চট্টগ্রাম টেস্টের ১ম দিন বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৫৩/৬

444-1.jpg

স্পোটর্স ডেস্ক : সকাল থেকেই চট্টগ্রাম টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের নিয়মিত বিরতিতে উইকেট নিয়ে চাপে রেখেছিলেন নাথান লিওন। লিওনের সাথে শেষ সময়ে যোগ দেন অ্যাস্টন অ্যাগারও। তিনি তুলে নেন সাকিব আল হাসানের উইকেট। ফলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ দল। সাকিব আউট হওয়ার পর যে বিপর্যয় কাটিয়ে অসিদের ভালোভাবেই সামাল দিচ্ছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম এবং সাব্বির রহমান। দুজন মিলে অসি বোলারদের রীতিমত শাসন করতে শুরু করেন। দুজন মিলে গড়েন ১০৫ রানের জুটি। এরপর আবারও নাথান লিওনের ঘূর্ণি ফাঁদে পড়েন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যান সাব্বির রহমান।তবে েচট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম দিনের খেলা শেষে ৬ উইকেটে ২৫৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্ন দেখছে মুশফিকুর রহিম অ্যান্ড কোং। প্রথম টেস্টে অসিদের হারিয়ে দ্বিতীয় টেস্টে সেটার শুরুটাও ভালো করেছে টাইগাররা। এবার তুলির শেষ আঁচড় টানার অপেক্ষা। চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টের শুরুটা ভালো না হলেও দিনের শেষের দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ।

অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ৬২ ও নাসির হোসেন ১৯ রানে ব্যাট করছেন। মঙ্গলবার টেস্টের দিনে একটি বা দুটি সেশন খেলতে পারলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে বড় রাখতে সক্ষম হবে টাইগাররা।

সোমবার দিনের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হয়ে ফিরে যান তামিম ইকবাল। দলের রান তখন ১৩। নাথান লায়নের বলে লেগবিফোর হন এই টাইগার ওপেনার। প্রথম টেস্টের উভয় ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করা তামিম আউট হন ৯ রান করে। তিন নম্বরে ব্যাট করতে এসেছিলেন ইমরুল কায়েস। তবে তাঁকেও ফিরিয়ে দেন লায়ন।

১৪তম ওভারের চতুর্থ বলটা এসে আঘাত হানে ইমরুলের প্যাডে। অসি ফিল্ডারদের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। তবে রিভিউ চেয়ে বসেন লায়ন। রিপ্লেতে দেখে ইমরুলকে আউট ঘোষণা করেন টিভি আম্পায়ার। বাংলাদেশের স্কোর তখন ২১।

এরপর ৪৯ রানের জুটি বেঁধে ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে চলছিলেন সৌম্য-মুমিনুল। দলীয় ৭০ রানে নাথান লায়নের তৃতীয় শিকার হয়ে ফিরে যান ৩৩ রান করা সৌম্য সরকার।

লাঞ্চের পর নাথান লায়নের চতুর্থ শিকার হন মুমিনুল হক। তামিম, সৌম্য, ইমরুলদের মতো মুমিনুলকেও লেগবিফোরের ফাঁদে ফেলেন লায়ন। ৬৭ বলে ৩১ রান করেন প্রথম টেস্টের দলে না থাকা ‘বাংলাদেশের ব্র্যাডম্যান’খ্যাত মুমিনুল।

এরপর সাকিব-মুশফিক মিলে যোগ করেন ৩২ রান। তবে অ্যাশটন অ্যাগারের বলে উইকেটরক্ষককে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব। ৫২ বলে ২৪ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সাকিব ফেরার পর মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। এই জুটি থেকে আসে ১০৫ রান। মুশফিক কিছুটা দেখেশুনে খেললেও সাব্বির খেলেন ওয়ানডের মেজাজে। তবে এক বিতর্কিত আউটে সাজঘরে ফিরে যান সাব্বির। তখন তাঁর ঝুলিতে ছিল ৬৬ রান। বল খরচ করেছেন ১১৩টি। তবে মুশফিকের সঙ্গে জুটি বেঁধে তারা দলকে একটা সম্মানজনক স্কোরের পথ দেখান।

দিনের শেষ সময়ে অবশ্য আর কোনো বিপদ ঘটতে দেননি মুশফিক ও নাসির। সোমবার এক পেসার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। যার অর্থ হচ্ছে, আরেকটি স্পিন বধ্যভূমিরই আভাস দিচ্ছে চট্টগ্রামের এই উইকেট। যেখানে স্পিনাররা ব্যাটসম্যানদের জীবন ওষ্ঠাগত করে তুলবেন। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে নাথান লায়ন নেন ৫ উইকেট।

একই কারণে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছে অস্ট্রেলিয়াও। নাথান লায়ন ও অ্যাশটন অ্যাগারের সঙ্গে হাত ঘোরাবেন স্টিভ ও’কিফ। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া দলে আরো একটি পরিবর্তন এসেছে। উসমান খাজাকে বসিয়ে দলে নেওয়া হয়েছে অলরাউন্ডার হিলটন কার্টরাইটকে।

বাংলাদেশ দল : মুশফিক রহিম (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মুমিনুল হক, সাকিব আল হাসান, নাসির হোসেন, সাব্বির রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, মুস্তাফিজুর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া দল : স্টিভ স্মিথ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাথু রেনশ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, হিল্টন কার্টরাইট, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাশটন অ্যাগার, প্যাট কামিন্স, স্টিভ ও’কিফ, নাথান লায়ন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top