টিকেটের মুল্য বৃদ্ধিতে পর্যটক আগমনে ভাটা ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে

Chakaria-Picture-30-08-2017.jpg

চকরিয়া প্রতিনিধি :
চলতি বছরের জুন মাস থেকে টিকেটের অতিরিক্ত মুল্য বৃদ্ধির কারণে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারাস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পর্যটক আগমন শুন্যের কোঠায় চলে এসেছে। হঠাৎ করে পর্যটক -দর্শনার্থীর উপস্থিতি কমে যাওয়ায় ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন পার্কের কর্মকর্তা-কর্মচারী, পার্কের ইজারাদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গতবছর পর্যন্ত সাফারি পার্কে প্রতিজন বয়স্ক নারী-পুরুষের টিকেট মুল্য ২০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ১০ টাকা টিকেট মুল্য নেয়া হতো। কিন্তু এবছর জুন মাস থেকে প্রতিজন বয়স্ক নারী-পুরুষের প্রবেশফ্রি ৫০ টাকা ও ছোটদের জন্য ২০ টাকা নির্ধারণ করে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
জানা গেছে, সাফারী পার্কটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল পর্যটক ও দর্শনার্থী কাছে। বনবিভাগে প্রাকৃতিক ভাবে সৃষ্ট ৯০০ হেক্টর বনভূমি এলাকা জুড়ে সাফারি পার্কটি সকলের কাছে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে দেশে-বিদেশে ও স্থানীয়দের মাঝে পরিচিত লাভ করেন। তবে চলতি অর্থবছর ব্যাপক উন্নয়ন কাজের মাধ্যমে আগে থেকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় সাফারি পার্কের সকল পর্যটন স্পট। ফলে নানা ধরণের জীববৈচিত্রের পাশাপাশি পার্কের সৌর্ন্দয্য বিমুহিত করছে দশনার্থীদের। পর্যটক-দশানার্থীদের যানবাহন জটলা কমাতে পার্কের বাইরে রাখা হয়েছে বিশাল গাড়ি পাকিং স্পট।
এদিকে ঈদুল আযহার উপলক্ষে পার্কের ভেতরে ও বাইরে দর্শনার্থীদের অবাধ ভ্রমন নিশ্চিত করতে ঈদের দিন থেকে থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এ প্রসঙ্গে চকরিয়া থানার ওসি মো.বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বছরের বিশেষ দিবস গুলোতে সাফারি পার্কে প্রচুর দশনার্থীর আগমন ঘটে। সেই ধারাবাহিকতায় সাফারি পার্কের কর্মকর্তাদের অনুরোধে ঈদের দিন থেকে পার্কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পুলিশের একটিদল সার্বক্ষনিক পার্কের ভেতরে বাইরে টহলে থাকেন বলে তিনি জানান।
তবে অভিযোগ পার্কে ভ্রমণে আসা দর্শনার্থীদের অভিযোগ,পার্কের আশপাশ এলাকায় কোন ধরণের উন্নতমানের খাবার হোটেলও আবাসিক হোটেল-মোটেল না থাকায় কারনে ভ্রমনে আগত পর্যটক-দশনার্থীরা চাহিদা মতো ভোজন ও বিশ্রাম কিংবা রাত্রি-যাপন করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন বলে সুত্রে জানায়।
সাফারি পার্কের বিট কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, টিকেটের মুল্য বাড়ানো হলেও এবারও ঈদের দিন থেকে পার্কে বিপুল পরিমাণ দশনার্থী আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। আশা করি এবারের ঈদুল আযহায় দর্শনার্থী আগমন অতীতের রেকর্ড ভঙ্গ করতে পারে। তিনি বলেন, পার্কে দর্শণার্থীদের উপভোগের জন্য রয়েছে, বাঘ, সিংহ, হরিণ, হাতি,উটপাখি, সাম্বার, মযূর, সারস পাখি,কুমির, জলহস্তী, মায়া হরিণ,চিতা হরিণ, ভাল্লু,, খরঘোশ, অজগর,বন্যশুকর, বানর, কালো শিয়াল,উল্টোলেজী বানর, লাম চিতা, হনুমান, তারকা কচ্ছপসহ প্রায় ৭০ প্রজাতির পশুপাখি।
সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো.মোরশেদুল আলম বলেন, পর্যটক-দশানার্থীদের ভ্রমন আনন্দদায়ক করার জন্যই ঈদের আগেই পার্কের বিভিন্ন পর্যটন স্পটকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে। দর্শণার্থীদের নিরাপদ ভ্রমন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top