন নিয়ে সুচির কাছে উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

মিয়ানমার থেকে প্রাণভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা সচক্ষে দেখতে তুর্কি ফার্স্টলেডি এমিনে এরদোগান আজ ভোরে ঢাকায় এসেছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও। আজই তাদের টেকনাফে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার কথা।

প্রশ্ন হচ্ছে, রোহিঙ্গা ইস্যুকে তুরস্ক কেন এতোটা গুরুত্ব দিচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিন পি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষক ড. তাজ হাশমি মনে করেন, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে।

তুরস্ক এক সময় মুসলিম বিশ্বে নামকরা একটি দেশ ছিল। ইরান ছাড়া পুরো মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকা তুরস্কের সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

হাশমি বলেন, অনেকে এরদোগানকে বলছেন ‘নিউ সুলতান’। উনি তুরস্কের সেই পুরনো রোলে (ভূমিকায়) ফিরে যেতে চাচ্ছেন। তুরস্কের পুরনো শৌর্য পুনরুত্থান করতে হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে সোচ্চার হওয়ার পেছনে এরদোগানের ব্যক্তিগত বিষয় জড়িত আছে বলে মনে করেন ড. হাশমি।

তিনি মনে করেন, ইসলামপন্থী হিসেবে পরিচিত এরদোগান মুসলিম বিশ্বের প্রধান প্রতিনিধি হতে চাইছেন। তিনি চাইছেন, মুসলিম বিশ্বে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের পরিবর্তে তুরস্ককে নেতৃত্বের আসনে নিয়ে আসতে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে এরদোগান সোচ্চার হলেও মিয়ানমারের ওপর তিনি কতটা চাপ তৈরি করতে পারবেন?

তাজ হাশমি মনে করেন, সেই সম্ভাবনা খুবই কম। ভারত ও চীন প্রত্যক্ষভাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষভাবে মিয়ানমারের শাসকগোষ্ঠীকে সহায়তা করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফিরিয়ে দেবেন।

চীন সিকিউরিটি কাউন্সিলে ভেটো দিয়েছে। তারা মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার ঘোরবিরোধী।

এ ছাড়া মুসলমানদের ব্যাপারে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যে পলিসি তাতে মনে হচ্ছে না যে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে আসবে।

মার্কিন মিডিয়ায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপার নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য হচ্ছে না বলেও জানান তাজ হাশমি।

তার ধারণা, বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে রোহিঙ্গা ইস্যুতে একটি নতুন ফ্রন্ট দাঁড় করানো যায় কিনা সে চেষ্টা তুরস্ক করছে।

যদি মিয়ানমারের ওপর কোনো চাপ তৈরি করা সম্ভব না হয়, তাহলে এরদোগানের তাতে কী লাভ হবে?

তাজ হাশমি মনে করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সোচ্চার হয়ে এরদোগান দেশের মধ্যে এবং মুসলিম বিশ্বে এক ধরনের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।

তিনি বলেন, ‘মুসলিম বিশ্বে এরদোগানের একটা ইমেজ সৃষ্টি হবে যে, উনি ইসলামের একজন ত্রাণকর্তা, উনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য সাধনে প্রচেষ্টা করছেন।’
তাজ হাশমির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তুরস্ক চাইছে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইরান ও বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে একটি ফ্রন্ট করার চিন্তাভাবনা এরদোগানের রয়েছে।

সৌদি আরবের নেতৃত্বে রিয়াদভিত্তিক ৫৫ মুসলিম দেশের যে জোট গঠন করা হয়েছে, সেখান থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে আনার চেষ্টা করছে তুরস্ক। সে চেষ্টায় সফল হলে সৌদি আরবের ওপর চাপ বৃদ্ধির পাশাপাশি সে অঞ্চলে তুরস্কের প্রভাব বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top