অভিযুক্তদের গণপিটুনি : যৌন নিপীড়নের শিকার শিশু পল্লীর শিক্ষার্থীরা

satkhira_53775_1501492223.jpg

: যৌন নিপীড়নের শিকার শিশু পল্লীর শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে গণপিটুনি দেয় শিক্ষার্থীরা
সাতক্ষীরা সরকারি শিশু পরিবারে শিশু শিক্ষার্থীরা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রোববার রাতে শিশু পরিবারের চার কর্মচারীকে এ ঘটনায় গণপিটুনি দিয়েছে। তাদের একজনকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বদলির আদেশ দিয়েছেন। ঘটনা তদন্তে জেলা প্রশাসক তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছেন।
সাতক্ষীরার পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত সরকারি শিশু পরিবারে (বালক) এখন বাস করে ৬৮ জন এতিম শিশু। তাদের দেখভাল করার জন্য শিক্ষক কর্মচারীসহ ১৭টি পদের মধ্যে রয়েছে ৯ জন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাওয়া-দাওয়া পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসা কোনো বিষয়ে সুবিধা নেই তাদের। এ সব বিষয় নিয়ে অভিযোগ করলেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। শিশু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চারজন কর্মচারী তাদের ওপর সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সময়ে যৌন নির্যাতন চালায়। এর প্রতিবাদ জানিয়েও কোনো লাভ হয় না বলে জানায় তারা। রোববার বলাৎকার করার সময় শিক্ষার্থীরা চার অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়েছে।

শিক্ষার্থী আবদুর রহিম, মো. ইব্রাহীম হোসেন, সাকিব, আহসান হাবিব, আজমল হোসেন জানায় ‘আমরা তাদের বলাৎকারের শিকার। আমরা সব শিক্ষকদের অপসারণ চাই’। তারা বলাৎকারের অভিযোগ আনে শিশু পরিবারের কর্মচারি বিমান বৈরাগী, তানভির হোসেন, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, কৌশিক ফরহানের বিরুদ্ধে। রোববার রাতে তাদেরকে গণপিটুনি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জানায়, অভিযোগ করলেই উল্টো মার দেয় আমাদের। রোববার রাতে আমরা তাদের পিটিয়েছি।

তবে অভিযুক্ত চার কর্মচারী জানান, আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সত্য নয়। শিশুরা শৃংখলা ভঙ্গ করলে আমরা কঠোর হতেই তারা এসব অভিযোগ দেয়।

শিশু পরিবারের উপ তত্ত্বাবধায়ক মো. মিজানুর রহমান জানান, ‘আমি এখানে মাত্র তিনদিন যোগদান করেছি। শিশুদের অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন’।

জেলা সমাজ সেবা উপপরিচালক দেবাশীষ সরদার বলেন, অভিযোগ পাবার পরপরই কর্মচারী বিমান বৈরাগীকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন...

Top