১১ জন আসামী স্বীকারুক্তি দিলেও ২ মাসে অপহৃত দুই শিশু উদ্ধার হয়নি

20624497_1733654340270787_984246490_n.jpg

খাঁন মাহমুদ আইউব(ব্রাহ্মনবাড়িয়া থেকে ফিরে এসে)
অপহরনের দেড় মাস গত হলেও ৫ম শ্রনীর ছাত্র শিশু সাদেক ও হৃদয় কে উদ্ধার করতে পারেনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সহ গোয়েন্দারা। এই পর্যন্ত মূল অপহরনকারী দুই নারী সহ সিণ্ডিকেট প্রধান রাসেল ও তার পিতা রফিক সহ মোট ১১ জন গ্রেফতার হয়েছে।আসামীরা ১৬৪ ধারা মুলে অপহরনের কথা স্বীকার করলেও অজ্ঞাত কারনে পুলিশের তৎপরতা নিরব।ফলে আপহৃত শিশু উদ্ধার বা বেচেঁ থাকার বিষয় নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, গেলো ২জুন বাক্ষনবাড়িয়া জেলার বাস্থরামপুর এলাকায় এস আর শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে চার তারা বস্ত্র বিতান এন্ড টেইলার্সের মালিক মোহাম্মদ মনির হোসেনের শিশু পুত্র বাস্থরামপুর সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র সাদেক হোসেন (১২) বেলা তিন টা নাগাদ অপহরনের স্বীকার হয়। তার আগে ২০ এপ্রিল পাশের গ্রামের মোহাম্মদ শাহজাহানের শিশু পুত্র আতিক হাসান হৃদয়( ১২) বাড়ির সামনে থেকে রাত ৮ টার সময় অপহরনের স্বীকার হয়।পরের দিন ৩ জুন অপহৃত শিশু সাদেকের পোষাক মলিনা সিটির পাশে বটতলা থেকে উদ্ধারের কথা জানিয়ে অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন আসে।সেই কথা মতো উক্ত জায়গা থেকে পরিধেয় পোষাক উদ্ধার করে।একই দিন আপহৃতের বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে বাস্থরামপুর থানায় সাধারন ডায়েরী করে।যার জিডি নম্বর-(৮৯৭)০৩/০৬/২০০১৭ ইং।পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিলেও কোন অগ্রগতি হয়নি।অপহৃত শিশু সাদেকের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে,আপহরনের পর অগান্তুক ৩ টি নাম্বার থেকে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দাবী করে আসছিলো।তবে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভয়েস কনভার্ট করে কথা বলার দরুন কিছুতেই অপহরনকারীদের কাঊকে পরিচিতদের মাঝে এমন কেঊকিনা সেটা আচঁ করতে পারেনি সাদেক এবং হৃদয়ের পরিবার।সর্ব শেষ একটি রবি নাম্বার ০১৮..৩৩৪৩৮৫ ও দুটি গ্রামীন নাম্বার ০১৭..৭৯১১৫৯ এবং ০১৭..০৩৫৭৯৯ নাম্বারে কথা বলে ছেলের জীবন বাচাঁতে ২ লক্ষ টাকা মুক্তিপন দিতে রাজি হয় সাদেক ও হৃদয়ের পরিবার।যার মধ্যে একটি নাম্নার হৃদয়ের মায়ের যা অপহরন কালীন হৃদয়ের হাতে থাকা ফোন সেটের সাথে ছিলো বলে হৃদয়ের মা জানিয়েছেন।আপহরন কারীদের কথা মতো ব্রাহ্মন বাড়িয়ার মলিনা সিটি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় ব্রীজের পাশে মুক্তিপন রেখে আসে।কিন্তু অপহরনকারীরা মুক্তিপন নেওয়ার পরেও শিশুটি ফেরত দেয়নি।শুরু হয় আবার দেন-দরবার।এদিকে উক্ত ফোন কলের সূত্র ধরে র‍্যব চৌকস সদস্যরা উক্ত নাম্বার গুলো ট্রেকিং করে গেলো ৯ জুন মলিনা সিটি সংলগ্ন একটি মার্কেটে ভেজাল সাবান কারখানার কর্মচারী রফিক ও তার ছেলে রাসেদ কে আটক করে।আটক পরবর্তি উক্ত অপহরনকারী পিতা পুত্র রফিক’র নাম সহ ১১ জনের নাম স্বীকার করে।যার মধ্যে আছিয়া এবং মর্জিনা নামের দুই মহিলা সহ অপর আট ব্যক্তিকে আটক করেছে র‍্যাব।