মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বেড়েছে তিন গুণ

teknaf-news-5-Copy.jpg

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার :

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে এবারই নির্বিঘ্নে আসছে গবাদিপশু। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পশুর চালান আসছে আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে। প্রতিদিনই নাফ নদী পাড়ি দিয়ে গরুর চালান ঢোকছে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের করিডরে। মিয়ানমার থেকে আসা গরুর চাহিদা দেশিয় গরুর চাইতে বেশি। তবে দেশের উত্তরবঙ্গে বন্যার কারণে টেকনাফ করিডর বাজারে ক্রেতার ভিড় কম। তাই পশুর দাম পড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মন ভীষণ খারাপ।

মিয়ানমার থেকে এবার যেভাবে গবাদিপশু আসছে সেভাবে দাম পাচ্ছেন না আমদানিকারকরা। দেশের উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার কারণে টেকনাফের করিডরে আমদানি করা পশুর দামও আকস্মিক কমে গেছে। উত্তর জনপদের কোনো ক্রেতা টেকনাফ সীমান্তে এখনো আসেননি পশু কেনার জন্য। এছাড়া ভারত সীমান্ত থেকে আসা পশুর কারণেও টেকনাফ সীমান্তের বাজারে ধস নেমেছে। অন্যবারের তুলনায় গরুর দাম এবার বেশ সহনশীল বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমারের যেসব এলাকা থেকে বাংলাদেশে পশুর চালান আসছে সেসব এলাকার পরিস্থিতি এবার শান্ত রয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমারের নাফ নদীর তীরবর্তী এলাকা আকিয়াব জেলার ভুচিদং, ম্রিবুং, ছেপ্রুং, টকটুসহ বিভিন্ন এলাকা শান্ত থাকায় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে গবাদি পশু আমদানি করতে পারছেন। এছাড়া এবারের পশু আমদানির সময়টিতে আবহাওয়াও অনুকূলে রয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া না থাকায় শান্ত নাফ নদী পাড়ি দেওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য অন্যতম প্রধান সহায়ক হয়ে উঠেছে। এ কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে রেকর্ডসংখ্যক পশু এবার টেকনাফের করিডর দিয়ে দেশে এসেছে।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ শুল্ক কাস্টমস সুপার এ কে এম মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আনতে শুল্ক বিভাগ ব্যবসায়ীদের বরাবরই উৎসাহ দেয়। যদি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি শান্ত না থাকে তাহলে গবাদিপশুর আমদানি কমে যায়। সেই সাথে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও আমদানি ব্যাহত হয়। তবে এবার সব দিকেই পরিস্থিতি রয়েছে অনুকূলে। ’

শুল্ক কাস্টমস সুপার জানান, এবার গেলবারের চাইতে তিনগুণেরও বেশি গবাদি পশু এসেছে। গেল বছরের কোরবানি ঈদে ২৭ হাজার ৭৭৩টি গবাদি পশু মিয়ানমার থেকে আমদানি করা হয়েছিল। আর এবার ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে গবাদিপশু এসেছে ৮২ হাজার ২৯৯টি। ঈদের আগে আরো কমপক্ষে ১০/১২ হাজার গবাদিপশু আসার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি গরু ও মহিষ আমদানিতে রাজস্ব আদায় করা হয় ৫০০ টাকা। চলতি মাসের প্রথম ১৯ দিনে করিডরে ৭ হাজার ৪৬১টি গরু এবং এক হাজার ১৩১টি মহিষ আমদানিতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪২ লাখ ৯৬ হাজার টাকা।

মিয়ানমার থেকে গবাদিপশুর অন্যতম আমদানিকারক আবদুল্লাহ মনির রবিবার সকালে জানান, মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবচেয়ে বেশি পশু আমদানি করা হয়েছে। টেকনাফের মৌলভী বোরহান, শহিদুল ইসলাম, আবু সৈয়দ, মোহাম্মদ শরিফ, মংমংসেনসহ আরো বেশ কয়েকজন আমদানিকারক রয়েছেন, যাঁরা সবচেয়ে বেশি পশু আমদানি করেন।

আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘আমরা যারা আমদানিকারক তাঁরা কমিশনের ভিত্তিতে এই ব্যবসায় জড়িত। প্রতিটি পশু বিক্রি করে বড়জোর হাজার-বার শ টাকা পাওয়া যায়। কাঠের ট্রলারে করে মিয়ানমার থেকে পশুর চালান আনা হয়। তবে এবার দাম কম হলেও পশু আমদানির সংখ্যা বেশি হওয়ায় তেমন অসুবিধা হয়নি। ’

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিবছর দেশের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের ক্রেতারা বেশি আসেন টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের করিডর বাজারে। এবারো তেমন চাহিদার কথা আগেই জানানো হয়েছিল টেকনাফের ব্যবসায়ীদের। কিন্তু দেশের উত্তরাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার কারণে ক্রেতা কমে গেছে করিডর বাজারে। এ কারণে পশুর দাম কমে গেছে। তাও শেষ মুহূর্তে থেকেই দাম পড়তে শুরু করেছে। শনিবারের বাজারে ২/৩ মণের গরুর দাম ৪৫ থেকে ৫৫ হাজার এবং ৫ থেকে ৬ মণ ওজনের গরুর দাম নেমে এসেছে ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকায়। আগে এসব গরুর দাম ছিল এক লাখের বেশি।

টেকনাফ সীমান্তের গরু ব্যবসায়ী মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন নৌপথে মিয়ানমার থেকে গরু আসছে। শাহপরীর দ্বীপ করিডরে গরুবোঝাই ৮/১০টি বোট আসে। প্রতিটি বোটে ৮০ থেকে ১০০টি গরু থাকে। সেখানে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শুল্কায়ন শেষে হাটে তোলা হয় গরুগুলো। হাট থেকেই বিভিন্ন জেলার বেপারিরা গরুগুলো কিনে নিয়ে যায়। ভারত সীমান্তের তুলনায় মিয়ানমার সীমান্তে গরুর দাম কম। তাই গত কয়েক বছর ধরে এই সীমান্ত করিডর কোরবানি ঈদে জমজমাট হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top