ক্রেল এর উদ্দোগে টেকনাফ বনাঞ্চল ও কৃষিখাতে নিরব বিপ্লব এর সূচনা

20885167_1987443161467100_35672689_n.jpg

হ্নীলা প্রতিনিধি :
টেকনাফে নেকম-ক্রেল প্রকল্পের উদ্যোগে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠানে “উন্নত বীজ ও টেকনোলজি ব্যবহারে সমৃদ্ধ ফসল বয়ে আনা সম্ভব’-স্লোগানে আয়োজিত জলবায়ু সহিষ্ণু টেকনোলজি পদ্ধতির চাষাবাদ দেখে অভিভুত হয়েছেন বনজীবি কৃষকরা। তাদের ধারণা এ ধরণের চাষাবাদ বনাঞ্চল ও কৃষিখাতের উন্নয়নে বিপ্লবের সুচনা করেছে।
ক্রেল প্রকল্পের এনআরএম ফ্যাসিলিটেটর নাজমুল আবেদিন এর সঞ্চালনায় ও টেকনাফ সহ-ব্যবস্থাাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ শফিক মিয়ার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় টেকনাফ সদর ইউনিয়নের কেরুনতলী কোস্টগার্ড অফিস চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম বিশেষ অতিথি ছিলেন ক্রেল মনিটরিং কর্মকর্তা আব্দুর রউফ, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির আব্দুর রহমান, এ,বি,এম, আবুল হোসেন রাজু, সদর ও মোচনী বনবিট কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন ও লুৎফর রহমান, এনআরএম মাঠ সংগঠক সেবী রানী বড়ূয়া, শাহ আলম মিয়া, সিএমসি সদস্য চেমন আরা, নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা ও পিএফ সভাপতি মরজিনা আক্তার সিদ্দিক, সিসি কোষ্ট গাড মসিউর রহমান, এলএসপি আবুল হাসেম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ক্রেল টেকনাফ সাইটের সাইট অফিসার খান মুহাঃ মুজাহীদ ইবনে হাবিব স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্রেল প্রকল্প হচ্ছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্প যাহা ইউএসএই্ড এর অর্থায়নে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল এর কারিগরি সহযোগিতায় পরিচালিত। মাঠ পর্যায়ে সকল কার্যক্রম সম্পাদন করছে ন্যাচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)। বনাঞ্চল ও বন্য প্রাণীসংরক্ষণ, পরিবেশ-প্রতিবেশ উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন ও পরিবেশ বান্ধব টেকসই জীবিকায়ন নিয়ে কাজ করা এবং সংশ্লিষ্ট সহ- ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ষ্টেকহোল্ডারদের সাথে সমন্বয় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই এ প্রকল্পের মূললক্ষ্য। তিনি আরও বলেন নেকম-ক্রেল প্রকল্প ৩০০০ জনকে বিকল্প জীবিকায়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বন নির্ভরশীল মানুষ জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিভাবে বন থেকে ফিরে এসেছে তা দেখব।
অনুষ্ঠানে উপজেলার নীলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যা ও পিএফ সভাপতি মরজিনা আক্তার সিদ্দিক ক্রেল প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেন, বন রক্ষায় ক্রেল পবিবেশ বান্ধব জীবিকায়ন প্রসংসার দাবী রাখে। তিনি সকলকে বলেন, প্রতি বাড়ি এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে সবজি বাগান করা উচিত।
সহ-ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের এ,বি,এম, আবুল হোসেন রাজু, গাছের নিচে ছায়াযুক্ত ও পরিত্যাক্ত জায়গায় হলুদ, আদা, আনারস ইত্যাদি ফসল উৎপাদনের পরামর্শ দেন । তিনি ক্রেলকে এধরনের বন সংরকক্ষণমূলক জীবিকায়নের জন্য ধন্যবাদ দেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সফল কৃষক ইলিয়াস ও আবুল মন্নান তাদের সফলতা কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ক্রেল প্রকল্প থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে এখন চাষ করে দ্বিগুন ফসল পাচ্ছি এবং আমরা বন থেকে ফিরে আসছি।
নেকম-ক্রেল প্রকল্পের সাইট অফিসার জলবায়ু সহিষ্ণু আধুনিক কৃষি, ড্রাগন ফল চাষাবাদের উপর বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি প্রযুক্তিগতভাবে জমি প্রস্তুত, বীজ বপন, পরিমিত সার প্রধান, মালচিং ও সেচ প্রদ্ধতির উপর উপস্থিত কৃষকদের মাঝে সচিত্র বর্ননা দেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.শহিদুল ইসলাম সারা বছর সবজি চাষ, অল্প ও পরিত্যাক্ত জমির সটিক ব্যবহার, বীজ র্সরক্ষণ প্রদ্ধতি, কম্পোস্ট সার তৈরি, জৈব সারের গুনাগুন ও সেক্স ফেরোমন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনকালে ক্রেলের জলবায়ু সহিষ্ণু আধুনিক কৃষি প্রদর্শনীর নেকম-ক্রেল প্রকল্পের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এধরনের উদ্যোগে বনজীবি কৃষক বন সুরক্ষায় যথেষ্ঠ অবদান রাখবে।
পরবর্তীতে অনুষ্ঠান এর পার্শ্বে ক্রেল প্রকল্পের প্রদশিত ফরিদুর রহমানের জলবায়ু সহিষ্ণু আধুনিক ফলের বাগান ও সিপিজি সদস্য জালাল এর ড্রাগন ফল প্রদর্শনী বাগান সকলে পরিদর্শন করেন এবং চাষ প্রদ্ধতিতে লাভবান হওয়ার বিস্তারিত বর্ণনা শোনেন।
টেকনাফ সহ-ব্যবস্থাাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ শফিক মিয়া সকলকে ধন্যবাদ দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top