ধারনা করা হচ্ছে রফিকের পুত্র আসাদকে অপহরনের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিলো।পরবর্তি উক্ত আসামীদের নামে আপহৃত সাদেকের বাবা বাদী হয়ে বাস্থরামপুর থানায় মামলা দায়ের করে।যার মামলা নং-(৩)০৯/১১/২০১৭ ইং।মামলার বাদী মনির ও হৃদয়ের মা জানান, আসামী আটক হয়ে ১৬৪ ধারা মূলে প্রশাসন জবান বন্ধি রেকর্ড করার পরেও শিশু সাদেক হোসেন সহ আতিক হাসান হৃদয় উদ্ধার না হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগ জনক।এমন কি তাদের শিশু পুত্র জানে বেচেঁ থাকার বিষয়টি নিয়েও তারা স্বয়ংশয় প্রকাশ করেন।তিনি উলটো আইনের শাসন ও জনগনের জন্য প্রশাসন বিষয় টি নিয়েও ওল্টো প্রশ্ন চূড়েন প্রতিবেদকের কাছে।অপরদিকে সাদেকের মা পুত্র হারানোর শোকে অনেকটা মানুষিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন।একই অবস্থা হৃদয়ের মা’র।কান্না জড়িত কন্ঠে শুধুই তাদের ছেলেকে ফেরত চান।ছেলের কন্ঠ শোনার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েছেন।বিষয়টি নিয়ে বাস্থরামপুর থানার মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মি. সাব্বির হোসেন’র কাছে জানতে চাইলে তিনি ১১ জন আসামী আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,আসামীদের ৩দিন ও ২দিন মোট পাঁচ দিন রিমান্ডে আনা হয়েছিলো।১৬৪ ধারা জবান বন্দিতে যশোর বেনাপোল সীমান্তে বাচ্চা দুটোকে নিয়ে রাখা হয়েছে।যশোর বেনাপোল থানায় বাচ্চা দুটোর ছবি পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।তবে সঠিক কোন স্থানের নাম তৎমূহুর্থে জানাতে পারেন নাই তিনি।মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে, মামলা সিআইডি কে হস্তান্তরের প্রক্রিয়াধীন বলে জানালেও কখন হস্তান্তর করা হবে সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেন নাই।তবে কেন সঠিক ঠিকানা জানাতে পারবেনা জানতে চাইলে,তিনি যথাযত উত্তর দিতে পারেন নাই।স্থানীয়দের অনেকে ক্রিমিনালদের সাথে পুলিশের যোগসাজস থাকতে পারে বলে দাবী তুলেন।না হয় দুই মাস গত হলেও পুলিশ সম্ভাব্য কোন ঠিকানার কিংবা তথ্য বের করতে পারেনি আসামিদের কাছ থেকে।সেটাকেই অনেকটা যুক্তি দাড় করাচ্ছেন স্থানীয় অভিবাবকরা।অপরদিকে একই এলাকার আরো তিন জন শিশু অপহরন পরবর্তি ফিরে আসে।এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই শিশু।এই ঘটনায় প্রশাসনের ব্যার্থতাকে এড়িয়ে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই।অনেকের মতে যদি শিশু সাদেক ও হৃদয়ক জীবিত উদ্ধার না হলে দ্ধায়ভার বাস্থরামপুর থানা প্রশাসন কে নিতে হবে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে এই ঘটনার পর থেকে এলাকার প্রতিটি মানুষ নিজেদের সন্তানদের নিয়ে উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। অনেকে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। এই ভাবে এই সব ঘটনা গুলো অমিমাংসীত থাকলে মানুষ আইনের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলবে। যার ফলে অপরাধীরা আরো বেপরোয়া হয়ে পড়বে। তাই শিশু সাদেক ও আতিকের পরিবার এলাকার স্থানীয় সাংসদ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।তাই প্রশাসনের জন্য বিষয়টি অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top